📄 দুনিয়াবী কাজকর্মের বৈধতার সীমা
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য জমিনের বরকতসমূহ প্রকাশ করে দেবেন, আমি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশঙ্কা করছি।’ জিজ্ঞেস করা হলো, জমিনের বরকতসমূহ কী? তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার সাজ-সজ্জা ও আড়ম্বরতা।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ‘ভালো শুধু ভালোই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনদৌলত সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সদ্ব্যবহার করবে এবং সৎকাজে ব্যয় করবে, তা তার খুবই সাহায্যকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে, তার অবস্থা হবে ঐ ব্যক্তির মতো, যে খেতে থাকে, কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না (সে অধিক ভক্ষণের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়)।’
উক্ত হাদিসের আলোকে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততার বৈধ সীমানার কথা জানা যায়। আর তা হলো, দুনিয়া থেকে কেবল ঐ পরিমাণ উপভোগ করা বৈধ, যা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন : ‘যে ব্যক্তি হালাল পন্থায় অন্যের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বাঁচতে বা পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের জন্য দুনিয়া উপার্জন করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গৌরব প্রদর্শন ও আত্ম-প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দুনিয়া উপার্জন করে, সে এমন অবস্থায় আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।’
টিকাঃ
৭৯৯. তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/২০২।
৮০০. বুখারী, ২/৪৫৯, হাদিস নং-২৬৪৮; মুসলিম, ১/৩০৬।
৮০১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২০৯।
📄 দুনিয়া শান্তির জায়গা নয়
দুনিয়ায় কোনো ব্যক্তি একথার দাবি করতে পারবে না যে সে পরিপূর্ণ শান্তিতে রয়েছে। কারণ দুনিয়ায় প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে এমন কিছু সমস্যা লেগে থাকে, যা তার শান্তিকে বিঘ্নিত করে। বরং চিন্তা করলে দেখা যায়, দুনিয়ায় যে যত বড় পদমর্যাদার অধিকারী এবং যত বেশি সম্পদের মালিক, তার অশান্তি ও পেরেশানি তত বেশি। তারা সর্বদা মানসিক অস্থিরতা ও জীবনের ঝুঁকি বয়ে বেড়ায়। ধনসম্পদ, মান-মর্যাদা ও আরাম-আয়েশের সকল উপকরণাদি বিদ্যমান থাকলেও মানুষ পরিপুর্ণ শান্তি লাভ করতে পারে না। এর বিপরীতে জান্নাত মূলত শান্তিরই জায়গা। সেখানে সকল প্রকার নেয়ামত বিদ্যমান থাকবে।
📄 দুনিয়া মুমিনদের জন্য কারাগার
হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ (দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফেরের জন্য জান্নাত)। কারণ মুমিনের আসল ঠিকানা হলো জান্নাত, যা প্রকৃত অর্থে শান্তির নীড়। আর জান্নাতের বিপরীতে দুনিয়া কারাগারের চেয়ে কম নয়। দুনিয়ায় মানুষ নানা রকম বাধা-প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।
টিকাঃ
৮০২. মুসলিম, ২/৪০৭।
📄 দুনিয়ার ভালোবাসা সকল অন্যায়ের মূল
আখিরাতের ব্যাপারে উদাসীন করে দেয়, দুনিয়ার সাথে এমন সম্পর্ক সকল পাপ ও অন্যায়ের মূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘দুনিয়ার মহব্বত সকল অন্যায়ের মূল।’ একটু চিন্তা করলে বিষয়টি সহজেই বুঝে আসে যে, দুনিয়ায় যে ব্যক্তিই গুনাহ করুক না কেন, তার মূল প্রেরণা হলো দুনিয়ার মহব্বত বা সম্পৃক্ততা। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেছেন, 'দুনিয়াপ্রীতি সকল অন্যায়ের মূল, আর ধনসম্পদ স্বয়ং এক ধরনের রোগ।' কেউ জিজ্ঞেস করল, 'ধনসম্পদের রোগ কী?' তিনি উত্তর দিলেন, 'ধনসম্পদ মানুষকে অহংকারী, ধোঁকাবাজ, পরস্পর ঝগড়াটে ও প্রদর্শনকারী বানায়। যদি মেনে নেওয়া হয় যে, ধনদৌলতের কারণে কেউ এসব কাজ করল না, তা হলে এতটুকু নিশ্চিত যে, ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের চিন্তা মানুষকে আল্লাহর যিকির থেকে বঞ্চিত করে।'
এ কারণেও আল্লাহওয়ালাদের অন্তর সর্বদা দুনিয়ার মহব্বত থেকে মুক্ত থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাঁকে দুনিয়া থেকে এমনভাবে দূরে রাখেন, যেমন তোমরা রোগীকে পানি থেকে দূরে রাখো।’
টিকাঃ
৮০৩. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী।
৮০৪. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৩০৬।
৮০৫. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২৮৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/২৪৯।