📘 গুরাবা > 📄 গুরাবাদের সংখ্যা খুবই অল্প হবে

📄 গুরাবাদের সংখ্যা খুবই অল্প হবে


[৬] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমরা একদিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—

طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ
“গুরবাদের জন্য সু-সংবাদ।”

তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, গুরবা কারা?' তখন তিনি বললেন—

أُنَاسٌ صَالِحُونَ قَلِيلٌ فِي نَاسِ سُوْءٍ كَثِيرٍ، مَنْ يَعْصِيْهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيعُهُمْ
“তারা এমন কিছু ভালো মানুষ, খারাপ মানুষের বৃহৎ সংখ্যাপেক্ষে যারা খুব অল্প সংখ্যকই হবে। তাদের অনুসারীদের তুলনায় বিরোধিতাকারীর সংখ্যাই বেশি হবে।”

📘 গুরাবা > 📄 প্রকৃত মুমিনের অবস্থা

📄 প্রকৃত মুমিনের অবস্থা


[৭] আবু বাকর আল-আইয়াদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি হাসান রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, 'প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি দুনিয়াতে একজন নিঃস্ব ব্যক্তির মতোই বসবাস করবে। সে লোকজনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও বিপদের কারণে দুঃখিত হবে না। আবার সম্মান পেতেও প্রতিযোগিতা করবে না। সকল মানুষের এক অবস্থা থাকবে, আর তার থাকবে আরেক অবস্থা।'

📘 গুরাবা > 📄 গরিবকে চিনতে হলে

📄 গরিবকে চিনতে হলে


[৮] আবু হামিদ রাহিমাহুল্লাহ কবিতা আবৃত্তি করেন—

وَتَرَى الْمُؤْمِنَ فِي الدُّنْيَا ... غَرِيبًا مُسْتَقَرًّا
فَهُوَ لَا يَجْزَعُ مِنْ ذُلِّ ... وَلَا يَطْلُبُ عِزًّا
وَتَرَاهُ مِنْ جَمِيعِ الْخَلْقِ ... خُلُوًّا مُشْمِزًّا
ثُمَّ بِالطَّاعَةِ مَا عَاشَ ... وَيَا خَيْرَ مُلِزًّا

দেখবে তুমি জগত জুড়ে এমন অনেক গরিব আছে
অপমানে হৃদয়ে তার জমে না তো ব্যাথা,
চায় না কভু সে হয়ে যাক বড় কোন নেতা।

দেখবে তাকে জগত ছেড়ে রয়েছে পড়ে অনেক দূরে,
করছে সেথায় অবস্থান ইবাদাতের যাত্দর নূরে।

📘 গুরাবা > 📄 ইসলাম নিঃসঙ্গ ও অপরিচিত হওয়ার ব্যাখ্যা

📄 ইসলাম নিঃসঙ্গ ও অপরিচিত হওয়ার ব্যাখ্যা


[৯] মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস— "নিশ্চয় ইসলাম নিংসঙ্গ ও অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল, আবার অচিরেই তা নিংসঙ্গ ও অপরিচিত হয়ে যাবে।"—এর ব্যাখ্যা কী?

