📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 সর্বপ্রথম কোন্ জিনিসের হিসাব নেওয়া হবে

📄 সর্বপ্রথম কোন্ জিনিসের হিসাব নেওয়া হবে


দুনিয়াবী মুয়ামালাত ও পার্থিব হকের মধ্যে হতে সর্বপ্রথম অন্যায় হত্যার হিসাব নেওয়া হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আউওয়ালু মা ইউক্বদ্বা বাইনাস নাসি ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি ফিদ্দামায়ি’ অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম অন্যায় রক্তপাতের বিচার করা হবে। ৬৩০

এক হাদিসে এসেছে, নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে টেনে-হেঁচড়ে আরশের সামনে এনে দাঁড় করাবে এবং বলবে, ‘হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক, তাকে জিজ্ঞেস করুন, কেন সে আমাকে হত্যা করেছিল?’ অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যদি আসমান-জমিনের সকলে মিলে কোনো একজন মুসলমানকে হত্যা করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে হত্যার ব্যাপারে সহযোগিতা করে, এমনকি সে যদি একটি মাত্র শব্দ দ্বারাও অংশ নেয়, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার কপালে লেখা থাকবে— সে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত। ৬৩১

টিকাঃ
৬৩০. ইবনে কাসির, ৩৪৬।
৬৩১. ইবনে কাসির, ৩৪৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 নামাযের হিসাব

📄 নামাযের হিসাব


ইবাদতের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। এক হাদিসে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আউওয়ালু মা ইউহাসাবু বিহিল আবদু ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি আস-সালাতু...’ অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষের নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যদি নামাজের হিসাব যথাযথ সঠিক হয়, তাহলে তার অন্যান্য আমলও সঠিক পাওয়া যাবে। আর যদি নামাজ ঠিক না থাকে, তাহলে বাকি আমলও সঠিক থাকবে না। ৬৩২

নামাযকে দীনের স্তম্ভ বলা হয়েছে। বিনা ওজরে নামায ত্যাগকারীকে কাফের ও মুনাফিকদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কাজেই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হলো নামাযের পাবন্দ হওয়া এবং পরিবার-পরিজন সবাইকে নামাযে অভ্যস্ত করা।

টিকাঃ
৬৩২. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ১/১৫০।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 জুলুম-অত্যাচার ও অধিকার খর্বের প্রতিদান

📄 জুলুম-অত্যাচার ও অধিকার খর্বের প্রতিদান


হাশরের ময়দানে কেউ রেহাই পাবে না; জুলুমের বদলা দিতেই হবে। সেখানে জালিমের নেকি ও পুণ্যগুলো মজলুম ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে এবং যখন জালিমের নেকি ফুরিয়ে যাবে, তখন মজলুমের গুনাহগুলো জালিমের মাথায় চাপানো হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :

‘মান কানাত লাহু মাজলামাতুন লিআখীহি...’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের মানহানি করে কিংবা সম্পদ আত্মসাৎ করে তার ওপর জুলুম করেছে, সে যেন সেই দিন আসার পূর্বে তার সাথে মীমাংসা করে নেয়, যেদিন দিনার বা দিরহাম কোনো কাজে আসবে না, বরং জালিমের নেকি থেকে মজলুমের হক আদায় করা হবে। আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে, তবে মজলুম ভাইয়ের গুনাহ তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে। ৬০১

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সাহাবায়েকেরামকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন ব্যক্তিকে দেউলিয়া মনে করো? সাহাবায়েকেরাম আরজ করলেন, যে ব্যক্তির কাছে টাকাপয়সা থাকে না। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মাঝে দেউলিয়া হলো ঐ ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদি নেক আমল নিয়ে আসবে। কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারও রক্তপাত ঘটিয়েছে। ফলে সেসকল ব্যক্তিকে তার পুণ্যসমূহ দিয়ে দেওয়া হবে। তার পুণ্য ফুরিয়ে গেলে তাদের গুনাহগুলো তার ওপর চাপানো হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ৬০২

ইবনে মাজাহ শরিফে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আবিসিনিয়ার এক বৃদ্ধা দুষ্ট বালকদের সম্পর্কে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘সেদিন তোমরা দেখবে যখন আল্লাহ বিচারকার্য কায়েম করবেন এবং মানুষের হাত-পা তার কৃতকর্ম বর্ণনা করবে।’ একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সে সত্য বলেছে। আল্লাহ তায়ালা সেই জাতিকে কীভাবে পবিত্র করবেন, যারা নিজেদের দুর্বলদের পক্ষে শক্তিমানদের থেকে হিসাব গ্রহণ করে না।’ ৬০৩

টিকাঃ
৬০১. বুখারী, ১/৩১, হাদিস নং-৩৩৯।
৬০২. মুসলিম, ১/৩২০।
৬০৩. ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-২৪৪৩।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অন্যায়ভাবে জমি আত্মসাৎকারীদের পরিণাম

📄 অন্যায়ভাবে জমি আত্মসাৎকারীদের পরিণাম


বিশেষত জমি আত্মসাৎকারীদের সম্পর্কে সহিহ হাদিসে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে :

‘মান ইক্বতাতাআ শিবরান মিনাল আরদ্বি জুলমান তাওয়াক্কাহুল্লাহু ইয়্যাহু ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি মিন সাব’ই আরাদ্বীন’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি আত্মসাৎ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার গলায় সাত তবক জমিন পরিয়ে দেবেন। ৬০৪

মুহাদ্দিসীনে কেরাম উক্ত হাদিসের কয়েকটি ব্যাখ্যা করেছেন : ১. তাকে সাত জমিনের মাটি বহনের নির্দেশ দেওয়া হবে। ২. সাত জমিন দ্বারা মালা তৈরি করে তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে। ৩. তাকে দখলকৃত জমি সাত জমিন নিচ পর্যন্ত খনন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। ৪. অন্যায়ভাবে জমি দখলের শক্তি তার গর্দানে চাপিয়ে দেওয়া হবে। ৬০৫

আক্ষেপের বিষয় হলো, বর্তমানে মুসলমানরা অতি তুচ্ছ বিষয়াদি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমায় লিপ্ত হয়। কিয়ামতের দিন যখন এই মামলা অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হবে, তখন সবার চোখ খুলে যাবে।

টিকাঃ
৬০৪. মুসলিম, ২/৩২১।
৬০৫. শরহুল মুসলিম লিন নববী, ২/৮৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px