📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আল্লাহর দৃষ্টিতে দুনিয়ার মর্যাদা

📄 আল্লাহর দৃষ্টিতে দুনিয়ার মর্যাদা


গোটা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল নেয়ামত আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে সত্যিকার অর্থে তুচ্ছ ও মূল্যহীন। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা কাফের-মুশরিকদের দুনিয়ার সকল নেয়ামত ভোগ করার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘গোটা দুনিয়া যদি মহান আল্লাহর নিকট একটা ক্ষুদ্র মাছির ডানার সমান মূল্যবান হতো, তা হলে তিনি কোনো কাফেরকে এক ঢোক পানি পান করাতেন না।’

হযরত মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক সাহাবীকে নিয়ে পড়ে থাকা মরা একটি বকরির বাচ্চার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, তোমরা কি মনে করো, এই মরা বাচ্চাটি তার মালিকের নিকট নিকৃষ্ট ও মূল্যহীন বলেই সেটিকে ফেলে দিয়েছে? সাহাবীগণ উত্তর দিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, এর নিকৃষ্টতা এবং মূল্যহীনতার কারণেই তারা এটিকে ফেলে দিয়েছে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : ‘এটি তার মালিকের নিকট যেমন নিকৃষ্ট, আল্লাহর নিকট দুনিয়া এর চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট।’

আরেক হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : ‘আল্লাহর যিকির এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সহায়ক অপরাপর আমল, আলেম এবং তালেবে ইলম ছাড়া দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে, সবই অভিশপ্ত।’

টিকাঃ
৭৭৩. তিরমিযী, ২/৪৮, হাদিস নং-২৩২০।
৭৭৪. তিরমিযী, ২/৪৮, হাদিস নং-২৩২৪।
৭৭৫. তিরমিযী, ২/৪৮, হাদিস নং-২৩২৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 কাফেরদের জাগতিক মান-মর্যাদা দেখে চিন্তিত হবেন না

📄 কাফেরদের জাগতিক মান-মর্যাদা দেখে চিন্তিত হবেন না


সাধারণত কাফেরদের জাগতিক শান-শওকত, ধনসম্পদ ও বাহ্যিক আড়ম্বরতা দেখে মানুষের মাঝে লোভ-লালসা জন্ম নেয়, অথবা তারা সংকীর্ণমনা হয়ে পড়ে। ফলে তারা তাদের মতো ঐশ্বর্য অর্জনে মত্ত হয়ে হালাল-হারামের পার্থক্য ভুলে যায়। তাদের সতর্ক করে দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন : ‘নগরীতে কাফেরদের চাল-চলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা — এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোযখ। আর সেটা হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।’

টিকাঃ
৭৭৬. তিরমিযী, ২/৫১।
৭৭৭. সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫-১৮৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়

📄 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়


পৃথিবী ও পৃথিবীর সকল আড়ম্বরতা ক্ষণস্থায়ী। যদি কেউ কোনো বড় নেয়ামতের মালিক হয়েও যায়, তবে জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই নেয়ামত অবশিষ্ট থাকবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, পৃথিবী পরিবর্তনশীল। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নেয়ামতও ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর পর না স্ত্রী থাকবে, না সম্পদ থাকবে, না জায়গা-জমি ও খেত-খামার সঙ্গে যাবে। সবকিছুর সঙ্গ ত্যাগ করতেই হবে। একারণে কুরআন কারিম ও হাদিস শরিফে মানবজাতিকে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন দুনিয়ার আড়ম্বরতাকে মূল লক্ষ্য না বানায়। কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে : ‘মানবকুলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তানসন্তুতি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং খেত-খামারের মতো আকর্ষণীয় সামগ্রী। এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই তো হলো উত্তম ঠিকানা। যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত — তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল।’

টিকাঃ
৭৭৮. সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৪-১৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দুনিয়াবী কাজকর্মের বৈধতার সীমা

📄 দুনিয়াবী কাজকর্মের বৈধতার সীমা


হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য জমিনের বরকতসমূহ প্রকাশ করে দেবেন, আমি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশঙ্কা করছি।’ জিজ্ঞেস করা হলো, জমিনের বরকতসমূহ কী? তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার সাজ-সজ্জা ও আড়ম্বরতা।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ‘ভালো শুধু ভালোই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনদৌলত সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সদ্ব্যবহার করবে এবং সৎকাজে ব্যয় করবে, তা তার খুবই সাহায্যকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে, তার অবস্থা হবে ঐ ব্যক্তির মতো, যে খেতে থাকে, কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না (সে অধিক ভক্ষণের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়)।’

উক্ত হাদিসের আলোকে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততার বৈধ সীমানার কথা জানা যায়। আর তা হলো, দুনিয়া থেকে কেবল ঐ পরিমাণ উপভোগ করা বৈধ, যা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন : ‘যে ব্যক্তি হালাল পন্থায় অন্যের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বাঁচতে বা পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের জন্য দুনিয়া উপার্জন করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গৌরব প্রদর্শন ও আত্ম-প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দুনিয়া উপার্জন করে, সে এমন অবস্থায় আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।’

টিকাঃ
৭৯৯. তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/২০২।
৮০০. বুখারী, ২/৪৫৯, হাদিস নং-২৬৪৮; মুসলিম, ১/৩০৬।
৮০১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/২০৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px