📄 ব্যভিচারীদের পরিণতি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যভিচারীদের দেখেন, তারা উলঙ্গ অবস্থায় আগুনের বড় ঘরে আবদ্ধ। সেখান থেকে এত দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাক বন্ধ করে রেখেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হলো, এরা ব্যভিচারী নারী-পুরুষ। আল্লাহ তায়ালা এই পরিণতি থেকে আমাদের হেফাযত করুন। মিরাজের সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, একটি দস্তরখানে তাজা হালাল গোশত। আরেক দস্তরখানে পচা দুর্গন্ধময় গোশত। মানুষ তাজা গোশত ছেড়ে দুর্গন্ধময় গোশত ভক্ষণ করছে। এই লোকদের সম্পর্কে জানা গেল, এরা সেই সব লোক, যারা হালাল স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ব্যভিচারিণীর সঙ্গে কুকর্ম করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় মহিলাকে দেখলেন, স্তনে বড়শি লাগিয়ে তাঁদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এরাও ব্যভিচারিণী মহিলা।
টিকাঃ
৩১৬. সহীহ মুসলিম, ২৩৯১।
৩১৭. দালাঈলুন নুবুওয়্যা, ২/৩১০-৩১১।
📄 সমকামীদের শাস্তি
এই সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও দেখেন, কতিপয় মানুষকে একটি কালো টিলার ওপর রাখা হয়েছে। তাদের পেছনের রাস্তা দিয়ে জ্বলন্ত আগুন প্রবেশ করানো হচ্ছে। সেই আগুন তাদের মুখ, কান ও চোখ দিয়ে বের হচ্ছে। এই ভয়াবাহ শাস্তিপ্রাপ্ত লোকজনের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, তারা পৃথিবীতে সমকামিতায় লিপ্ত হতো। এই জঘন্য কাজে লিপ্ত ব্যক্তি এবং যারা অন্যকে এ কাজ করতে বাধ্য করে তারা শাস্তিভোগ করবে।
টিকাঃ
৩১৮. মুসতাদরাক, ২০২।
📄 আমলবিহীন উপদেশদাতার পরিণতি
মিরাজের সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের ঠোঁট ও জিহ্বা কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আবার সে অঙ্গগুলো ভালো হয়ে যাচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, 'এরা আমলহীন ওয়াজ-নসিহতকারী (যারা অন্যদের ওয়াজ-নসিহত করত, কিন্তু নিজে আমল করত না)।'
টিকাঃ
৩১৯. দালাঈলুন নুবুওয়্যা, ২/৩৪৮; মিশকাত, ৪৬৪।
📄 জাতীয় সম্পদে খেয়ানত করার আযাব
হযরত রাফে রা. বলেন, একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'উফ উফ' উচ্চারণ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি এই কবরবাসীকে অমুক গোত্রের যাকাত উসুলকারী বানিয়েছিলাম। সে যাকাতের সম্পদের মধ্য থেকে একটি জামা গোপন করেছিল। বর্তমানে তাকে সেই জামার মতো একটি আগুনের জামা পরানো হয়েছে।’ উক্ত হাদিসটি জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ববান ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, জাতীয় সম্পদ খেয়ানত করার শাস্তি ভীষণ ভয়াবহ।
টিকাঃ
৩২০. মুসনাদে আহমদ, ২/৩৮২; শরহুস সুন্নাহ্, ১৯১।