📄 সাহাবায়েকেরামের আমল সর্বাধিক বেশি হওয়ার কারণ
সাহাবায়েকেরাম সকল উম্মতের মাঝে শ্রেষ্ঠ হওয়ার এটাও একটা কারণ যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় সান্নিধ্যের কারণে তারা এমন পূর্ণ ইখলাসের অধিকারী হয়েছিলেন, যা পরবর্তী যুগে পাওয়া যায়নি। তাদের এই পূর্ণাঙ্গ ইখলাসই তাদের আমলের ওজন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে পরবর্তী কোনো উম্মতই যত বড় আমলই করুক না কেন, তাদের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারবে না। এজন্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : ‘লা তাসুব্বু আসহাবি...’ তোমরা আমার সাহাবীদের গালমন্দ করো না। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তা হলে তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ (সদকা করার) সমান সওয়াব হবে না। কাজেই যদি আমরা আমাদের আমলের ওজন বাড়াতে চাই এবং আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চাই, তা হলে সর্বদা ইখলাসকে সামনে রাখা জরুরি এবং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ইখলাস দান করুন এবং রিয়া (আত্মপ্রদর্শন) থেকে হিফাযত করুন। আমিন।
টিকাঃ
৬৪৭. বুখারী, ১/৫১৮, হাদিস নং-৩৪০৮; মুসলিম ২/৩০১৮; তিরমিযী, ২/২৫৯।
📄 কয়েকটি ভারী আমল
পূর্বে বলা হয়েছে যে, ইখলাসের ভিত্তিতে আমলের ওজন বৃদ্ধি পায়। তা যেমন আমলই হোক না কেন? এতৎসত্ত্বেও হাদিস শরিফে কয়েকটি আমলকে ভারী বলা হয়েছে :
১. এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন : ‘মা মিন শাইয়িন ইউদ্বাউ ফিল মিযানি আছক্বালা মিন খুলুকিন হাসানিন...’ উত্তম আচরণের চেয়ে ভারী কোনো জিনিস মিযানের পাল্লায় রাখা হবে না। উত্তম আচরণের অধিকারী ব্যক্তি নামায ও রোযা আদায়কারীর মর্যাদায় অবশ্যই পৌঁছে যায়। বাস্তবই সদ্ব্যবহার ও শিষ্টাচার এমন গুণ, যা মানুষকে দুনিয়া-আখিরাত উভয় জীবনে সম্মানিত করে এবং মর্যাদার উচ্চ আসনে সমাসীন করে। এক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সদ্ব্যবহারের গুণে গুণান্বিত ব্যক্তির সম্পর্কে আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত যে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে আরশের ছায়ার নিচে আশ্রয় দেব এবং তাকে আমি আমার নেকট্যশীল বান্দা হিসেবে গ্রহণ করব।’
২. অনুরূপ তাসবিহ ও তাহলিলের শব্দাবলি আল্লাহর নিকট খুব দামী ও ভারী। বুখারী শরীফের শেষ হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন : ‘কালিমাতানি হাবিবাতানি ইলার রহমান, খফিফাতানি আলাল লিসান, ছাক্বিলাতানি ফিল মিযান...’ (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম)। দুটি কালিমা (বাণী) রয়েছে যেগুলো দয়াময় আল্লাহর কাছে খুব প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ, (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী।
অন্য এক রেওয়ায়েত থেকেও জানা যায়, কোনো মানুষের ওপর কেউ মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে সে এর দরুন যে কষ্ট পাবে, তা তাকে আল্লাহর রহমতের যোগ্য বানিয়ে দেবে এবং তার নেকির পাল্লাকে ভারী করে দেবে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে : কিয়ামতের দিন বান্দাকে হাজির করা হবে। অতঃপর মিযানের এক পাল্লায় তার পুণ্য, অপর পাল্লায় তার গুনাহ তোলা হলে গুনাহের পাল্লা ভারী হবে। অতঃপর একটি চিরকুট আসবে। তা নেকির পাল্লায় রাখা হলে নেকির পাল্লা ভারী হবে। বান্দা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে, হে আল্লাহ, এটা কিসের চিরকুট? তাকে বলা হবে, এটা সেই অপবাদ, যা তোমার ওপর আরোপ করা হয়েছিল অথচ তুমি তা থেকে মুক্ত ছিলে। অতঃপর এর মাধ্যমে সে মুক্তি পাবে। একটু ভেবে দেখুন! পবিত্র ব্যক্তির প্রতি আরোপিত মিথ্যা অপবাদ যদি তার জন্য রহমত বয়ে আনে, তা হলে মিথ্যা অপবাদদাতার জন্য এই গুনাহ কত ভারী হবে? এ বিষয়ে হযরত আলী রা. বলেন : ‘আল বুহতানু আলাল বারিই আছক্বালা মিনাস সামাওয়াতি’ অর্থাৎ পবিত্র ব্যক্তির প্রতি আরোপিত অপবাদ সকল আসমানের চেয়ে বেশি ভারী।
টিকাঃ
৬৪৮. তিরমিযী, ২/২০, হাদিস নং-২০০৪।
৬৪৯. আল-মুতাযকিরুন জাহির, ২৭০।
৬৫০. বুখারী, ২/১১১৯, হাদিস নং-৭৫০৪।
৬৫১. নওয়াদিরুল উসুল, ১/১১০।
৬৫২. নওয়াদিরুল উসুল, ১/১১০।