📄 কসম পূরণের একটি ঘটনা
[২৭] যুননুন মিসরী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আমরা একবার মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে রওনা করলাম। আমাদের জাহাজে ছেঁড়া বস্ত্রপরিহিত এক আল্লাহর বান্দাও রওনা করলেন। জাহাজের টরির ঘটনায় ঘটায় দস্যু ব্যক্তিকে পাকড়াও ও লুণ্ঠন করে নিল। এতে সেই ব্যক্তি দস্যি বলে সাব্যস্ত হলো। আমি তাকে জানালাম, ‘লোকজন তো আপনাকে সন্দেহ করছে!’ তিনি বললেন, ‘তারা আমাকে দোষারোপ করছে?’ আমি বললাম, ‘জি। আপনাকেই দোষারোপ করছে!’ তখন তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। আল্লাহর আরশের দিকে চোখ-দুটোকে তাক করে বলতে লাগলেন, ‘আমি তোমার উপর কসম করলাম হে প্রভু, আমি তোমার নিকট কসম করলাম। সমুদ্রে যে-সব মনিমুক্তা আছে, মাছের মাধ্যমে বের করে দেখিয়ে দাও!’
তাঁর কথা শেষ হতেই দেখা গেল, সমুদ্রের পেট চিরে মুখের ভেতর মনিমুক্তা নিয়ে কিছু মাছ উঠে এলো। তারপর সে ওদিকে কিছু একটা নিক্ষেপ করতেই সেগুলো আবার প্রস্থান করল।
📄 আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদের কবিতা
[২৮] আবদুল্লাহ বিন হুআহিদ আল মুআদ্দাব রাহিমাহুল্লাহু কবিতা আবৃত্তি করেন—
رُبَّ ذِي طِمْرَيْنِ يَضْحُو ... يَأْمُرُ الْعَالَمَ عِزَّةَ
لَا يُرَى إِلَّا غَنِيًّا ... وَهُوَ لَا يَمْلِكُ ذَرَّةً
ثُمَّ لَوْ أَقْسَمَ فِي شَيْءٍ ... عَلَى اللَّهِ أَبَرَّ
এমন অনেক ব্যক্তি আছে মলিন কাপড় গায়ে,
তার কষ্ট পায় না কেউহ— ভাসে কিংবা ভাসে।
সুরাবাতা দেখলে তাকে হবে মনে আছে অনেক টাকা,
আসলে সে মস্ত ফকির পকেটে তার ফাঁকা।
এমন লোকে কসম করে যদি বলে কিছু,
আল্লাহ সেটা পূরণ করেন হয় না সে নিচু।
📄 সাধাসিধে চলা ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
[২৯] মু'আবিয়া ইবনু কুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন, প্রিয় সাহাবী কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তাদের জন্য সুসংবাদ! তাদের জন্য সুসংবাদ!’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আবু ইসহাক, কাদের জন্য সুসংবাদ?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য সুসংবাদ, যারা স্বাভাবিক চলাফেরা করে। যখন তাদেরকে কোনো মজলিসে আহ্বান করা হয়, তারা সেখানে উপস্থিত হয় না। যখন তাদেরকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। আবার যখন তারা দুনিয়া ছেড়ে পরস্পরে পাড়ি জমান, তখন তাদের অনুপস্থিতি কেউ অনুভব করে না!’
📄 ছেঁড়া বস্ত্রপরিহিত যুবক
[৩০] আবুল ফাজল আস সিক্বলী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন আমি মলিন বস্ত্রপরিহিত একজন যুবককে রাস্তায় দেখতে পেলাম। আমি সে-যুবকের দিকে অতটা ভালো চোখে তাকাচ্ছিলাম না। তাকে আমার কিছুই মনে হয়নি। তখন ঐ যুবক ছেলেটি আমার দিকে তাকালো। আনাত নয়নে, বিনীতসূরে সে আবৃত্তি করতে লাগল—
لَا تَرَى عَيْنِيَ بِأَنْ تَرَى خَلْقِي ... فَإِنَّ الدَّرَّ دَاخِلَ الصَّدَفِ
عَلِمِي جَدِيدٌ وَمَلْبَسِي خَلَقٌ ... وَمُنْتَهَى اللَّيْسِ مُنْتَهَى الصَّلَفِ
আমার মলিন পোশাক দেখে বাঁকা চোখেও তাকিও না,
এ-দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী সে-কথাটা ভুলিও না।
মানুষ আমি ঠিকই আছি হোক না পোশাক মন্দ,
দামি পোশাকে থেকে আসে অহংকারের গন্ধ।
আবুল ফাজল আস সিক্বলী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'আমি এটা শুনে তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম। ভাবনার সাগরে কিছুক্ষণ হাবুডুবু খেলাম। সত্যিহ মানুষ তাকে তার ওপর অংশ দেখে চেনা যায় না। অনুমানও করা যায় না, তার ভেতরে কী লুকিয়ে আছে।