📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 শাফায়াতের প্রকারভেদ

📄 শাফায়াতের প্রকারভেদ


প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ কাজী ইয়ায রহ. বলেন, শাফায়াত পাঁচ প্রকার :
১. হাশরের ময়দানে বিপন্ন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার ও হিসাব-নিকাশ শুরু করানোর শাফায়াত। এই প্রকার শাফায়াতের কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই অধিকার রাখেন।
২. বিনা হিসাবে অসংখ্য মুমিনকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর সুপারিশ। এটাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট।
৩. এমন ঈমানদারদের জন্য শাফায়াত, যাদের জাহান্নামী হওয়ার যোগ্যতা হয়ে গেছে কিন্তু তখনও তারা জাহান্নামে প্রবেশ করেনি।
৪. বদ আমলের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, এমন মুমিনদের জন্য সুপারিশ। এসব মুমিনকে ক্রমানুসারে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, ফেরেশতা এবং অন্যান্য মুমিনদের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
৫. জান্নাতিদের মর্যাদা বৃদ্ধির সুপারিশ।

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. উপর্যুক্ত প্রকারসমূহ ব্যতীত আরও চার প্রকার সুপারিশের কথা উল্লেখ করেছেন :
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চাচা আবু তালেবের জন্য শাস্তি লঘুকরণের সুপারিশ।
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সর্বপ্রথম উম্মতে মুহাম্মাদীকে জান্নাতে প্রবেশের সুপারিশ।
৩. আরাফবাসী তথা যে-সকল লোকের নেকি ও গুনাহ বরাবর, তাদের জান্নাত প্রদানের সুপারিশ।
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঐ ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করা, যে ব্যক্তি কেবল কালিমা পাঠ করেছে, কিন্তু জীবনে কখনও কোনো নেক আমল করেনি।

সুতরাং সুপারিশ মোট ৯ প্রকার। প্রথমে শাফায়াতে কুবরা হবে। এরপর হিসাব-নিকাশ, আমলের ওজন ইত্যাদি ঘাঁটির মুখোমুখি হতে হবে। এরপর জান্নাতীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামীদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সবশেষে গুনাহগারদের জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন। ৬২৬

টিকাঃ
৬২৬. ফাতহুল বারী, ১৪/৫০৫-৫০৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px