📄 চোখে দেখা কবরের আযাব
যদিও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাধারণ রীতি হলো, সাধারণ মানুষ ও জিন কবরের আযাব প্রত্যক্ষ করতে পারে না। তবে কখনও কখনও আল্লাহ তায়ালা অন্যদের শিক্ষার জন্য কবরের অবস্থা প্রকাশ করেন। ওয়াজ ও নসিহতের কিতাবাদিতে এমন বহু ঘটনা পাওয়া যায়। তা ছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষে তা অসম্ভবও নয়। নিম্নে এমনতর কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যাতে পাঠকবৃন্দ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।
📄 প্রতারকের শাস্তি
আব্দুল হামিদ ইবনে মাহমুদ জিগালী রহ. বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। কয়েকজন লোক তার খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, 'আমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়ে এসেছি। মাতুস নামক স্থানে পৌঁছলে আমাদের এক সঙ্গী ইনতিকাল করে। আমরা তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে তাকে কবরে রাখতে গিয়ে দেখি, একটি বড় কালো সাপ কবর জুড়ে শুয়ে আছে। উপাযন্তর না দেখে আমরা অন্য জায়গায় কবর খনন করি। সেখানেও সাপটি এসে হাজির হয়। এ পর্যায়ে আমরা লাশ রেখে চলে আসি। অনুগ্রহপূর্বক বলুন, আমরা কী করতে পারি?' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'এটা তার বদ আমল। অদৃশ্য আকৃতিতে তা এসে হাজির হয়েছে! যাও! তোমরা তাকে এ অবস্থায়ই দাফন করো। আল্লাহ্র কসম! তোমরা যেখানেই কবর খনন করো না কেন, সবখানেই সেই সাপটি দেখতে পাবে।'
অবশেষে এভাবে তাকে দাফন করা হয়। হজ্বের সফর থেকে ফিরে তারা ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। স্ত্রী বলল, 'সে ময়দা বিক্রি করত। প্রতিদিন সে ময়দার বস্তা থেকে ঘরের প্রয়োজনের জন্য ময়দা বের করে নিয়ে তাতে সেই পরিমাণ তুষি মেশাত (মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ময়দার সঙ্গে তুষি বিক্রি করত)।' ৩২১
টিকাঃ
৩২১. শরহুস সুন্নাহ, ২০১।
📄 ফরজ গোসল ত্যাগের শাস্তি
হযরত আবান ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী রহ. বলেন, 'আমাদের এক প্রতিবেশী মারা গেলে আমরা তার কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু তাকে কবরে রাখার সময় দেখি বিড়ালের মতো একটি প্রাণী তার কবরে বসে আছে। লোকজন চেষ্টা করেও প্রাণীটাকে তাড়াতে ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে আরেকটি কবর খনন করা হয়। সেই কবরেও প্রাণীটি এসে হাজির হয়। তৃতীয় কবরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। সবশেষে অনন্যোপায় হয়ে এ অবস্থায় তাকে দাফন করা হয়। দাফনকার্য শেষ হওয়ার পূর্বে কবর থেকে বিকট আওয়াজ বের হয়। পরে তার সম্পর্কে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায়, সে ফরজ গোসল করত না।' ৩২২
টিকাঃ
৩২২. শরহুস সুন্নাহ, ২৪৪।
📄 নামায ছেড়ে দেওয়া ও গোপনে অন্যের কথা শোনার শাস্তি
হযরত আমর ইবনে দীনার রহ. বলেন, মদিনাবাসী এক লোকের বোন ইনতিকাল করলে সে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করলো। দাফন শেষে মনে হলো কবরে তার একটি ব্যাগ রয়ে গেছে। সে একজন সঙ্গীকে নিয়ে কবরস্থানে গিয়ে থলেটা বের করলো। সে তার সঙ্গীকে বলল, 'তুমি একটু সরে যাও। আমি ইট সরিয়ে আমার বোনকে এক নজর দেখব।' ইট সরিয়ে দেখলে, কবরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সে দ্রুত তা বন্ধ করে মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলল। তাদের মা বলল, ‘সে নামায দেরিতে আদায় করত এবং অসুস্থ অবস্থায় নামাযের ভান করত। প্রতিবেশীরা ঘুমিয়ে পড়লে দরজায় কান পেতে তাদের গোপন কথা শুনত।’ ৮৬৭
টিকাঃ
৮৬৭. শরহু সুন্নাহ, ২৪৪।