📄 জান্নাতে প্রবেশের নয়নাভিরাম দৃশ্য
জান্নাতের সর্বপ্রথম দরজা হলো আটটি। নেক আমলের তারতম্য অনুযায়ী মানুষ এই দরজাগুলো দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। একটি দরজার নাম হবে ‘রাইয়ান’। সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের জন্য রোযাদারদের আহ্বান করা হবে। আল্লাহর কতিপয় সৌভাগ্যবান বান্দার অবস্থা এমন হবে যে, তাঁদের সব দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য আহ্বান করা হবে। যেমন সাইয়েদুনা হযরত আবু বকর রা.।
সেটি হবে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরপুর এক দারুণ দৃশ্য। জান্নাতীরা প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হবে। পাহারাদার ফেরেশতারা জান্নাতীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে থাকবে। কুরআন কারিম এই নয়নাভিরাম দৃশ্য তুলে ধরেছে : ‘যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদের দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাকো, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।’
টিকাঃ
৭০৪. সূরা যুমার, আয়াত: ৭০-৭৪।
📄 জান্নাতের বিশালতা
পৃথিবীর কেউ-ই জান্নাতের সুবিশাল পরিসর অনুমান করতে পারবে না। আমাদের সাধারণ ধারণা প্রদানের জন্য কুরআন কারিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদু উয়িদ্দাত লিল মুত্তাকিন’ অর্থাৎ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য। মুসলিম শরিফের এক হাদিসে এসেছে, সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারীকে ১০টি পৃথিবীর সমান বিশাল জান্নাত প্রদান করা হবে।
টিকাঃ
৭০৬. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩।
৭০৭. মুসলিম, ১/১০১।
📄 কুরআনের আলোকে জান্নাতের নাজ-নেয়ামতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
জান্নাতের নেয়ামতরাজি কেমন হবে তা ধারণায় আনতেও আমাদের বিবেক অক্ষম। সেখানে এমন সব নেয়ামত থাকবে, যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো অন্তর তা কল্পনাও করেনি। কুরআন মাজিদের জান্নাতীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইরশাদ হয়েছে : ‘ফালা তা’লামু নাফসুম মা উখফিয়া লাহুম মিন ক্বুররাতি আ’ইউনিন জাযাআম বিমা কানু ইয়ামালুন’ অর্থাৎ কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।
কুরআন কারিমে জান্নাতের নেয়ামতরাজির বিবরণ এসেছে :
১. জান্নাতে এমন বাগান থাকবে, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত হবে।
২. জান্নাতের ফলগুলো দেখতে একরকম মনে হবে; কিন্তু প্রতিটির স্বাদ হবে ভিন্ন ভিন্ন। এছাড়াও রকমারি ফলও থাকবে।
৩. জান্নাতীদের স্ত্রী ও হুরগণ অপরূপ সুন্দরী, সমবয়স্কা, লজ্জাশীলা ও পাক পবিত্রা হবে।
৪. জান্নাতের প্রাসাদ ও অট্টালিকাসমূহ অত্যন্ত শানদার ও উজ্জ্বল হবে।
৫. জান্নাতী পুরুষরা মণি-মুক্তা ও স্বর্ণের কঙ্কন পরিহিত থাকবে।
৬. জান্নাতে অত্যন্ত সুস্বাদু দামি শরাব থাকবে, যা পান করলে নেশা হবে না।
৭. জান্নাতী সুদর্শন বালকরা জান্নাতীদের খাবার পরিবেশন করবে।
৮. জান্নাতে স্বচ্ছ পানির, দুধের ও পরিশোধিত মধুর নহর থাকবে।
৯. জান্নাতে মনঃপূত পাখির গোশতের ব্যবস্থা থাকবে।
টিকাঃ
৭০৮. সূরা সিজদা, আয়াত: ১৭।
৭০৯. সূরা সিজদা, আয়াত: ১৭।
৭১০. সূরা হা মিম সিজদা, আয়াত: ৩১-৩২।
৭১৩. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫।
৭১৪. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫।
৭১৫. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫; সূরা আলে ইমরান: ১৫; সূরা সফফাত, আয়াত: ৪২; সূরা আর-রহমান।
৭১৬. সূরা তাওবা, আয়াত: ৭১; সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৫২।
৭১৭. সূরা কাহাফ, আয়াত: ৩১; সূরা হজ, আয়াত: ২৩; সূরা ফাতির, আয়াত: ৩৩।
৭১৮. সূরা বাকারা, আয়াত: ৮৫-৮৭।
৭১৯. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২০. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২১. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২২. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২৩. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
📄 হাদিসের আলোকে জান্নাতের বিবরণ
হাদিস শরীফেও অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের বিবরণ পেশ করা হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
১. জান্নাতের সুঘ্রাণ পাঁচশ বছর দূরের স্থান থেকে পাওয়া যাবে।
২. জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো আসমান-জমিনের ব্যবধান।
৩. জান্নাতী প্রাসাদের একটি ইট হবে স্বর্ণের, আরেকটি ইট হবে রুপার। আর সিমেন্ট হবে মেশকে আম্বর। মাটি হবে জাফরানের।
৪. কাউসার নামক জান্নাতে একটি নদী থাকবে। তার মাটি মেশকে আম্বরের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময়, পানি মধুর চেয়ে সুমিষ্ট এবং বরফের চেয়ে অধিক শুভ্র হবে।
৫. জান্নাতের এক একটি গাছ এত বিশাল হবে যে, যদি কোনো দ্রুতগামী ঘোড়া লাগাতার একশ বছর দৌড়ায়, তাও সেই গাছের ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না।
৬. জান্নাতী হুরগণ একই সময় ৭০ জোড়া কাপড় পরিধান করবে। এত কাপড় পরিধান সত্ত্বেও তাদের পায়ের হাড়ের মগজ পর্যন্ত দেখা যাবে।
৭. জান্নাতী হুরগণ সুমধুর কণ্ঠে স্বামীদের গান শোনাবে এবং শোকরিয়া কবিতা পাঠ করবে।
৮. জান্নাতে একটি বিশাল বাজার রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সেই বাজারে জান্নাতীরা যাবে এবং তাদের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৯. জান্নাতী প্রত্যেক পুরুষকে একশ পুরুষের সমান পানাহার ও সহবাসের শক্তি প্রদান করা হবে এবং সর্বদা তাদের বয়স থাকবে তেত্রিশ বছর।
১০. একজন সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতীর কমপক্ষে ৮০ হাজার সেবক ও স্ত্রী থাকবে।
টিকাঃ
৭২৭. সহীহ ইবনে হিব্বান, ৮/২০৪; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৭০।
৭২৮. বুখারী, ১/৩৮১; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৮১।
৭২৯. মুসলিম, ২/৩৬৬; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৮১।
৭৩০. তিরমিযী, ২/৭৪; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৮৫।
৭৩১. বুখারী, ২/৭২৯; মুসলিম, ২/৩৮৬; মুসনাদে আহমদ, ২/২৬৭; আত্তারগিব, ৪/২৬৭।
৭৩২. বুখারী, ১/৩৮২; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৮২।
৭৩৩. আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৮৭।
৭৩৪. আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/৩০০।
৭৩৫. মুসলিম, ২/৩৬১; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব, ৪/২৯০।
৭৩৬. কিতাবুল আকিবা, ২৮২-২৮৩।
৭৩৭. কিতাবুল আকিবা, ২৮৪।