📄 গরিবরা নীরবে অশ্রু প্লাবিত করে
[১১] মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, তুমি যদি নির্জন স্থানে গুরবার প্রকৃতি লাভ কর, তা হলে দেখবে, সে বসে চোখের জল ফেলছে, সাথে শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাসও ছাড়ছে—তার চেহারায বিষণ্নতার ছাপ ফুটে উঠছে। যদি তুমি তাকে দেখে চিনতে না পার, তা হলে মনে করবে হয়তো, লোকটি শোকে হয় তার কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে এভাবে কাঁদছে। কিছু তুমি যা তাভাবে বিষয়টা এর পুরোটাই ভুল। এই লোকটি তার কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে এভাবে কাঁদছে না, সে তার দ্বীনের ব্যাপারে ভয় করে এভাবে চোখের জল ফেলছে। যদি তার দ্বীন ঠিক থাকে, তা হলে দুনিয়ার সব সম্পদ চলে গেলেও সে কোনো আক্ষেপ করবে না। কারণ, সে তার দ্বীনকেই মূল পুঁজি বানিয়েছে, যার ব্যাপারে সে শক্তি রাখে।
হাসান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘একজন মুমিনের মূল পুঁজিই হলো তার দ্বীন। সে যেখানেই যায়, এই মূল পুঁজিকে সাথে করে নিয়ে যায়। সে একে কারও কাছে গচ্ছিত রাখে না, আবার বাড়িতেও রেখে আসে না।’ 8
টিকাঃ
৪. অর্থাৎ একজন মুমিনের দ্বীন তার সাথে সব সময় থাকবে। সে অল্প সময়ের জন্য দ্বীনশূন্য হবে না।—সম্পাদক
📄 গরিবদের উদ্দেশ্য কেবল প্রভুর ভালোবাসা
[১২] ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ প্রভুর দিকে গরিবদের চলার ধরনকে কবিতায় বলেছেন—
لِطُرُقٍ شَتَّى وَطَرِيقِ الْحَقِّ مُنْفَرِدٌ ... وَالسَّالِكُونَ طَرِيقِ الْحَقِّ أَفْرَادُ
لَا يُطْلَبُونَ وَلَا تُطْلَبُ مَسَاعِيهِمْ ... فَهُمْ عَمَنٍ مَيْلٍ يَمْشُونَ فُقَّادُ
وَالنَّاسُ فِي عَمَلِهِ عَمَّا لَهُ قَصَدُوا ... فَعَجِّلْهُمْ عَنْ طَرِيقِ الْحَقِّ رُقَّادُ
এই দুনিয়ায় পাবে তুমি অনেক পথের দেখা,
এদিক ওদিক ছড়িয়ে আছে কত রকম রেখা।
সঠিক পথের দেখা তবে একটা হাতে থাকে,
সেই পথেই হাঁটে গরিব নিঃস্ব বলে যাকে।
কারও কাছে চায় না কিছু চলে চুপে চুপে,
নিজের মতোই কাটায় জীবন নিঃস্বতাকে লুফে।
লোক সকলে গাফেল হয়ে রয়েছে পড়ে দূরে,
হাঁটছে তারা ভিন্ন পথে গাইছে ভিন্ন সুরে।
📄 গুরাবারা অন্ধকারে কান্না করে
[১৩] আবু আলী রহিমাহুল্লাহ গুরবাদের নিজের জন্য ক্রন্দন করা বিষয়ে আবৃত্তি করেন—
نَسَجْتُ مِنَ الْأَحْزَانِ شِعْرًا فَقُلْتُهُ ... لِأَنِّي غَرِيبٌ وَالْغَرِيبُ حَزِينُ
وَلَيَنْتَنِي دَهْرِي فَلَوْ كُنْتُ جَلْداً ... وَكُلُّ الْبَلَاءِ فِي الْكَلَامِ أَهِينُ
فَلَا تَعْجَبُوا مِنْ أَنَّهُ بَعْدَ زَفْرَةٍ ... يَذِلُّ غَرِيبٌ فِي الْكَلَامِ أَهِينُ
দুঃখ ভরে ক্লান্ত হয়ে বলি কাব্যাকারে,
গরিব আমি দুঃখী আজি জগত সংসারে।
যুগের ঝড়ে হলাম আমি যেন ভাঙা গাছ,
হৃদয় গলে যখন সেথায় লাগে দুঃখের আঁচ।
আমার হবার কিছু নেই আমার কান্না দেখে,
সব গরিবই কাঁদা করে কালো আঁধার থেকে।
📄 কান্না গুরাবাদের সৌন্দর্য
[১৪] মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি অনেক বছর যাবৎ সাদা মোজা পরিহিত একজন বৃদ্ধ লোককে দেখেছি। সেই বৃদ্ধ সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দেওয়া হলো, তিনি দামেশকের একজন যুবক ছিলেন। অনেক বছর যাবৎ তেলখানায় জুলুম- নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি অসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় দুটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন। সেই কবিতা-দুটি চক্ষু শীতল করে দেয়, হৃদয়কে ঠান্ডা করে দেয়—
غَرِيبٌ يُقَاسِي اَلْهَمُّ فِي أَرْضِ غُرْبَةٍ ... فَيَا رَبُّ قَرْبِ دَارِ كُلِّ غَرِيبٍ
وَأَنَا اَلْغَرِيبُ فَلَا أُمٌّ عَلَى الْبُكَا ... إِنْ أَلْقَا حُسْنُ بَصْلِ غَرِيبٍ
নিঃস্ব আমি অসহায়-ভূমে কষ্ট বহন করি,
ওহে রব তুমি ভাসা ও আমার ছোট্ট সুখের তরী।
গরীব আমি সদাই কাঁদি কষ্টে নাই লাজ,
গরীবের লাগি ক্রন্দনরাজি দেহরসের সাজ।