📄 রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতে কুবরা
হাশরের ময়দানে দীর্ঘ ভয়াবহ অবস্থার কারণে মানুষ অস্থির হয়ে উঠবে। সকলেই দ্রুত হিসাব-নিকাশ শেষ করে নিজ নিজ ঠিকানায় পৌঁছার এবং অপেক্ষার পালা শেষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। তাই তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে সুপারিশ করার জন্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের খুঁজতে থাকবে। সর্বশেষ তারা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আবেদন করবে :
‘ইয়া মুহাম্মাদ! আনতা রাসূলুল্লাহি ওয়া খাতামুল আম্বিয়াই... ইশফা’ লানা ইলা রাব্বিকা...’ অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ, আপনি আল্লাহর রাসূল, সর্বশেষ নবী, আল্লাহ তায়ালা আপনার পূর্বের এবং পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করেছেন। আপনি আপনার প্রতিপালকের দরবারে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থায় আছি? আমরা কষ্টের কোন সীমায় পৌঁছেছি? ৬২৩
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং আরশে আজিমের নিচে গিয়ে আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়বেন। দীর্ঘদিন যাবৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করবেন :
‘ইয়া মুহাম্মাদ! ইরফা’ রা’সাকা, সাল তু’তাহ, ইশফা’ তুষাফ্ফা’ অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ, মাথা তুলুন। প্রার্থনা করুন, আপনার প্রার্থনা কবুল করা হবে। সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। ৬২৪
হিসাব-নিকাশ শুরু করানোর সুপারিশই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বোচ্চ ‘মাকামে মাহমুদ’ (প্রশংসিত স্থান), যার আলোচনা সূরা বনি ইসরাঈলে এভাবে এসেছে :
عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
হয়তো বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ‘মাকামে মাহমুদে’ পৌঁছাবেন। ৬২৫
টিকাঃ
৬২৩. মুসলিম, ১/১১৮।
৬২৪. ফাতহুল বারী, ১৪/৫৩৫।
৬২৫. সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯।
📄 শাফায়াতের প্রকারভেদ
প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ কাজী ইয়ায রহ. বলেন, শাফায়াত পাঁচ প্রকার :
১. হাশরের ময়দানে বিপন্ন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার ও হিসাব-নিকাশ শুরু করানোর শাফায়াত। এই প্রকার শাফায়াতের কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই অধিকার রাখেন।
২. বিনা হিসাবে অসংখ্য মুমিনকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর সুপারিশ। এটাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট।
৩. এমন ঈমানদারদের জন্য শাফায়াত, যাদের জাহান্নামী হওয়ার যোগ্যতা হয়ে গেছে কিন্তু তখনও তারা জাহান্নামে প্রবেশ করেনি।
৪. বদ আমলের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, এমন মুমিনদের জন্য সুপারিশ। এসব মুমিনকে ক্রমানুসারে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, ফেরেশতা এবং অন্যান্য মুমিনদের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
৫. জান্নাতিদের মর্যাদা বৃদ্ধির সুপারিশ।
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. উপর্যুক্ত প্রকারসমূহ ব্যতীত আরও চার প্রকার সুপারিশের কথা উল্লেখ করেছেন :
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চাচা আবু তালেবের জন্য শাস্তি লঘুকরণের সুপারিশ।
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সর্বপ্রথম উম্মতে মুহাম্মাদীকে জান্নাতে প্রবেশের সুপারিশ।
৩. আরাফবাসী তথা যে-সকল লোকের নেকি ও গুনাহ বরাবর, তাদের জান্নাত প্রদানের সুপারিশ।
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঐ ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করা, যে ব্যক্তি কেবল কালিমা পাঠ করেছে, কিন্তু জীবনে কখনও কোনো নেক আমল করেনি।
সুতরাং সুপারিশ মোট ৯ প্রকার। প্রথমে শাফায়াতে কুবরা হবে। এরপর হিসাব-নিকাশ, আমলের ওজন ইত্যাদি ঘাঁটির মুখোমুখি হতে হবে। এরপর জান্নাতীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামীদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সবশেষে গুনাহগারদের জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন। ৬২৬
টিকাঃ
৬২৬. ফাতহুল বারী, ১৪/৫০৫-৫০৬।