📘 গুরাবা > 📄 যেমন মানুষ আল্লাহ তাআলার প্রিয়

📄 যেমন মানুষ আল্লাহ তাআলার প্রিয়


[৩১] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমাতা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
إِنْ أَغْبَطَ النَّاسِ عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفٌ الْحَاذِ ذُو حَظِّ مِنْ صَلَاةٍ، أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ, وَكَانَ رُزْقُهُ كَفَافًا, لَا يَشَارُ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ وَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ حَلَّتْ مَنِيَّتُهُ وَقَلَّ تُرَاثُهُ وَقَلَّتْ بَوَاكِيهِ
“আমার কাছে সবচেয়ে ঈর্ষান্বিত হলো সেই মু'মিন, যার অবস্থা তুচ্ছ (অর্থাৎ সে কম সম্পদের অধিকারী)। এবং সালাতে মনোযোগি ও উত্তমভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদাত সম্পাদনকারী। তার রিযিক্বপ্রাপ্তি ন্যূনতম প্রয়োজন অনুসারে হয়ে থাকে। তার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় না। এই অবস্থার ওপর সে ধৈর্যধারণ করে। অবশেষে (একসময় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে) আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করে এবং তার প্রত্যাশার প্রাপ্তি ঘটে। তার রেখে-যাওয়া সম্পত্তি খুব কম হয়। তার জন্য রোদন করার লোকও তেমন থাকে না।”

📘 গুরাবা > 📄 যেমন হবে একজন মুমিন

📄 যেমন হবে একজন মুমিন


[৩২] আবদুল্লাহ ইবনু হুয়াহিদ রাহিমাহুল্লাহু দুনিয়াতে একজন মু'মিনের কেমন হওয়া উচিত, সে-সম্পর্কে মনের মাধুরী মিশিয়ে আবৃত্তি করেন—
أَخْصَ الْنَّاسِ بِالْإِيْمَانِ عَبْدٌ ... خَفِيفُ الْحَاذِ مَسْكَنُهُ الْقِفَارُ
لَهُ فِي اللَّيْلِ حَظُّ مِن صَلَاةٍ ... زَمَنَ صَوْمٍ إِذَا جَاءَ الْقِفَارُ
وَقُوْتُ النَّفْسِ يَأْتِي فِي كَفَافِ ... وَكَانَ لَهُ عَلَى ذَاكَ اضْطِرَابُ
وَفِيْهِ عِفَّةٌ وَبِهِ خُمُوْلٌ ... إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ لَا يُشَارُ
وَلَمَّا الْبَاكَياتِ عَلَيْهِ لَمَّا ... قَضَى نَحْبًا وَلَيْسَ لَهُ يُسَارٌ
فَذَلِكَ قَدْ نَجَا مِن كُلِّ شَرٍّ ... وَلَمْ تَمْسَسْهُ يَوْمَ الْبَعْثِ نَارُ
শ্যালক্যুনতিদের মালিক যিনি, জগত মু'মিনের মধ্যে থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মু'মিন তিনি।

রাতের আঁধারে প্রচুর কদমে সিজদায় পড়ে কাদন,
দিনের বেলায় রোযা রাখেন, প্রচুর প্রেমে হাসেন।

নশ্বর এই ধরবার বুকে বেশি কিছু নাহি চায়,
খুব অল্প রিযিক্ব পেলে অনেক খুশি হয়ে যায়।

এই জীবনে লুকিয়ে আছে সততার দামী আলো,
হোক না তার দুনিয়ার লোকে বলে না তেমন ভালো।

এমন লোকের মৃত্যু হলে কম মানুষই কাঁদে,
এমন মানুষ প্রচুর প্রিয় হয়েছে কী আর সাবে!

দুনিয়ার এই শুরাবা শ্রেণী মন্দ থেকে মুক্ত রবে,
কাল হাসরে যখন কি না নিজেকে নিয়ে ভাববে সবে।

টিকাঃ
[৩৩] আল-মুসনাদ, আবু দাউদ তায়ালিসি: ২০৮২। সনদ সহিহ।

📘 গুরাবা > 📄 গুরাবারা আল্লাহ তাআলার প্রিয়জন

📄 গুরাবারা আল্লাহ তাআলার প্রিয়জন


[৩৪] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ‘আল্লাহ তা'আলার কাছে শুরাবা-শ্রেণির লোকেরা সবচেয়ে বেশি প্রিয়।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘শুরাবারা পরিচয় কী?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘শুরাবারা হলো সে-সকল লোক, যারা (দ্বীনদারিতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়) আপন দ্বীন সাথে করে পালিয়ে বেড়ায়। কিয়ামতের দিন তারা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে গিয়ে একত্রিত হবে।’

টিকাঃ
[৩৬] কিফায়াতু মুহাব, আহামদ : ৭৭

📘 গুরাবা > 📄 সাহাবীর চোখে দুনিয়া

📄 সাহাবীর চোখে দুনিয়া


[৩৫] নাফি ইবনু রালিফ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন, সাহাবী মু'আজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বসে কাঁদছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, ‘আবু আবদুর রহমান, তুমি কাঁদছ কেন? তোমার কোনো সাথি-ভাইকে কি হারিয়ে ফেলেছ? তাই এভাবে বসে নীরবে চোখের জল ফেলছ?’

তখন সাহাবী মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘না, আমার কোনো ভাইকে হারিয়ে আমি কাঁদছি না। আমি বরং একটি হাদিসের জন্য কাঁদছি, যে-হাদিসটি এ প্রসিদ্ধিকেই আমার প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছিলেন। আমি সেই হাদিসটিকে স্মরণ করে আজ এভাবে কাঁদছি।’

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আবু আবদুর রহমান, সে-হাদিস কোনটি—আমাকে বলে দাও না!’

তখন সাহাবী মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতে লাগলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
وَ أَتْقِيَائِهِمْ الْأَخْفِيَاءِ الْأَبْرِيَاءِ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يُفْتَقَدُوا، وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُعْرَفُوا ، قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءِ مُظْلِمَةٍ
‘আমাকে সরদার দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা দায়মুক্ত, মুত্তাকী ও (লোকদের মাঝে) অপরিচিত মুমিনকে ভালোবাসেন। যদি তারা দৃষ্টির অন্তরাল হয়, তখন আর তাদের তালাশ করা হয় না। আর যদি তারা কোনো মজলিসে উপস্থিত হয়, লোকেরা তাদের চেনে না। তাদের হৃদয়গুলো হিদায়াতের আলোকবর্তিকা। তারা সব ধরনের অন্ধকারাচ্ছন্ন কর্দম কোণা থেকে মুক্তি পাবে।’

টিকাঃ
[১৯] উমর ইবনু মুহাম্মাদ মনে করেন এই হাদিসটি এসেছে তাঁকে ইসনাদ বিন আবদুর রহমান নামক একজন রাবীর কারণে, যে মাকবুল মুমিনগণ গরীব বলেছেন। তবে মুজাদদাহ ফিকহসহ আরও কয়েকটি গ্রন্থে এটি নেই মনে হয়েছে। কারণ যে উক্ত রাবী নেই। ফাকিহ হিকম একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন। আল্লামা যাহাবীও তাঁর সাথে সম্ভবত সেলাব করেছেন। এছাড়া ওয়াহাব আল-আরনাউতও তা সহিহ হওয়ার সম্ভাবনা কথা উল্লেখ করেছেন। (বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-মুকাদ্দমা, হাকিম : ০৪; সুনান ইবনু মা’জা, জাওয়াব আল-আরনাউতের তাহকীক, সুনান নং: ৩৮৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00