📄 ঈসালে সওয়াব
দ্বিতীয় যে বস্তুটির মাধ্যমে মানুষ কবরে সওয়াব পায় তা হলো অন্যের পক্ষ থেকে পাঠানো সওয়াব। জীবদ্দশায় মানুষ যেমন হাদিয়া-তোহফার মাধ্যমে উপকৃত হয়। অনুরূপ কবরেও কেউ রূহানী হাদিয়া পেয়ে আনন্দিত হয়। মৃত ব্যক্তি দান-সদকা, দোয়া ও হজের সওয়াব পায়। এ ব্যাপারে উলামায়েকেরাম একমত পোষণ করেন। ৮৬৯ এ বিষয়ে অনেক সহিহ হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। এসকল হাদিসের আলোকে হানাফী উলামায়েকেরাম ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, অন্যান্য ইবাদত—যেমন : নামায, রোযা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির সওয়াবও মৃতের নিকট পৌঁছে। ৮৭০
আল্লামা শামী রহ. আল-বাহরুর রায়েক ও বাদাউইহুস সানায়ি থেকে বর্ণনা করেন : ‘রোযা, নামায ও সদকা আদায় করে এর সওয়াব জীবিত বা মৃত কারও জন্য অর্পণ করা জায়েয। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতে এর সওয়াব তাদের নিকট পৌঁছে।’ ৮৭১
সর্বদা মৃতকে সওয়াব পৌঁছানোর চিন্তা করা দরকার। এর জন্য সময় বা আমল নির্দিষ্ট না করা চাই। সুযোগ পাওয়া গেলেই বা প্রয়োজন পড়লেই ঈসালে সওয়াবের নিয়ত করবে। হাদিসে এসেছে, হযরত সাআদ ইবনে উবাদা রা.-এর মায়ের ইনতিকাল হলে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার আম্মাজান ইনতিকাল করেছেন। তাঁর জন্য কোন সদকা উত্তম হবে? তিনি উত্তর দিলেন, পানি (অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য পানির ব্যবস্থা করা হোক)। ফলে সাআদ ইবনে উবাদা রা. একটি কূপ খনন করলেন এবং ঘোষণা করলেন, এর সওয়াব তার মায়ের জন্য উৎসর্গীকৃত।
এমনিভাবে প্রয়োজন হলেই ঈসালে সওয়াব করবে। বর্তমানে মূর্খ সমাজ ঈসালে সওয়াবের যেসব পন্থা আবিষ্কার করেছে, শরীয়তেও এগুলোর প্রমাণ পাওয়া যায় না। মৃত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠান পালনের যে রীতি প্রচলিত রয়েছে তা নিঃসন্দেহে বিদআত। এগুলো পরিহার করা উচিত। ঈসালে সওয়াবে দিন-ক্ষণ নির্ধারিত করা এবং এটাকে বাধ্যতামূলক মনে করা অনুচিত। কতিপয় মাশায়েখে ইজাম ও উলামায়েকেরাম কবরের পাশে বিভিন্ন সূরা—যেমন : সূরা ইয়াসিন, ফাতেহা, ইখলাস, তাকাছুর ইত্যাদি তিলাওয়াত করে ঈসালে সওয়াব করার শিক্ষা দিয়েছেন। তবে ঈসালে সওয়াবের জন্য এই সূরাগুলোকে নির্ধারণ করা জরুরি নয়; বরং যেকোনো সূরা পড়ে ঈসালে সওয়াব করা যায়।
টিকাঃ
৮৬৯. নববী শরহে মুসলিম, ১/১০১।
৮৭০. শরহে ফিকহুল আকবার, ২২৩-২২৬।
৮৭১. শামী, ৩/১৪২।