📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ফরজ গোসল ত্যাগের শাস্তি

📄 ফরজ গোসল ত্যাগের শাস্তি


হযরত আবান ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী রহ. বলেন, 'আমাদের এক প্রতিবেশী মারা গেলে আমরা তার কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু তাকে কবরে রাখার সময় দেখি বিড়ালের মতো একটি প্রাণী তার কবরে বসে আছে। লোকজন চেষ্টা করেও প্রাণীটাকে তাড়াতে ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে আরেকটি কবর খনন করা হয়। সেই কবরেও প্রাণীটি এসে হাজির হয়। তৃতীয় কবরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। সবশেষে অনন্যোপায় হয়ে এ অবস্থায় তাকে দাফন করা হয়। দাফনকার্য শেষ হওয়ার পূর্বে কবর থেকে বিকট আওয়াজ বের হয়। পরে তার সম্পর্কে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায়, সে ফরজ গোসল করত না।' ৩২২

টিকাঃ
৩২২. শরহুস সুন্নাহ, ২৪৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 নামায ছেড়ে দেওয়া ও গোপনে অন্যের কথা শোনার শাস্তি

📄 নামায ছেড়ে দেওয়া ও গোপনে অন্যের কথা শোনার শাস্তি


হযরত আমর ইবনে দীনার রহ. বলেন, মদিনাবাসী এক লোকের বোন ইনতিকাল করলে সে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করলো। দাফন শেষে মনে হলো কবরে তার একটি ব্যাগ রয়ে গেছে। সে একজন সঙ্গীকে নিয়ে কবরস্থানে গিয়ে থলেটা বের করলো। সে তার সঙ্গীকে বলল, 'তুমি একটু সরে যাও। আমি ইট সরিয়ে আমার বোনকে এক নজর দেখব।' ইট সরিয়ে দেখলে, কবরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সে দ্রুত তা বন্ধ করে মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলল। তাদের মা বলল, ‘সে নামায দেরিতে আদায় করত এবং অসুস্থ অবস্থায় নামাযের ভান করত। প্রতিবেশীরা ঘুমিয়ে পড়লে দরজায় কান পেতে তাদের গোপন কথা শুনত।’ ৮৬৭

টিকাঃ
৮৬৭. শরহু সুন্নাহ, ২৪৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আবু জাহেলের কবরের আযাব

📄 আবু জাহেলের কবরের আযাব


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘একবার আমি বদর প্রান্তরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, জমিন থেকে এক লোক শিকল আবদ্ধ অবস্থায় বের হলো। কালো এক লোক তার শিকল আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। সে আমার কাছে পানি ভিক্ষা চাইল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে কালো লোকটি বলল, “পানি পান করাবে না!” অতঃপর সে হোঁচট খেয়ে জমিনের ভেতর ঢুকে পড়ে। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলাম। বিস্তারিত ঘটনা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “বাস্তবেই তুমি তাকে দেখেছ? সে ছিল আল্লাহর শত্রু আবু জাহেল। কিয়ামত পর্যন্ত সে এই শাস্তি ভোগ করবে।” ৮৬৪

টিকাঃ
৮৬৪. আত্ব-তারীকা, ১৫৪; শরহু সুন্নাহ।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মৃত্যুর পরও যেসব আমলের সওয়াব পাওয়া যায়

📄 মৃত্যুর পরও যেসব আমলের সওয়াব পাওয়া যায়


কবরে বসেও দুই ধরনের আমলের সওয়াব পাওয়া যায়। প্রথমত সেসব নেক আমল, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মানুষ মারা গেলে আমলের সওয়াব বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে : ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. উপকারী ইলম, ৩. নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করবে।’ ৮৬৯ উক্ত হাদিসের মাঝে সদকায়ে জারিয়া—যেমন : মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ, উপকারী ইলম তথা রচনা-সংকলন, ছাত্রদের ইলমী খেদমত ইত্যাদি সকল সুরত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং তৃতীয় মাধ্যমে নেক সন্তানের মাধ্যমে সওয়াব অব্যাহত থাকার মাধ্যম সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটা এক বিশাল সুসংবাদ। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই সব আমল করা, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত সওয়াব অব্যাহত থাকে। অন্য এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভালো কোনো পথ আবিষ্কার করল, সে এর সওয়াব পাবে। পাশাপাশি যারা এর ওপর আমল করবে, তাদের সমপরিমাণ সওয়াবও পাবে। তবে তাদের সওয়াবে কোনো রকম ঘাটতি হবে না।’ ৮৬৮

টিকাঃ
৮৬৯. মুসলিম, ২/৮১।
৮৬৮. মুসলিম, ১/১০৭১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px