তখন তাকে বলা হবে, 'মক্কার মানুষগুলো ছিল অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। তারা আল্লাহর ঘর কাবার মতো পবিত্র স্থানে মূর্তি স্থাপন করে সেগুলোর পূজা করত। তারা পাথর পূজা করত। মক্কার মানুষগুলো কুফর-শিরক ও অন্যান্য পাপেতে লিপ্ত হয়ে আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। তাওহীদের আলোকময় পথ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে অন্ধকাময় পথে চলছিল আর যাবতীয় জীবনপ্রণালী। অবশেষে আল্লাহ তাআলা এই কুফরির অন্ধকারময় জগতে প্রেরণ করলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। তিনি এলেন দাউদ হয়ে। তিনি কুফুরিতে মৃত পৃথিবীকে তাওহীদের আলো দ্বারা আলোকিত করলেন। প্রিয়নবী এ-দাওয়াহে ইসলাম গ্রহণ করলেন নারী-পুরুষ, আজাদ-গোলামসহ অনেকেই—যারা সবাই ছিল একেবারে সংজ্ঞাহীন ও নিঃস্ব, যারা পারিবারিকভাবে বা অর্থ-সম্পদগত দিক ও গোত্রীয়ভাবে ছিল একেবারে দুর্বল। এ-জীবনের চর্চা কিছু দিন গোপনেও হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের কারণে নিঃস্ব-দুর্বল সাহাবায়ে কেরামকে তার পরিবার বা গোত্রীয় লোকেরা অনেক কষ্ট দিত। মক্কার উত্তপ্ত বালিতে তার পাথরের চাপ সহ্য করে নবুয়ত মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন কতক সাহাবায়ে কেরام রাদিয়াল্লাহু আনহুম। জুমুআ-নিম্নভাগের অপসহনীয় অবস্থার সাথে জীবন-যাপন করতে হয়েছে তাদের। অবশেষে আল্লাহ তাআলা ইসলামকে সুমুক্ত করলেন। কাফিরদের জুলুমের হাতকে ভেঙে দিলেন। মুসলমানদেরকে বিজয় দান করলেন। সোনালি দিনের সোনালি মানুষগুলোর নিংসঙ্গ ও অপরিচিতি অবস্থাতেই ইসলামের দাওয়াতও শুরু হয়েছিল, হাদীসের প্রথম অংশে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। "অচিরেই ইসলাম আবার নিংসঙ্গ ও অপরিচিত হয়ে যাবে।"—হাদীসের এই অংশটুকুর অর্থ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তিনি সর্বজ্ঞাতা। তবে এমন এক সময় আসবে, তখন ফিতনার বজ্রধ্বনি হতেই থাকবে। মুসলমানরা তখন প্রবৃত্তির অনুসরণ ও ফিতনা-ফাসাদে জড়িয়ে পড়বে। সে-সময় মানুষ দিকভ্রান্ত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। বুকে লালন করবে শিরক-কুফরি। কিন্তু সেই কঠিন মুহূর্তেও কিছু লোক ঈমানের ওপর অটল থাকবে। তখন ইসলামের অবস্থা তেমনই হবে, যেমন একেবারে শুরুলগ্নে হয়েছিল—অর্থাৎ শেষ সময়ে ইসলাম প্রকৃত মুসলিমশূন্য হয়ে পড়বে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন—

تَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً
‘আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। একটি দল জান্নাতে যাবে; আর বাকি বাহাত্তরটি দল দোজখে জাহান্নামে।’

জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি—অর্থাৎ কোন দলটি জান্নাতে যাবে?’

উত্তরে তিনি বললেন—

مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
‘‘আমি এবং আমার সাহাবাদের মতাদর্শের উপর যারা থাকবে, তারা। ’’

আবু সালাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ، حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا، وَهَوًى مُتَّبَعًا، وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً، وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ، وَرَأَيْتَ أَمْرًا لَا يَدَانِ لَكَ بِهِ، فَعَلَيْكَ خُوَيْصَةَ نَفْسِكَ، وَدَعْ أَمْرَ الْعَوَامِ، فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ، الصَّبْرُ فِيهِنَّ عَلَى مِثْلِ قَبْضِ عَلَى الْجَمْرِ، لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلًا، يَعْمَلُونَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ.
“তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে থাকো। অবশেষে যখন তুমি (লোকদেরকে) কৃপণতার আনুগত্য, প্রবৃত্তির অনুসরণ, পার্থিব স্বার্থকে অগ্রাধিকার এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের মতামতের ব্যাপারে আত্মমগ্ন দেখতে পাবে (১), তখন তুমি তোমার নিজের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। আর সাধারণ লোকদের ব্যাপার ছেড়ে দাও। কারণ, তোমাদের পিছনে ধৈর্যধারণের সময় রয়েছে। সে সময়ে ধৈর্যধারণ করা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় রাখার মতো কঠিন হবে। যারা সে সময়ে আমল করবে, তারা তোমাদের মত আমলকারী পঞ্চাশ জন লোকের সমতুল্য সওয়াব পাবে।”

টিকাঃ
১. আবু-সুন্নাহ, তিরমিযী : ২৫৪১। এই হাদীসের সনদে কিছু দুর্বলতা থাকলেও এটি অনেকগুলো সনদে বর্ণিত হওয়া প্রমাণ করে যে, এর ভিত্তি আছে। (বিস্তারিত জানতে দেখুন : সিলসিলা সহীহা, আল-আলবানী : ২০৪ ও ২০২) – সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00