📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আমলবিহীন উপদেশদাতার পরিণতি

📄 আমলবিহীন উপদেশদাতার পরিণতি


মিরাজের সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের ঠোঁট ও জিহ্বা কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আবার সে অঙ্গগুলো ভালো হয়ে যাচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, 'এরা আমলহীন ওয়াজ-নসিহতকারী (যারা অন্যদের ওয়াজ-নসিহত করত, কিন্তু নিজে আমল করত না)।'

টিকাঃ
৩১৯. দালাঈলুন নুবুওয়্যা, ২/৩৪৮; মিশকাত, ৪৬৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 জাতীয় সম্পদে খেয়ানত করার আযাব

📄 জাতীয় সম্পদে খেয়ানত করার আযাব


হযরত রাফে রা. বলেন, একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'উফ উফ' উচ্চারণ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি এই কবরবাসীকে অমুক গোত্রের যাকাত উসুলকারী বানিয়েছিলাম। সে যাকাতের সম্পদের মধ্য থেকে একটি জামা গোপন করেছিল। বর্তমানে তাকে সেই জামার মতো একটি আগুনের জামা পরানো হয়েছে।’ উক্ত হাদিসটি জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ববান ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, জাতীয় সম্পদ খেয়ানত করার শাস্তি ভীষণ ভয়াবহ।

টিকাঃ
৩২০. মুসনাদে আহমদ, ২/৩৮২; শরহুস সুন্নাহ্, ১৯১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 চোখে দেখা কবরের আযাব

📄 চোখে দেখা কবরের আযাব


যদিও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাধারণ রীতি হলো, সাধারণ মানুষ ও জিন কবরের আযাব প্রত্যক্ষ করতে পারে না। তবে কখনও কখনও আল্লাহ তায়ালা অন্যদের শিক্ষার জন্য কবরের অবস্থা প্রকাশ করেন। ওয়াজ ও নসিহতের কিতাবাদিতে এমন বহু ঘটনা পাওয়া যায়। তা ছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষে তা অসম্ভবও নয়। নিম্নে এমনতর কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যাতে পাঠকবৃন্দ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 প্রতারকের শাস্তি

📄 প্রতারকের শাস্তি


আব্দুল হামিদ ইবনে মাহমুদ জিগালী রহ. বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। কয়েকজন লোক তার খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, 'আমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়ে এসেছি। মাতুস নামক স্থানে পৌঁছলে আমাদের এক সঙ্গী ইনতিকাল করে। আমরা তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে তাকে কবরে রাখতে গিয়ে দেখি, একটি বড় কালো সাপ কবর জুড়ে শুয়ে আছে। উপাযন্তর না দেখে আমরা অন্য জায়গায় কবর খনন করি। সেখানেও সাপটি এসে হাজির হয়। এ পর্যায়ে আমরা লাশ রেখে চলে আসি। অনুগ্রহপূর্বক বলুন, আমরা কী করতে পারি?' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'এটা তার বদ আমল। অদৃশ্য আকৃতিতে তা এসে হাজির হয়েছে! যাও! তোমরা তাকে এ অবস্থায়ই দাফন করো। আল্লাহ্র কসম! তোমরা যেখানেই কবর খনন করো না কেন, সবখানেই সেই সাপটি দেখতে পাবে।'

অবশেষে এভাবে তাকে দাফন করা হয়। হজ্বের সফর থেকে ফিরে তারা ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। স্ত্রী বলল, 'সে ময়দা বিক্রি করত। প্রতিদিন সে ময়দার বস্তা থেকে ঘরের প্রয়োজনের জন্য ময়দা বের করে নিয়ে তাতে সেই পরিমাণ তুষি মেশাত (মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ময়দার সঙ্গে তুষি বিক্রি করত)।' ৩২১

টিকাঃ
৩২১. শরহুস সুন্নাহ, ২০১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px