📄 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়
পৃথিবী ও পৃথিবীর সকল আড়ম্বরতা ক্ষণস্থায়ী। যদি কেউ কোনো বড় নেয়ামতের মালিক হয়েও যায়, তবে জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই নেয়ামত অবশিষ্ট থাকবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, পৃথিবী পরিবর্তনশীল। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নেয়ামতও ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর পর না স্ত্রী থাকবে, না সম্পদ থাকবে, না জায়গা-জমি ও খেত-খামার সঙ্গে যাবে। সবকিছুর সঙ্গ ত্যাগ করতেই হবে। একারণে কুরআন কারিম ও হাদিস শরিফে মানবজাতিকে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন দুনিয়ার আড়ম্বরতাকে মূল লক্ষ্য না বানায়। কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে : ‘মানবকুলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তানসন্তুতি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং খেত-খামারের মতো আকর্ষণীয় সামগ্রী। এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই তো হলো উত্তম ঠিকানা। যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত — তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল।’
টিকাঃ
৭৭৮. সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৪-১৮।
📄 দুনিয়াবী কাজকর্মের বৈধতার সীমা
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য জমিনের বরকতসমূহ প্রকাশ করে দেবেন, আমি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশঙ্কা করছি।’ জিজ্ঞেস করা হলো, জমিনের বরকতসমূহ কী? তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার সাজ-সজ্জা ও আড়ম্বরতা।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ‘ভালো শুধু ভালোই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনদৌলত সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সদ্ব্যবহার করবে এবং সৎকাজে ব্যয় করবে, তা তার খুবই সাহায্যকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে, তার অবস্থা হবে ঐ ব্যক্তির মতো, যে খেতে থাকে, কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না (সে অধিক ভক্ষণের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়)।’
উক্ত হাদিসের আলোকে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততার বৈধ সীমানার কথা জানা যায়। আর তা হলো, দুনিয়া থেকে কেবল ঐ পরিমাণ উপভোগ করা বৈধ, যা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন : ‘যে ব্যক্তি হালাল পন্থায় অন্যের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বাঁচতে বা পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের জন্য দুনিয়া উপার্জন করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গৌরব প্রদর্শন ও আত্ম-প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দুনিয়া উপার্জন করে, সে এমন অবস্থায় আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।’
টিকাঃ
৭৯৯. তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/২০২।
৮০০. বুখারী, ২/৪৫৯, হাদিস নং-২৬৪৮; মুসলিম, ১/৩০৬।
৮০১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২০৯।
📄 দুনিয়া শান্তির জায়গা নয়
দুনিয়ায় কোনো ব্যক্তি একথার দাবি করতে পারবে না যে সে পরিপূর্ণ শান্তিতে রয়েছে। কারণ দুনিয়ায় প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে এমন কিছু সমস্যা লেগে থাকে, যা তার শান্তিকে বিঘ্নিত করে। বরং চিন্তা করলে দেখা যায়, দুনিয়ায় যে যত বড় পদমর্যাদার অধিকারী এবং যত বেশি সম্পদের মালিক, তার অশান্তি ও পেরেশানি তত বেশি। তারা সর্বদা মানসিক অস্থিরতা ও জীবনের ঝুঁকি বয়ে বেড়ায়। ধনসম্পদ, মান-মর্যাদা ও আরাম-আয়েশের সকল উপকরণাদি বিদ্যমান থাকলেও মানুষ পরিপুর্ণ শান্তি লাভ করতে পারে না। এর বিপরীতে জান্নাত মূলত শান্তিরই জায়গা। সেখানে সকল প্রকার নেয়ামত বিদ্যমান থাকবে।
📄 দুনিয়া মুমিনদের জন্য কারাগার
হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ (দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফেরের জন্য জান্নাত)। কারণ মুমিনের আসল ঠিকানা হলো জান্নাত, যা প্রকৃত অর্থে শান্তির নীড়। আর জান্নাতের বিপরীতে দুনিয়া কারাগারের চেয়ে কম নয়। দুনিয়ায় মানুষ নানা রকম বাধা-প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।
টিকাঃ
৮০২. মুসলিম, ২/৪০৭।