📄 আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদের কবিতা
[২৮] আবদুল্লাহ বিন হুআহিদ আল মুআদ্দাব রাহিমাহুল্লাহু কবিতা আবৃত্তি করেন—
رُبَّ ذِي طِمْرَيْنِ يَضْحُو ... يَأْمُرُ الْعَالَمَ عِزَّةَ
لَا يُرَى إِلَّا غَنِيًّا ... وَهُوَ لَا يَمْلِكُ ذَرَّةً
ثُمَّ لَوْ أَقْسَمَ فِي شَيْءٍ ... عَلَى اللَّهِ أَبَرَّ
এমন অনেক ব্যক্তি আছে মলিন কাপড় গায়ে,
তার কষ্ট পায় না কেউহ— ভাসে কিংবা ভাসে।
সুরাবাতা দেখলে তাকে হবে মনে আছে অনেক টাকা,
আসলে সে মস্ত ফকির পকেটে তার ফাঁকা।
এমন লোকে কসম করে যদি বলে কিছু,
আল্লাহ সেটা পূরণ করেন হয় না সে নিচু।
📄 সাধাসিধে চলা ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
[২৯] মু'আবিয়া ইবনু কুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন, প্রিয় সাহাবী কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তাদের জন্য সুসংবাদ! তাদের জন্য সুসংবাদ!’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আবু ইসহাক, কাদের জন্য সুসংবাদ?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য সুসংবাদ, যারা স্বাভাবিক চলাফেরা করে। যখন তাদেরকে কোনো মজলিসে আহ্বান করা হয়, তারা সেখানে উপস্থিত হয় না। যখন তাদেরকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। আবার যখন তারা দুনিয়া ছেড়ে পরস্পরে পাড়ি জমান, তখন তাদের অনুপস্থিতি কেউ অনুভব করে না!’
📄 ছেঁড়া বস্ত্রপরিহিত যুবক
[৩০] আবুল ফাজল আস সিক্বলী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন আমি মলিন বস্ত্রপরিহিত একজন যুবককে রাস্তায় দেখতে পেলাম। আমি সে-যুবকের দিকে অতটা ভালো চোখে তাকাচ্ছিলাম না। তাকে আমার কিছুই মনে হয়নি। তখন ঐ যুবক ছেলেটি আমার দিকে তাকালো। আনাত নয়নে, বিনীতসূরে সে আবৃত্তি করতে লাগল—
لَا تَرَى عَيْنِيَ بِأَنْ تَرَى خَلْقِي ... فَإِنَّ الدَّرَّ دَاخِلَ الصَّدَفِ
عَلِمِي جَدِيدٌ وَمَلْبَسِي خَلَقٌ ... وَمُنْتَهَى اللَّيْسِ مُنْتَهَى الصَّلَفِ
আমার মলিন পোশাক দেখে বাঁকা চোখেও তাকিও না,
এ-দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী সে-কথাটা ভুলিও না।
মানুষ আমি ঠিকই আছি হোক না পোশাক মন্দ,
দামি পোশাকে থেকে আসে অহংকারের গন্ধ।
আবুল ফাজল আস সিক্বলী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'আমি এটা শুনে তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম। ভাবনার সাগরে কিছুক্ষণ হাবুডুবু খেলাম। সত্যিহ মানুষ তাকে তার ওপর অংশ দেখে চেনা যায় না। অনুমানও করা যায় না, তার ভেতরে কী লুকিয়ে আছে।
📄 যেমন মানুষ আল্লাহ তাআলার প্রিয়
[৩১] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমাতা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
إِنْ أَغْبَطَ النَّاسِ عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفٌ الْحَاذِ ذُو حَظِّ مِنْ صَلَاةٍ، أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ, وَكَانَ رُزْقُهُ كَفَافًا, لَا يَشَارُ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ وَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ حَلَّتْ مَنِيَّتُهُ وَقَلَّ تُرَاثُهُ وَقَلَّتْ بَوَاكِيهِ
“আমার কাছে সবচেয়ে ঈর্ষান্বিত হলো সেই মু'মিন, যার অবস্থা তুচ্ছ (অর্থাৎ সে কম সম্পদের অধিকারী)। এবং সালাতে মনোযোগি ও উত্তমভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদাত সম্পাদনকারী। তার রিযিক্বপ্রাপ্তি ন্যূনতম প্রয়োজন অনুসারে হয়ে থাকে। তার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় না। এই অবস্থার ওপর সে ধৈর্যধারণ করে। অবশেষে (একসময় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে) আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করে এবং তার প্রত্যাশার প্রাপ্তি ঘটে। তার রেখে-যাওয়া সম্পত্তি খুব কম হয়। তার জন্য রোদন করার লোকও তেমন থাকে না।”