📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 কবরের আযাব থেকে মুক্তিপ্রার্থনা

📄 কবরের আযাব থেকে মুক্তিপ্রার্থনা


আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, এক ইহুদী মহিলা তাঁর কাছে এসে তাঁর জন্য এই দোয়া করল, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে তাশরিফ আনলে আমি তাঁকে কবরের আযাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ইরশাদ করলেন, ‘নাঈমু আযাবিল ক্বাবরি হাক্কুন’ অর্থাৎ হ্যাঁ, কবরের আযাব সত্য। হযরত আয়েশা রা. বলেন, 'এরপর থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর কবরের আযাব থেকে মুক্তি চাইতেন।’

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করতেন :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ.
আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন্ত-মৃত সবার ফিতনা থেকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে।

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। রাস্তায় তিনি কয়েকজন মুশরিকের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার পর ইরশাদ করেন, ‘ইন্না হাযিহিল উম্মাতা তুবতালা ফী কুবুরিহা ফালাউলা আন লা তাদাফানু লাদাওয়াতুল্লাহ আন ইউসমিয়াকুম মিন আযাবিল ক্বাবরিল্লাযী আসমাউ মিনহু’ অর্থাৎ এসকল লোক কবরে আযাব পাচ্ছে। তোমরা দাফনকার্য ছেড়ে দেবে, আমি যদি এই আশঙ্কা না করতাম তাহলে কবরের আযাব যেমন আমি শুনতে পাই তোমরাও যেন শুনতে পাও সেই দোয়া করতাম। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়েকেরামের দিকে ফিরে তাঁদের কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব, ফিতনা-ফাসাদ এবং দাজ্জালের মহা ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ব্যাপারে নসিহত করেন।

টিকাঃ
৭০৬. বুখারী, ১/১০১।
৭০৭. বুখারী, ১/১৯৪।
৭০৮. মুসলিম, ২/৯৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 জীব-জন্তও কবরের আযাব শুনতে পায়

📄 জীব-জন্তও কবরের আযাব শুনতে পায়


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস ও সাহাবায়েকেরামের বক্তব্য থেকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মানুষ ও জিনজাতি যদিও কবরের বিভিন্ন অবস্থা শুনতে পায় না, তবে অন্যান্য জীব-জন্তু তা শুনতে পায়। যেমন, বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, মুনকার ও নাকির কবরে প্রশ্ন করা হলে যখন তারা সঠিক উত্তর দিতে পারে না, তখন ফেরেশতারা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাদের এমন জোরে আঘাত করে যে, তারা চিৎকার করে ওঠে। তখন মানুষ ও জিন ব্যতীত কবরের আশপাশের সকল প্রাণীই এই আওয়াজ শুনতে পায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই কবরবাসীদের কবরে শাস্তি দেওয়া হয়, যার আওয়াজ জীব-জন্তু শুনতে পায়।

হযরত আবুল হাকাম ইবনে বারাকওয়ান রহ. এক ঘটনা বর্ণনা করেন যে, সেখানকার কোনো এক কবরস্থানে কাউকে দাফন করে লোকজন পাশেই বসে আলাপ করছিল। নিকটেই একটি প্রাণী ঘাস খাচ্ছিল। প্রাণীটি কবরের কাছে এসে কান পেতে কী যেন শুনছিল। কিছুক্ষণ পর দূরে সরে গেল। এর কিছুক্ষণ পর আবার কবরের পাশে এসে কান পেতে শুনতে লাগল। এভাবে কয়েকবার প্রাণীটি আসা-যাওয়া করল। আবুল হাকাম রহ. বলেন, ‘এই ঘটনা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উক্তি আমার মনে পড়ে গেল : “জীব-জন্তুরা কবরের আযাব শুনতে পায়।”’

টিকাঃ
৭০৯. বুখারী, ১/৪২।
৭১০. কিতাবুর রূহ লি ইবনুল কাইয়্যিম, পৃষ্ঠা : ১১০।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 কবরের আযাব থেকে মুক্তি লাভের উপায়

📄 কবরের আযাব থেকে মুক্তি লাভের উপায়


বিশেষ সময়ে মৃত্যুবরণ তো মানুষের ইচ্ছার বাইরের বিষয়, তবে যেসব ইচ্ছাধীন নেক আমলকে কবরের আযাব থেকে মুক্তির কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, সকল মুসলমানের জন্য সেসব আমল করা আবশ্যক। মূলত সব আমলই স্ব-স্ব স্থানে কবরের আযাব থেকে মুক্তির উপায় হয়। অসংখ্য হাদিসে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মৃত্যুর পর নেক আমল মানুষকে চারপাশে ঘিরে রাখে। আযাব আসার পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত প্রতি রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা কবরের আযাব থেকে মুক্তির কার্যকরী আমল। এজন্য সূরা মুলককে ‘মানিআ’ ও ‘মুনজিয়া’ বলা হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, সূরা মুলক তার পাঠকারীর জন্য আযাব মুক্তির সুপারিশ করে এবং তা কবুল হয়। পাশাপাশি জুমার রাতে মাগরিবের পর সূরা যিলযাল দুই রাকাত নামাযের প্রত্যেক রাকাতে ১৫ বার করে পাঠ করাকে আযাব মুক্তির মাধ্যম সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও কবরের আযাব থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যাবতীয় অন্যায় ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি।

টিকাঃ
৩৫২. শরহুল সুদূর, ২০২-২২৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 যেসব কারণে সাধারণত কবরে আযাব হয়

📄 যেসব কারণে সাধারণত কবরে আযাব হয়


হাদিস শরিফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব গুনাহ চিহ্নিত করে দিয়েছেন, যেগুলোতে লিপ্ত হলে মানুষ কবরের আযাবের উপযুক্ত হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কবরগুলোতে লক্ষ করে তিনি ইরশাদ করেন, এই দুই কবরবাসীর আযাব হচ্ছে। তবে বড় কোনো গুনাহের কারণে এদের আযাব হচ্ছে না (যেমন গুনাহকে তোমরা বড় মনে করো)। এদের একজন চোগলখোরী করত, দ্বিতীয়জন পেশাব থেকে হেফাযতে থাকত না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি তাজা ডাল নিয়ে দুই টুকরো করে দুই কবরের ওপর দুটি টুকরো গেঁড়ে দেন এবং বলেন, আশা করি, ডালদুটি শুকানো পর্যন্ত এদের আযাব লঘু করা হবে।

উক্ত হাদিসে কবরের আযাবের যে দুটি কারণ বর্ণিত হয়েছে, তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করা দরকার। আক্ষেপের বিষয় হলো, বর্তমান সমাজে এই দুই কারণ অধিক হারে বিদ্যমান। গিবত, চোগলখোরী আর অপবাদকে গুনাহই মনে করা হয় না। অনুরূপ অপবিত্রতা তথা পেশাবের ফোঁটা থেকে পবিত্রতা অর্জন করাকে অনর্থক মনে করে। দাঁড়িয়ে পেশাব করা এবং পেশাবের পর পূর্ণ পবিত্র না হওয়াকে দূষণীয় মনে করা হয় না। আল্লাহ আমাদের এই অবস্থা থেকে হেফাযত করুন। আমিন।

টিকাঃ
৫৫০. বুখারী, ১/২০৪; মুসলিম, ১/৯০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px