📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ততা আখেরাতের জন্য ক্ষতিকর

📄 দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ততা আখেরাতের জন্য ক্ষতিকর


বাহ্যত দুনিয়ার সম্পর্ক ও নাজ-নেয়ামতের মাঝে ডুবে থাকাকে ভালো মনে হয় এবং অসংখ্য মানুষ দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকেই নিজের মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয়। কিন্তু তারা জানে না যে, এই ক্ষণস্থায়ী ও সাময়িক ভোগ-বিলাস আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের চিরস্থায়ী নেয়ামতের জন্য ক্ষতিকর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসল, সে তার আখিরাতের ক্ষতি করল। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসল সে কেবল দুনিয়ার ক্ষতি করল। সুতরাং তোমরা আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনকে দুনিয়ার অস্থায়ী জীবনের ওপর প্রাধান্য দাও।’

এক হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির অন্তরে দুনিয়াপ্রীতি আসন গেড়ে বসে, তার ভেতর তিনটা বিষয় সংযুক্ত হয়ে যায় : ১. এমন দুর্ভাগ্য, যার বিপদাপদ কখনও শেষ হয় না। ২. এমন লোভ-লালসা, যা কখনও তুষ্ট হয় না। ৩. এমন উচ্চাশা, যা পূরণ হয় না। যে ব্যক্তি আখেরাতের অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকে, দুনিয়া তার পিছনে পিছনে ঘুরতে থাকে, যেন তাকে তার নির্ধারিত রিযিক প্রদান করতে পারে।

টিকাঃ
৮০৬. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৩০৪।
৭৮৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬৬; মাজমাউজ যাওয়াইদ, ১০/২৪৯।
৯৯০. তাবারানী; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৪/৮৫।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়ার মহব্বত আত্মার অশান্তির কারণ

📄 দুনিয়ার মহব্বত আত্মার অশান্তির কারণ


দুনিয়ার সম্পর্ক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মার অশান্তিও বাড়তে থাকে। সকল প্রকার নেয়ামত থাকা সত্ত্বেও মানুষ মানসিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘দুনিয়া যার মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়, আল্লাহ তায়ালা তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন। আর দারিদ্র্যকে তার দুই চোখের সামনে নিয়ে আসবেন। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য হবে আখেরাত, আল্লাহ তায়ালা তার সবকিছু ঠিক করে দেবেন। তাঁর অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা সৃষ্টি করে দেবেন।’

এক হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন : ‘হে বনি আদম, আমার ইবাদতের জন্য অবসর হও, আমি তোমার অন্তরকে অমুখাপেক্ষিতা দ্বারা ভরপুর করে দেব এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ করব। অন্যথায় তোমার অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখব এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ করব না।’

টিকাঃ
৯৯১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬৬; ইবনে মাজাহ, ৪১০৫; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৪/৪৬১।
৯৯২. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 বিলাসিতাপ্রিয় মানুষকে আল্লাহ ভালোবাসেন না

📄 বিলাসিতাপ্রিয় মানুষকে আল্লাহ ভালোবাসেন না


শৌখিন ও বিলাসিতায় আকৃষ্ট লোকেদেরকে আল্লাহ তায়া'লা ভালোবাসেন না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ব্যক্তিকে গোটা উম্মতের মাঝে নিকৃষ্ট আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন : ‘ঐ সকল লোক আমার উম্মতের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা নাজ-নেয়ামতের মাঝে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এর মাঝে বেড়ে উঠেছে। যাদের সর্বদা চিন্তা হলো রকমারি খাবার ভক্ষণ ও বিভিন্ন রকমের পোশাক পরিধান।’

টিকাঃ
৯৫১. কিতাবুত যুহদ লি ইবনিল মুবারক, ২৬০।
৯৫২. কিতাবুত যুহদ, ২৬৩।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 পার্থিব জগতের প্রতি অনাসক্তি আত্মিক প্রশান্তির মাধ্যম

📄 পার্থিব জগতের প্রতি অনাসক্তি আত্মিক প্রশান্তির মাধ্যম


মানুষের আত্মার সবচেয়ে বড় শান্তির মাধ্যম হলো, দুনিয়ায় থেকেও দুনিয়া নিয়ে পাগল না হওয়া। এমন ব্যক্তির আত্মিক অবস্থা দর্পণস্বরূপ হলেও সে যতটা আত্মিক শান্তিতে বসবাস করতে পারে, তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা যতটা সুখময় হয়, এমন সুখ-শান্তিতে বহু মহামানীও বসবাস করতে পারে না। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
‘আয-যুহদু ফিদ দুনিয়া ইউরিহুল ক্বালবা ওয়াল জাসাদা’
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি দেহ-মন উভয়কে শান্তি দেয়। ৯৫৩

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সুখ ও শান্তি। সুখ ছাড়া সকল ধনদৌলত অর্থহীন। এই সুখ ও শান্তি তখনই হাসিল হবে, যখন আমরা প্রয়োজন পরিমাণ এবং প্রয়োজনের স্বার্থে দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখব এবং আল্লাহর নেয়ামতরাজি প্রতি শোকরগুজার হব ও তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকব। হযরত লুকমান রা. বলেন, ‘দীনের প্রতি অটুট-অবিচল থাকার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী গুণ হলো দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ ও অনাসক্তি। যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয়, সে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আশা করে। আর যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতার সঙ্গে আমল করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে পূর্ণ সওয়াব ও প্রতিদানে ভূষিত করেন।’ ৯৯৪

টিকাঃ
৯৫৩. মাজমাউজ যাওয়াইদ, ১০/২৫৬।
৯৯৪. কিতাবুত যুহদ, ১৭৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px