📄 কোন লোকদের উপর কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে?
কিয়ামত কায়েম হওয়ার সময় ভূপৃষ্ঠে 'আল্লাহ আল্লাহ' বলার মতো কেউ থাকবে না। গোটা বিশ্ব কুফর ও শিরকে ছেয়ে যাবে। এমনকি জাহেলী যুগের মতো আরবেও ব্যাপকহারে মূর্তিপূজা শুরু হবে। মানুষ জীবজন্তুর মতো প্রকাশ্যে অপকর্মে লিপ্ত হবে। আল্লামা মারওয়াযী রহ. কিতাবুল ফিতানে এই অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ এভাবে তুলে ধরেছেন : যারা সিরিয়ায় একত্র করা হবে, তাদের অবস্থা হলো, তারা হক ও ফরজ বলতে কোনো কিছু জানবে না। আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নত অনুসারে আমল করবে না। তাদের কাছ থেকে লজ্জা-পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদাবোধ ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তাদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে। স্বামী-স্ত্রীকে এবং স্ত্রী আপন স্বামীকে চিনবে না। মানুষ ও জিন জাতি একশ বছর পর্যন্ত প্রকাশ্যে জনসম্মুখে কুকুর ও গাধার মত সহবাস করবে। পুরুষরা সমকামিতায় লিপ্ত হবে ও মূর্তিপূজা শুরু করবে। আল্লাহকে ভুলে যাবে। তাঁকে বিন্দুমাত্র চিনবে না; এমনকি একজন আরেকজনকে বলবে, আসমানে কোনো মাবুদ নেই। তারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মাঝে সর্বনিকৃষ্ট জাতি হবে।
তারপর হঠাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে। তখন কোনো কাজের জন্য এক সেকেন্ড সময়ও পাওয়া যাবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বলো, এ ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে? বলুন, তোমাদের জন্য একটি দিনের ওয়াদা রয়েছে যাকে তোমরা এক মুহূর্তও বিলম্বিত করতে পারবে না আর ত্বরান্বিত করতেও পারবে না।’
বুখারী শরিফের এক রেওয়ায়েতে এসেছে, কিয়ামত সংঘটিত হবে এ অবস্থায় যে, দুই ব্যক্তি (কেনা-বেচার জন্য) পরস্পরের সামনে কাপড় ছড়িয়ে রাখবে। কিন্তু তারা বেচা-কেনার সময় পাবে না। এমনকি তা ভাঁজ করারও অবকাশ পাবে না। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, কোনো ব্যক্তি তার উটনীর দুধ দোহন করে ফিরে আসার পর সে তা পান করার অবকাশ পাবে না। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, কোনো ব্যক্তি তার উটকে পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে চৌবাচ্চা তৈরি করবে। কিন্তু সে ও থেকে পানি পান করানোর সুযোগ পাবে না। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, কোনো ব্যক্তি তার মুখ পর্যন্ত লোকমা ওঠাবে কিন্তু সে তা খেতে পারবে না।
টিকাঃ
৫৫২. কিতাবুল ফিতান, ২৯০১।
৫৫৩. সূরা সাবা, আয়াত: ২৯-৩০।
৫৫৪. বুখারী, ২/৯৬৯, হাদিস নং-৬৫০৬।
📄 যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর এক ফেরেশতা ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার জন্য নিয়োজিত রেখেছেন। হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার জন্য শুধু আল্লাহর ইশারার অপেক্ষায় আছেন। এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারি, অথচ শিঙ্গা ফুঁকবার দায়িত্ববান ফেরেশতা শিঙ্গা মুখে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় কান পেতে রয়েছে।’
অতএব যখন নির্ধারিত সময় আসবে এবং হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে শিঙ্গায় প্রথমবার ফুঁ দেবেন, তখন শিঙ্গার বিকট আওয়াজে প্রত্যেক ব্যক্তি বেহুঁশ হয়ে যাবে। গর্ভবতী নারীরা ভয়ে গর্ভপাত করে ফেলবে। স্তনদানকারী মা নিজের দুধের শিশুকে ভুলে যাবে। আসমান ফেটে যাবে। পাহাড়গুলো মূলত উপড়ে থাকবে। চাঁদ-সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে। মোটকথা, বিশ্ব-ব্যবস্থাপনা ওলট-পালট হয়ে যাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে—একটি মাত্র ফুৎকার এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে, সেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।’
সেদিন আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিনকে নিজের কুদরতী হাতে তালুবদ্ধ করে বলবেন, ‘আমিই বাদশাহ! দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?’ এরপর দীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত গোটা পৃথিবী বিরান অবস্থায় থাকবে।
টিকাঃ
৫৫৫. তিরমিযী, ৫/৬৯; ফাতহুল বারী, ১৪/৪৪৪।
৫৫৬. সূরা হাক্কা, আয়াত : ১৩-১৬।
৫৫৭. বুখারী, ৬/২৬৯২, হাদিস নং-৬৯৮৬।
৫৫৮. ফাতহুল বারী, ১৪/৪৪৯।