📄 নিজেকে কবরবাসীদের কাতারে গণ্য করবে
[১৭] মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার শরীরের এক অংশে স্পর্শ করে ইরশাদ করেছেন—
كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ , وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ
“হে ইবনু উমর, তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করবে, যেন তুমি 'গরিব' বা মুসাফির। আর তুমি নিজেকে কবরবাসীদের কাতারে গণ্য করবে।”২
মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, অতপর ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন, 'যখন তুমি সকালে উপনীত হবে, তখন বিকেলে উপনীত হতে পারবে, এমনটা ভেবো না। আর যখন বিকেলে উপনীত হও, তখন সকালে উপনীত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে ভেবো না। মৃত্যুর পূর্বে জীবিত থাকাকে নিয়ামত মনে করবে। অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে নিয়ামত মনে করবে। হে আবদুল্লাহ, আগামীকাল তোমার নাম কী হবে, তা তো তোমার জানা নেই।'৩
টিকাঃ
২. আন-সুন্নাহ, তিরমিযী: ২৩০৬; শারহুস সুন্নাহ, বাগাবী: ১৪/২০১। উক্ত হাদীসে “আর তুমি নিজেকে কবরবাসীদের কাতারে গণ্য করবে!” এই অংশটুকু ছাড়া বাকিটুকু সহীহ। কারণ অন্যান্য যেসব সনদের উপরিভাগে এই হাদীসের শক্তি অধিক হচ্ছে তাতে এই অংশটুকু নেই। —সম্পাদক
৩. অর্থাৎ, তুমি কি সৌভাগ্যবান হবে, নাকি দুর্ভাগ্যবান, তোমার অবস্থা জীবিত হবে নাকি লাশ, তা তোমার অজানা।
📄 দুনিয়া থেকে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করবে
[১৮] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার শরীরের এক অংশে স্পর্শ করে ইরশাদ করেছেন—
كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ , وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ
“হে ইবনু উমর, তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করবে, যেন তুমি 'গরিব' বা মুসাফির। আর তুমি নিজেকে কবরবাসীদের কাতারে গণ্য করবে!”
মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন, 'হে মুজাহিদ, যখন বিকেলে উপনীত হবে, তখন সকালে উপনীত হতে পারবে, তা ভেবো না। যখন তুমি সকালে উপনীত হও, তখন বিকেলে উপনীত হতে পারবে, এমনটা মনে কোরো না। তুমি তোমার দুনিয়া থেকে আখেরাতের (পাথেয়) সংগ্রহ করবে।'২
টিকাঃ
১. রিয়াদুস স্বালেহীন, আবু নুয়াইম: ৩/৩৩৫ ইবনু রজব হান্বালী রাহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, 'দুনিয়ায় বেশি আশা পোষণ বা কসর বিষয়ে এটি মূল হাদীস। একজন মুমিনের জন্যে এটা শোভা পায় না যে, সে দুনিয়াতে তার আকাঙ্ক্ষাপূর্ণ ও বিলাসের ফুল হিসেবে গ্রহণ করে। অতএব প্রাণান্ত লাভ করো। বরং দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করা উচিত, যেন সে সফর অবস্থায় আছে। নবীগণ ও তাদের অনুসারীগণও এমন প্রতিপাদই করে গিয়েছেন। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ইবনু রজব হান্বালী: ৫০৭)—সম্পাদক
২. আন-সুন্নাহ, আহমাদ: ২/১৩২ (হাদীস নং: ৪৩৮৬); রিয়াদুস স্বালেহীন, আবু নুয়াইম: ৪/১১২। সনদ সহীহ।
📄 আল্লাহর ইবাদাত যেভাবে করতে হবে
[১৯] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার শরীরের একটি অংশে স্পর্শ করে বলেছেন—
اَعْبُدُ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ , وَكُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ عَابِرُ سَبِيلٍ
“তুমি আল্লাহর ইবাদাত এমনভাবে করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখে-দেখেই ইবাদাত করছ। আর দুনিয়াতে একজন মুসাফিরের মতো বসবাস করবে।”
📄 কবির আকুতি
[২০] আবদুল্লাহ ইবনু হুমাঈদ আল মুআদিদু রাহিমাহুল্লাহ আকুতি করেন—
أَيُّهَا الْغَافِلُ فِي ... دُلٍّ نَعِيمٍ وَسُرُورٍ
كُنْ غَرِيبًا وَاجْعَلْ اللَّهَ ... نَيَّا سَبِيلًا لِلْقُبُورِ
وَاعْدُدْ النَّفْسَ طَوَالَ ... الدَّهْرِ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ
وَارْفُضْ الدُّنْيَا وَلَا ... تَرْكُنْ إِلَى دَارِ الْغُرُورِ
আয়েশমও ওহে গাফেল, গরীব হয়ে যাও,
দুনিয়াকে আখিরাতের পথ বানিয়ে নাও।
কবরবাসী ভাবো তোমায় বেঁচে যত দিন,
দুনিয়াকে ত্যাজ্য করো— দুনিয়া থাকুক লীন।