📄 ২. আসমানি বিপদাপদে মৃত্যু
কবরের সওয়াল থেকে মুক্তির দ্বিতীয় মাধ্যম আসমানি বিপদাপদে মৃত্যু। এ ব্যাপারে একটি রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। তা হলো, যে ব্যক্তি পেটের রোগে ইনতিকাল করবে, সে কবরের বিপদাপদ থেকে হেফাযতে থাকবে। তবে এ সম্পর্কে মুহাদ্দিসীনেকেরামের মত হলো, এ হাদিসটি বর্ণনাকারী ভুল বুঝেছেন। হাদিসটি মূলত প্রহরী সংক্রান্ত। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. মহামারিতে নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদেরও কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তারা মুসলিম রাষ্ট্রের সীমান্তপ্রহরীর সমান মর্যাদা লাভ করবে। কারণ যেভাবে সীমান্তপ্রহরী অসীম ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে প্রস্তুত থাকে, তেমনি মহামারিতে আক্রান্ত ব্যক্তিও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে প্রস্তুত থাকে। একারণে তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।’
টিকাঃ
৩৪৭. শরহুল সুদূর, ২০৭।
৩৪৮. শরহুল সুদূর, ২০৮।
📄 ৩. জুমার দিন ও রমযান মাসে মৃত্যুবরণকারীর জন্য সুসংবাদ
কবরের আযাব থেকে মুক্তির তৃতীয় মাধ্যম সম্পর্কে হাদিস শরিফে তিন সময়ে মৃত্যুর কথা পাওয়া যায়।
ক. জুমার দিনে বা রাতে মৃত্যুবরণকারীকে কবরের আযাব থেকে মুক্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মা মিন মুসলিমিন ইয়ামুতু ইয়াওমাল জুমুআতি আও লাইলাতাল জুমুআতি ইল্লা ওয়াকাহুল্লাহু ফিতনাতাল ক্বাবরি’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেবেন।
খ. কতিপয় দুর্বল বর্ণনায় এসেছে, রমযান মাসে মৃত্যুবরণকারীরাও কবরের আযাব থেকে মুক্তি পায়।
গ. আল্লামা কুরতুবী রহ. এ সংক্রান্ত একটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। রেওয়ায়েতের মর্মার্থ হলো, রমযান মাসে রোযা কিম্বা হজ্জ বা ওমরাহ অথবা যাকাত প্রদানের পর যে ব্যক্তির ইনতিকাল হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩৪৯. তিরমিযী, ১/১০৫।
৩৫০. শরহুল সুদূর, ২০৪।
৩৫১. আত্ব-তাযকিরা, ১৭০।