📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়া মুমিনদের জন্য কারাগার

📄 দুনিয়া মুমিনদের জন্য কারাগার


হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ (দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফেরের জন্য জান্নাত)। কারণ মুমিনের আসল ঠিকানা হলো জান্নাত, যা প্রকৃত অর্থে শান্তির নীড়। আর জান্নাতের বিপরীতে দুনিয়া কারাগারের চেয়ে কম নয়। দুনিয়ায় মানুষ নানা রকম বাধা-প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।

টিকাঃ
৮০২. মুসলিম, ২/৪০৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়ার ভালোবাসা সকল অন্যায়ের মূল

📄 দুনিয়ার ভালোবাসা সকল অন্যায়ের মূল


আখিরাতের ব্যাপারে উদাসীন করে দেয়, দুনিয়ার সাথে এমন সম্পর্ক সকল পাপ ও অন্যায়ের মূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘দুনিয়ার মহব্বত সকল অন্যায়ের মূল।’ একটু চিন্তা করলে বিষয়টি সহজেই বুঝে আসে যে, দুনিয়ায় যে ব্যক্তিই গুনাহ করুক না কেন, তার মূল প্রেরণা হলো দুনিয়ার মহব্বত বা সম্পৃক্ততা। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেছেন, 'দুনিয়াপ্রীতি সকল অন্যায়ের মূল, আর ধনসম্পদ স্বয়ং এক ধরনের রোগ।' কেউ জিজ্ঞেস করল, 'ধনসম্পদের রোগ কী?' তিনি উত্তর দিলেন, 'ধনসম্পদ মানুষকে অহংকারী, ধোঁকাবাজ, পরস্পর ঝগড়াটে ও প্রদর্শনকারী বানায়। যদি মেনে নেওয়া হয় যে, ধনদৌলতের কারণে কেউ এসব কাজ করল না, তা হলে এতটুকু নিশ্চিত যে, ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের চিন্তা মানুষকে আল্লাহর যিকির থেকে বঞ্চিত করে।'

এ কারণেও আল্লাহওয়ালাদের অন্তর সর্বদা দুনিয়ার মহব্বত থেকে মুক্ত থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাঁকে দুনিয়া থেকে এমনভাবে দূরে রাখেন, যেমন তোমরা রোগীকে পানি থেকে দূরে রাখো।’

টিকাঃ
৮০৩. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী।
৮০৪. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৩০৬।
৮০৫. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৮৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/২৪৯।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ততা আখেরাতের জন্য ক্ষতিকর

📄 দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ততা আখেরাতের জন্য ক্ষতিকর


বাহ্যত দুনিয়ার সম্পর্ক ও নাজ-নেয়ামতের মাঝে ডুবে থাকাকে ভালো মনে হয় এবং অসংখ্য মানুষ দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকেই নিজের মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয়। কিন্তু তারা জানে না যে, এই ক্ষণস্থায়ী ও সাময়িক ভোগ-বিলাস আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের চিরস্থায়ী নেয়ামতের জন্য ক্ষতিকর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসল, সে তার আখিরাতের ক্ষতি করল। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসল সে কেবল দুনিয়ার ক্ষতি করল। সুতরাং তোমরা আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনকে দুনিয়ার অস্থায়ী জীবনের ওপর প্রাধান্য দাও।’

এক হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির অন্তরে দুনিয়াপ্রীতি আসন গেড়ে বসে, তার ভেতর তিনটা বিষয় সংযুক্ত হয়ে যায় : ১. এমন দুর্ভাগ্য, যার বিপদাপদ কখনও শেষ হয় না। ২. এমন লোভ-লালসা, যা কখনও তুষ্ট হয় না। ৩. এমন উচ্চাশা, যা পূরণ হয় না। যে ব্যক্তি আখেরাতের অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকে, দুনিয়া তার পিছনে পিছনে ঘুরতে থাকে, যেন তাকে তার নির্ধারিত রিযিক প্রদান করতে পারে।

টিকাঃ
৮০৬. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৩০৪।
৭৮৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬৬; মাজমাউজ যাওয়াইদ, ১০/২৪৯।
৯৯০. তাবারানী; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৪/৮৫।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়ার মহব্বত আত্মার অশান্তির কারণ

📄 দুনিয়ার মহব্বত আত্মার অশান্তির কারণ


দুনিয়ার সম্পর্ক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মার অশান্তিও বাড়তে থাকে। সকল প্রকার নেয়ামত থাকা সত্ত্বেও মানুষ মানসিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘দুনিয়া যার মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়, আল্লাহ তায়ালা তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন। আর দারিদ্র্যকে তার দুই চোখের সামনে নিয়ে আসবেন। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য হবে আখেরাত, আল্লাহ তায়ালা তার সবকিছু ঠিক করে দেবেন। তাঁর অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা সৃষ্টি করে দেবেন।’

এক হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন : ‘হে বনি আদম, আমার ইবাদতের জন্য অবসর হও, আমি তোমার অন্তরকে অমুখাপেক্ষিতা দ্বারা ভরপুর করে দেব এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ করব। অন্যথায় তোমার অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখব এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ করব না।’

টিকাঃ
৯৯১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬৬; ইবনে মাজাহ, ৪১০৫; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৪/৪৬১।
৯৯২. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৬১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px