📄 প্রত্যেক ব্যক্তি তার পছন্দের মানুষের সাথে থাকবে
হযরত সায়িদ ইবনে যুবায়ের রা. বলেন, একবার এক আনসারী সাহাবী এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলেন যে, তার চেহারায় পেরেশানি ও অস্থিরতার ছাপ ফুটে উঠেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন, ‘কী ব্যাপার? তোমাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে?’ সাহাবী উত্তর দিলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, একটা বিষয় চিন্তা করে আমি পেরেশানিতে পড়ে গিয়েছি। এখন তো আমরা সকাল-সন্ধ্যা আপনার যিয়ারতে আসতে পারি, আপনার মজলিসে বসে উপকৃত হতে পারি। কিন্তু আখিরাতে তো আপনি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সুবিশাল জামাতের সঙ্গে উচ্চ মর্যাদায় আসীন থাকবেন (আমরা আপনার কাছে যাব কীভাবে?)’ উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুই বললেন না। তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নিম্নোক্ত আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন : ‘ওয়া মাইয়্যুতিয়িল্লাহ ওয়া রাসূলাহু ফাউলাইকা মাআল্লাযিনা আনআমাল্লাহু আলাইহিম মিনান নাবিয়্যিন ওয়াসসিদ্দিকিন ওয়াশশুহাদায়ি ওয়াসসালিহিন...’ অর্থাৎ আর যে কেউ আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন সে তাদের সঙ্গী হবে। তারা হলেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ আর তাদের সান্নিধ্যই হলো উত্তম। (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সাহাবীকে ডেকে এই আয়াতের সুসংবাদ প্রদান করলেন।
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে নামায আদায় করে কামরায় গমন করছিলেন, এমন সময় এক গ্রাম্য লোক এসে জিজ্ঞেস করল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, কিয়ামত কবে হবে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’ সে বলল, ‘আমার কাছে অনেক নামায-রোজার সওয়াব নেই। তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি।’ এই উত্তর শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ‘আলমারউ মাআ মান আহাব্বা’ অর্থাৎ প্রত্যেকের হাশর তার সঙ্গেই হবে, যাকে সে ভালোবাসে। হযরত আনাস রা. বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের পর এই সুসংবাদ শুনে আমি যতটা আনন্দিত হয়েছি অন্য কোনো সুসংবাদ শুনে এর চেয়ে বেশি আনন্দিত হইনি।’ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যবসায়ী পূর্ণ সততা ও আমানতদারীর সঙ্গে ব্যবসা করে কিয়ামতের দিন আম্বিয়া, সিদ্দিকীন, শুহাদা ও সালেহীনদের সঙ্গে তার হাশর হবে। এই হাদিসের আলোকে একথাই জানা যায়, যদি খারাপ লোকদের প্রতি কারও মহব্বত থাকে, তা হলে তাদের সঙ্গে তার হাশর হবে।
টিকাঃ
৬৬৭. সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯।
৬৬৮. তাফসীরে ইবনে কাসীর কাযেল, ৩৪৩।
📄 হাফেযে কুরআনের সম্মান
কিয়ামতের দিন হাফেযে কুরআনদের মর্যাদার শীর্ষচূড়ায় উত্তীর্ণ করা হবে। স্বয়ং কুরআনে কারিম তাদের জন্য সুপারিশ করবে। তাদের মর্যাদার মুকুট ও কাপড়ও পরিধান করানো হবে। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কুরআন কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট এসে আবেদন করবে, হে আল্লাহ, তাকে (কুরআনের হাফেযকে) একজোড়া কাপড় পরিধান করান। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মানের মুকুট পরিধান করাবেন। এরপর সুপারিশ করবে, হে আল্লাহ, তার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে এক জোড়া সম্মানের কাপড় পরিধান করাবেন। এরপর কুরআন বলবে, হে আল্লাহ, তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তখন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। এরপর হাফেযে কুরআনকে বলা হবে, তিলাওয়াত করো এবং উঁচুতে থাকো। প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে একটি নেকি বৃদ্ধি করা হবে।
টিকাঃ
৬৪৯. তিরমিযী, ২/১১৯।
📄 হাফেযে কুরআনের পিতামাতার সম্মান
কুরআনে কারিমের মাধ্যমে শুধু হাফেযে কুরআনই সম্মানিত হবে না, বরং হাশরের ময়দানে সুধীর সকল মানুষের সম্মেলনে হাফেযে কুরআনের পিতা-মাতাকেও উচ্চ মর্যাদা দান করা হবে। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং কুরআনের বিধাবলির ওপর আমল করে, তার পিতামাতাকে কিয়ামতের দিন এমন মর্যাদাপূর্ণ মুকুট পরানো হবে, যার আলো পৃথিবীর সূর্যের চেয়েও অধিক আলোকোজ্জ্বল হবে। যদি তোমাদের ঘরে এমন সূর্য থাকত, তা হলে তোমাদের কেমন ভালো লাগত? (যদি পিতামাতার এমন অবস্থা হয়) তা হলে যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করল, তার মর্যাদার ব্যাপারে তোমাদের কী ধারণা!
টিকাঃ
৬৫০. মিশকাত, ২/১১৯।
📄 হাশরের ময়দানে নুরের মিম্বর
হাশরের ময়দানে এমন একটি মুহূর্ত আসবে যে, জায়গায় জায়গায় নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে। এই মিম্বরগুলোতে সেসব লোক অবস্থান করবে, যারা একে অন্যকে শুধু আল্লাহর জন্য মহব্বত করত। তাদের মর্যাদা দেখে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও শহিদানে ইসলামও ঈর্ষান্বিত হবেন। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : ‘আল মুতাহাব্বুনা ফী জালালী লাহুম মানাবীরু মিন নুরিন ইয়াগবিতুহুমুন নাবিয়্যুনা ওয়াশ শুহাদায়ু’ অর্থাৎ আমার বড়ত্বের কারণে যারা একে অন্যকে ভালোবাসে, তারা কিয়ামতের দিন নূরের এমন মিম্বরে অবস্থান করবে, যা দেখে আম্বিয়া আলাইহিস সালাম ও শহিদানে ইসলামও ঈর্ষান্বিত হবেন।
টিকাঃ
৬৫১. ইবনে কাসীর, ৩/৪২১।