📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 নবীগণ নিজ নিজ উম্মতদের কীভাবে চিনবেন?

📄 নবীগণ নিজ নিজ উম্মতদের কীভাবে চিনবেন?


একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাউজে কাউসারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছিলেন। বক্তৃতাকালে একথাও বলেন, আমি সেদিন হাউজে কাউসারের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যান্য উম্মতকে এমনভাবে তাড়াব, যেমন মানুষ গবাদি পশুকে পানি পান করানোর সময় অন্য কোনো পশু এসে ভিড় করলে তাড়িয়ে দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথা শুনে সাহাবায়েকেরাম বিস্মত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, সেদিন কি আপনি আমাদের চিনতে পারবেন? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ শুনিয়ে বলেন :

‘না’আম লাকুম সিমান লাইসা লিআহাদিন মিনাল উমামি তুরিদুনা আলাল গুররা মুহাজ্জালীন মিন আছরিল উযু’ অর্থাৎ হ্যাঁ, তোমাদের এমন নিদর্শন হবে, যা অন্য কারও হবে না। তোমরা এমন অবস্থায় আমার নিকট আসবে যে, তোমাদের ওজুর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। ৩১৭

উপরিউক্ত হাদিস থেকে জানা যায়, গুরুত্বের সঙ্গে অধিক পরিমাণ ওজু করা হাশরের ময়দানে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণ হবে এবং ওজুর অঙ্গ দেখেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের চিনবেন।

টিকাঃ
৩১৭. মুসলিম, হাদিস নং-২৪৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হাউজে কাউসারের পানি পান করে সর্বপ্রথম যিনি তৃপ্ত হবেন

📄 হাউজে কাউসারের পানি পান করে সর্বপ্রথম যিনি তৃপ্ত হবেন


ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক উম্মতই হাউজে কাউসারের পানি পান করে তৃপ্ত হবে। তবে যে-সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সর্বপ্রথম হাউজে কাউসারের পানি পান করবেন, তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

‘আউয়ালুন নাসি উরূদান আলাইহি ফুকারাউল মুহাজিরীন আশ্-শু’ছু রুউসান আল-দুনুসু ছিয়াবান আল্লাযীনা লা ইয়ানকিহুনাল মুন’আমতি ওয়া লা তুফতাহু লাহুমু আবওয়াবুল ক্বসুর’ অর্থাৎ গরিব মুহাজির সাহাবীরা সর্বপ্রথম হাউজে কাউসারে অবতরণ করবে। যাদের চুল হবে উসকোখুসকো, কাপড় হবে ময়লা; যারা ধনী দুলালীদের বিয়ে করতে পারে না এবং যাদের জন্য রাজপ্রাসাদের দরজা খোলে না। ৩১৮

অর্থাৎ তাদের অসহায়ত্ব দেখে বিলাসী নারীরা তাদের বিয়ে করতে রাজি হয় না। তারা কারও দরজায় গেলে মানুষ তাদের জন্য দরজা খোলে না। পৃথিবীতে তো তাদের এমন অসহায় অবস্থা হবে। কিন্তু আখিরাতে তারা এমন সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবেন যে, সর্বপ্রথম তাদের হাউজে কাউসারে ডাকা হবে। এ হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।

টিকাঃ
৩১৮. তিরমিযী, ২/৭০১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আমলহীন ও বিদআতী লোককে হাউজে কাউসার থেকেড়িয়ে দেওয়া হবে

📄 আমলহীন ও বিদআতী লোককে হাউজে কাউসার থেকেড়িয়ে দেওয়া হবে


হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, হাশরের ময়দানে পানি পান করানোর জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে। কোনো কাফের বা মুশরিক ব্যক্তি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের হাতে পানি পান করার সুযোগ পাবে না। ৩১৯

তাই হাউজে কাউসারেও বিপুল সংখ্যক ফেরেশতা প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। এমন ঘটনাও ঘটবে যে, কিছু মানুষ বাহ্য দৃষ্টিতে মুসলমান বলে মনে হবে। তারা পিপাসার তাড়নায় হাউজে কাউসারের দিকে রওনা শুরু করলে ফেরেশতা তাদের দূর থেকে বাধা প্রদান করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখে ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, ‘এরা তো আমার মানুষ (তাদের কেন বাধা দিচ্ছ)?’ ফেরেশতারা উত্তর দেবে, ‘হযরত, আপনি জানেন না, যে তারা আপনার পর কী কী (খারাপ কাজ) করেছে?’ একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তাড়িয়ে দেবেন। এক হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :

‘আনা ফারাতুকুমান আলাল হাউজি মান ওয়ারাদা শারিবা ওয়ামান শারিবা লাম ইয়াযমা আবাদান...’ অর্থাৎ আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের পূর্বে অবতরণ করব (এবং তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব)। যে ব্যক্তি সেখানে আসবে, সে পান করবে। আর যে ব্যক্তি পান করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না। আমার সামনে এমন কিছু লোক আসবে, যাদের আমি চিনব, তারাও আমাকে চিনবে। অতঃপর তাদের ও আমার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি হবে। আমি বলব, তারা তো আমার দলভুক্ত। ফেরেশতারা বলবে, আপনি জানেন না, আপনার তিরোধানের পর তারা কী করেছে? অতঃপর আমি বলব, আমার পরে যারা আমার দীনকে পরিবর্তন করেছে, তারা ধ্বংস হোক। ৬২০

আল্লামা কুরতুবী রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘আমাদের উলামায়েকেরামের অভিমত হলো, যে ব্যক্তি মুরতাদ হবে অথবা দীনের বিষয়ে কোনো বিদআতী কর্মকাণ্ডের প্রচলন ঘটাবে, সে কিয়ামতের দিন হাউজে কাউসারের পানি পান থেকে বঞ্চিত হবে এবং তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা মুসলমানদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে এবং মুসলমানদের রাস্তা ছেড়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে—যেমন: খারেজী, রাফেজী ও মুতাজেলীদের মতো ভ্রষ্ট দল, এবং যারা দীনের মধ্যে পরিবর্তন সৃষ্টির প্রয়াস চালায়, তাদের সর্বাধিক কঠোরভাবে হাউজে কাউসার থেকে তাড়ানো হবে। অনুরূপ সেসব জালেম বাদশাহকেও হাউজে কাউসারের পানি থেকে বঞ্চিত করা হবে, যারা আহলে হক্বের ওপর জুলুম করেছে, তাদের ধোঁকা দিয়েছে, তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং প্রজাদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার করেছে। এছাড়া প্রকাশ্য গুনাহে অভ্যস্ত ব্যক্তিরাও হাউজে কাউসারের পানি পান থেকে বঞ্চিত হবে, যারা খোদায়ী বিধানকে তুচ্ছ মনে করেছে। ৬২১

টিকাঃ
৩১৯. আত-তাজকিরা, ৬৪৮।
৬২০. মুসলিম, ২/২৪৯।
৬২১. আত-তাযকিরা, ৩৫২।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 একটি প্রশ্নের উত্তর

📄 একটি প্রশ্নের উত্তর


এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয় : হাদিসের ব্যাখ্যা থেকে তো জানা যায়, প্রত্যেক ঈমানদার বান্দাই হাউজে কাউসারের পানি পান করবে এবং যে একবার পান করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না। আর একথা স্পষ্ট যে, এই ঘটনা পুলসিরাত গমনের পূর্বে ঘটবে। অর্থাৎ হাউজে কাউসারের পানি পান করার পরও কতিপয় গুনাহকারী ব্যক্তির ব্যাপারে জাহান্নামের ফায়সালা হবে এবং পুলসিরাত অতিক্রমকালে তারা জাহান্নামে পতিত হবে। তাহলে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়ার পরও কি তারা পিপাসার্ত হবে না? আলোচ্য প্রশ্নের উত্তরে হাদিসের ব্যাখ্যাতাগণ বলেন, ‘যেসব কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং তারা হাউজে কাউসারের পানিও পান করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের জাহান্নামে পিপাসার্ত না করে অন্য পন্থায় শাস্তি দেবেন। হাউজে কাউসারের পানি পান করার কারণে জাহান্নামে পিপাসার আযাব থেকে তারা হেফাযতে থাকবে। ৬২২

টিকাঃ
৬২২. আত-তাযকিরা, ৩৫৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px