📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম পোশাক পরিধানকারী

📄 হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম পোশাক পরিধানকারী


বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বয়ান করেন : তোমাদের নগ্ন পায়ে, বিবস্ত্র ও খতনাহীন অবস্থায় একত্র করা হবে। (কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে) ‘আমরা প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব’। আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কাপড় পরিধান করানো হবে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালামকে।

আরেক বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের দিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দুটি কিবতী পোশাক পরিধান করানো হবে। অতঃপর তিনি আরশে আযীমের ডান পার্শ্বে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

উলামায়ে কিরাম বলেন, ‘নমরুদ যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপের হুকুম দেয়, তখন তাঁকে বিবস্ত্র করা হয়েছিল। সেই দিনের প্রতিদানস্বরূপ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তাঁকে পোশাক পরিধান করানো হবে।’ আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের কারণে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান হন না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেদিন যে পোশাক পরানো হবে, তা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাপড়ের চেয়ে অধিক শানদার হবে। যদিও সর্বপ্রথম পরিধান করানোর মর্যাদা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম লাভ করবেন, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক অধিক শানদার হওয়া তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।

টিকাঃ
৯০৭. বুখারী, ২/৯৬৭, হাদিস নং-৬৫২২।
৯০৮. ফাতহুল বারী, ১৪/৪৮৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হাশরের ময়দানে ঘামের স্রোত

📄 হাশরের ময়দানে ঘামের স্রোত


হাশরের ময়দানে ভয়াবহ দৃশ্যাবলির মধ্যে একটা দৃশ্য হলো, সেদিন প্রত্যেক মানুষ নিজের বদ আমলের পরিমাণ ঘামে হাবুডুবু খাবে। সেদিন এত বেশি ঘাম বের হবে যে, হাশরের জমিনের সত্তর হাত নিচ পর্যন্ত ঘাম প্রতীয়মান হবে। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষের ঘাম বের হবে। এমনকি তাদের ঘাম জমিনের সত্তর হাত ছাড়িয়ে যাবে এবং ঘাম লাগামের মতো এঁটে থাকবে এমনকি কান পর্যন্ত পৌঁছাবে।’

মুসলিম শরীফে হযরত মিকদাদ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের খুব কাছে চলে আসবে। এমনকি তা এক মাইল দূরত্বে অবস্থান করবে। মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে হাবুডুবু খাবে। কারও টাখনু পর্যন্ত ঘাম হবে, কারও হবে হাঁটু পর্যন্ত। কারও পিঠ পর্যন্ত। আবার কারও কারও ঘাম মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।’ এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মুখের দিকে ইশারা করেন।

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, একই ময়দানে—যেখানে মানুষ কেবল পা রাখার স্থান পাবে—প্রত্যেকে নিজের বদ আমলের পরিণাম অনুযায়ী ঘামে ডুবতে থাকবে। এই ভয়াবহ দিনে আল্লাহর কিছু প্রিয় বান্দা এমন থাকবেন, সামান্য পরিমাণ সূর্যের তাপও যাঁদের গায়ে লাগবে না, সেদিন তাঁরা পূর্ণ নিরাপদে থাকবেন। এক হাদিসে এসেছে, সেদিন সূর্যের তাপে মুমিন নারী-পুরুষ কষ্ট পাবে না। উক্ত হাদিসে মুমিন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি। যেমন : আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, সিদ্দীকিন ও শোহাদা। তাঁরা হাশরের ময়দানে সামান্য কষ্টও করবেন না।

টিকাঃ
৯০৯. বুখারী, ২/৯৬৭, হাদিস নং-৬৫২১।
৩০৬. মুসলিম, ২/৩৮৪; আতি-তারগীব ওয়াত তারহিব, ৪/২০৯।
৩০৭. ফাতহুল বারী, ১৪/৪৮৩।
৩০৮. ফাতহুল বারী, ১৪/৪৮৩; আত-তারগীব ওয়াত-তারহিব, ২৭৫-৩৭৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হাশরের দিনের দীর্ঘতা

📄 হাশরের দিনের দীর্ঘতা


হাশরের দিন দুনিয়ার সাধারণ দিনের মতো হবে না, বরং সেই দিন দুনিয়ার দিনের ৫০ হাজার বছরের সমান হবে। হাশরের দিন এত দীর্ঘ হওয়ার কারণে কাফের-মুশরিক ও বদ আমলওয়ালা লোকদের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হতে থাকবে এবং তাদের জন্য দিন ফুরাতেই চাইবে না। কিন্তু মহান আল্লাহর করুণা দেখুন! এই বিশাল দিনটি মুমিনদের জন্য এক ফরজ নামাজের ওয়াক্তের মতো মনে হবে। মুসনাদে আহমদে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মুমিনদের জন্য এত সহজ হালকা হবে যে, তা এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মতো হবে। তাবরানী শরিফে একটি রেওয়াততে এসেছে, মুমিনদের জন্য কিয়ামতের দিনটি দুনিয়ার দিনের একটি ছোট থেকে ছোট প্রহরের মতো মনে হবে। নেককার ও মুমিন বান্দাগণ সেদিন এত শান্তিতে থাকবে যে, তারা বুঝতেও পারবে না দিন কীভাবে কেটে গেল। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন আমাদের হাশরের দিন এমন শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
৩০৯. তাফসিরে ইবনে কাসির কামেল, ১০৭৮।
৩১০. ফাতহুল বারী, ১৪/৪৮৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px