📄 সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের আনন্দের বিবরণ
হাদিসের আলোকে এক কথা প্রমাণিত যে, উম্মতে মুহাম্মদীর সত্তর হাজার কিংবা সাত লাখ লোক একই মুহূর্তে প্রথম পর্যায়ে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জন করবে। তিরমিযী শরিফের এক হাদিস থেকে জানা যায়, সেই ৭০ হাজারের প্রত্যেক হাজারের সঙ্গে আরও ৭০ হাজার জান্নাতী থাকবে। এদের সাথে আরও আল্লাহর কুদরতী মুষ্টির একটি মুষ্টি লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ হিসেবে এই সৌভাগ্যবানদের সংখ্যা ৪৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে এই বরকতময় জামাতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সব সৌভাগ্যবানদের আলোচনা করার সাথে সাহাবায়েকেরাম এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু করে দেন যে, এই সৌভাগ্যবান কারা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বলেন, ‘হুমুল্লাযীনা লা ইয়ারকুনা ওয়া লা ইয়াস্তাত্বিরুনা ওয়া আলা রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালুন’ অর্থাৎ এরা সেই সকল মানুষ, যারা ঝাড়ফুঁক করে না এবং করায় না, পাখি উড়িয়ে কুলক্ষণ গ্রহণ করে না এবং নিজেদের প্রতিপালকের ওপর পূর্ণ ভরসা করে।
টিকাঃ
৭০৩. মুসলিম, ১/১১৮।
৭০৪. আত-তারগিব, ৪৩৩; ফাতহুল বারী, ১৪/৫০১।
৭০৫. নাওয়াদির উসুল; আত-তারগিব, ৪৩৩।
📄 জান্নাতে প্রবেশের নয়নাভিরাম দৃশ্য
জান্নাতের সর্বপ্রথম দরজা হলো আটটি। নেক আমলের তারতম্য অনুযায়ী মানুষ এই দরজাগুলো দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। একটি দরজার নাম হবে ‘রাইয়ান’। সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের জন্য রোযাদারদের আহ্বান করা হবে। আল্লাহর কতিপয় সৌভাগ্যবান বান্দার অবস্থা এমন হবে যে, তাঁদের সব দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য আহ্বান করা হবে। যেমন সাইয়েদুনা হযরত আবু বকর রা.।
সেটি হবে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরপুর এক দারুণ দৃশ্য। জান্নাতীরা প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হবে। পাহারাদার ফেরেশতারা জান্নাতীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে থাকবে। কুরআন কারিম এই নয়নাভিরাম দৃশ্য তুলে ধরেছে : ‘যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদের দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাকো, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।’
টিকাঃ
৭০৪. সূরা যুমার, আয়াত: ৭০-৭৪।
📄 জান্নাতের বিশালতা
পৃথিবীর কেউ-ই জান্নাতের সুবিশাল পরিসর অনুমান করতে পারবে না। আমাদের সাধারণ ধারণা প্রদানের জন্য কুরআন কারিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদু উয়িদ্দাত লিল মুত্তাকিন’ অর্থাৎ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য। মুসলিম শরিফের এক হাদিসে এসেছে, সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারীকে ১০টি পৃথিবীর সমান বিশাল জান্নাত প্রদান করা হবে।
টিকাঃ
৭০৬. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩।
৭০৭. মুসলিম, ১/১০১।
📄 কুরআনের আলোকে জান্নাতের নাজ-নেয়ামতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
জান্নাতের নেয়ামতরাজি কেমন হবে তা ধারণায় আনতেও আমাদের বিবেক অক্ষম। সেখানে এমন সব নেয়ামত থাকবে, যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো অন্তর তা কল্পনাও করেনি। কুরআন মাজিদের জান্নাতীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইরশাদ হয়েছে : ‘ফালা তা’লামু নাফসুম মা উখফিয়া লাহুম মিন ক্বুররাতি আ’ইউনিন জাযাআম বিমা কানু ইয়ামালুন’ অর্থাৎ কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।
কুরআন কারিমে জান্নাতের নেয়ামতরাজির বিবরণ এসেছে :
১. জান্নাতে এমন বাগান থাকবে, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত হবে।
২. জান্নাতের ফলগুলো দেখতে একরকম মনে হবে; কিন্তু প্রতিটির স্বাদ হবে ভিন্ন ভিন্ন। এছাড়াও রকমারি ফলও থাকবে।
৩. জান্নাতীদের স্ত্রী ও হুরগণ অপরূপ সুন্দরী, সমবয়স্কা, লজ্জাশীলা ও পাক পবিত্রা হবে।
৪. জান্নাতের প্রাসাদ ও অট্টালিকাসমূহ অত্যন্ত শানদার ও উজ্জ্বল হবে।
৫. জান্নাতী পুরুষরা মণি-মুক্তা ও স্বর্ণের কঙ্কন পরিহিত থাকবে।
৬. জান্নাতে অত্যন্ত সুস্বাদু দামি শরাব থাকবে, যা পান করলে নেশা হবে না।
৭. জান্নাতী সুদর্শন বালকরা জান্নাতীদের খাবার পরিবেশন করবে।
৮. জান্নাতে স্বচ্ছ পানির, দুধের ও পরিশোধিত মধুর নহর থাকবে।
৯. জান্নাতে মনঃপূত পাখির গোশতের ব্যবস্থা থাকবে।
টিকাঃ
৭০৮. সূরা সিজদা, আয়াত: ১৭।
৭০৯. সূরা সিজদা, আয়াত: ১৭।
৭১০. সূরা হা মিম সিজদা, আয়াত: ৩১-৩২।
৭১৩. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫।
৭১৪. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫।
৭১৫. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫; সূরা আলে ইমরান: ১৫; সূরা সফফাত, আয়াত: ৪২; সূরা আর-রহমান।
৭১৬. সূরা তাওবা, আয়াত: ৭১; সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৫২।
৭১৭. সূরা কাহাফ, আয়াত: ৩১; সূরা হজ, আয়াত: ২৩; সূরা ফাতির, আয়াত: ৩৩।
৭১৮. সূরা বাকারা, আয়াত: ৮৫-৮৭।
৭১৯. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২০. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২১. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২২. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।
৭২৩. সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫।