📄 সর্বদা প্রস্তুত থাকুন
বিবেক-বুদ্ধির দাবি হলো, সর্বদা আখেরাতের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং আজকের কাজ কালকের জন্য না রাখা। বরং জীবনে যত বেশি পুণ্য অর্জন করা সম্ভব, সুস্থ ও অবসর সময়ে তা অর্জন করা উচিত। কারণ এমন সুযোগ পুনরায় আসবে কি না বলা কঠিন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলতেন, 'সন্ধ্যায় থাকাকালে সকালের অপেক্ষা কোরো না, আর সকালে থাকাকালে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না। সুস্থ থাকাকালে অসুস্থ অবস্থার কাজ করে রাখো এবং জীবদ্দশায় মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের পুঁজি সঞ্চয় করো।' ১৩৫
হযরত ইবনে উমর রা.-এর উল্লেখিত বক্তব্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদিস থেকে সংগৃহীত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সাহাবীকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন :
‘ইগদানিম খামসান ক্বাবলা খামসিন : শাবাবাকা ক্বাবলা হারামিকা, ওয়া সিহহাতাকা ক্বাবলা সাক্বামিকা, ওয়া গিনাকা ক্বাবলা ফাক্বরিকা, ওয়া ফারাগাকা ক্বাবলা শুগলিকা, ওয়া হায়াতাকা ক্বাবলা মাওতিকা’
অর্থাৎ পাঁচটি বস্তুর পূর্বে পাঁচটি বস্তুকে গণিমত মনে করবে : ১. যৌবনকে বার্ধক্যের পূর্বে, ২. সুস্থতাকে অসুস্থতার পূর্বে, ৩. স্বচ্ছলতাকে অস্বচ্ছলতার পূর্বে, ৪. অবসরকে ব্যস্ততার পূর্বে, ৫. জীবনকে মৃত্যুর পূর্বে। ১৩৬
আলোচ্য হাদিসে ঐ পাঁচটি বস্তুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোতে মত্ত হয়ে মানুষ আখেরাতকে ভুলে যায়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এসব বস্তু খুবই ক্ষণস্থায়ী। মানুষ সাধারণত যৌবনকে আমোদ-প্রমোদ ও বিনোদনে কাটিয়ে দেয়। অথচ যৌবন এত মূল্যবান সময় যে, এসময় ইবাদতের মূল্য বৃদ্ধ বয়সের ইবাদতের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এক হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা ইবাদতগোজার ও মুত্তাকী যুবককে সম্বোধন করে বলছেন, ‘আমার কাছে তোমার মর্যাদা কতিপয় ফেরেশতার মতো।’ ১৩৭
টিকাঃ
১৩৫. বুখারী, ৬/২৯৬।
১৩৬. ফাতহুল বারী, ১১/২৪১।
১৩৭. কিতাবুয যুহদ, ১/৯৭।
📄 জান্নাতের পথ
হযরত হাসান বসরী রা. হতে বর্ণিত আছে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, তোমরা সবাই কি জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও। সাহাবায়েকেরাম বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, জি হ্যাঁ। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
তাহলে নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দাও। মৃত্যুকে সর্বদা চোখের সামনে মনে করবে এবং আল্লাহকে যথাযথ লজ্জায় লজ্জা করবে। সাহাবায়েকেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তো তাঁকে অবশ্যই লজ্জা করি। একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন :
তা নয়। আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করার অর্থ হলো, তুমি মাথা ও তাতে যা সংরক্ষিত আছে, তা রক্ষা করবে; পেট ও তাতে যা জমা আছে, তা হেফাযত করবে; মৃত্যু ও হাড় পচনের কথা স্মরণ রাখবে; যে ব্যক্তি আখেরাতের আশা রাখে, সে দুনিয়ার আড়ম্বর পরিত্যাগ করে। যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করল, সে যথাযথ লজ্জা করল। ১৩৮
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মহামূল্যবান নির্দেশনা সবার চোখের সামনে থাকা উচিত এবং পর্যায়ক্রমে আমাদের গভীরতম প্রদেশে গেঁথে নেওয়া উচিত এবং আমাদের এমন আমল করার তাওফিক দান করুন, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় ও নেকট্যশীল হওয়া যায়।
টিকাঃ
১৩৮. কিতাবুয যুহদ, ১/৩৭; তিরমিযী, ২/৭৫।