📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে তামের রহ.-এর ঘটনা
পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে তামের নামে এক বুযুর্গ ছিলেন, যিনি অত্যাচারী শাসকের সামনে হক প্রকাশ করেছিলেন। সূরা বুরূজে সেই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে তিরমিযী শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর ইবনে খাতাব রা.-এর আমলে আবদুল্লাহ ইবনে তামের রহ.-এর কবর কোনোভাবে খুলে গেলে দেখা যায়, তার দেহ অপরিবর্তিত ও সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তার হাত কানের ওপর ছিল, যেমন ছিল মৃত্যুর সময়।
টিকাঃ
৫২৩. তিরমিযী, ২/১৭১।
📄 উহুদ যুদ্ধের কয়েকজন শহিদের অবস্থা
হযরত জাবের রা. বলেন, আমি আমার বাবা হযরত আবদুল্লাহ রা. (যিনি উহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন)-এর কবর মৃত্যুর ছয় মাস পর কোনো প্রয়োজনে খুলে তাঁর দেহ মোবারক সেখান থেকে স্থানান্তর করি। তখমও তাঁর দেহ মোবারকের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে কিছুটা ধূলোমলিন হয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী দুইজন সাহাবী আমর ইবনে জামুহ ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রা.-কে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর একবার মদিনায় বন্যা প্লাবিত হয়। বন্যায় তাঁদের কবর ভেসে যায়। লোকজন তাঁদের দেহ মোবারক সেখান থেকে অন্যত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের দেহে সামান্য পরিবর্তনও আসেনি। মনে হচ্ছিল, যেন তাঁরা গতকালই শাহাদাতবরণ করেছেন। একজন ক্ষতস্থানে হাত রাখা অবস্থায় ছিলেন। হাতটি ক্ষতস্থান থেকে সরানোর চেষ্টা করতে তা পুনরায় সেস্থানে চলে যায়।
অন্যান্য শহিদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা বর্ণিত আছে। আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রহ. তারিখে ইবনুল জাওযী থেকে বর্ণনা করেন, 'একবার বসরা নগরীর একটি টিলা থেকে সাতটি কবর প্রকাশ পায়। কবরগুলোতে সাতটি লাশ ছিল। সবার শরীর সুরক্ষিত ছিল। তাঁদের কাফন থেকে মেশক আম্বরের ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তাঁদের একজন ছিলেন সুন্দর যুবক। তাঁর চুল ছিল লম্বা। ঠোঁট এমন সতেজ ছিল যে, যেন এখনই পানি পান করেছেন। চোখে সুরমা লাগানো ছিল। পেটে ক্ষতের চিহ্ন ছিল। কেউ কেউ তাঁর চুল টেনে দেখে, তা জীবিত মানুষের চুলের ন্যায় শক্ত ছিল।
টিকাঃ
৫২৪. উসদুল গাবা, ৩/২৪৪।
৫২৫. উসদুল গাবা, ৩/২৪৪; তাযকিরা, ১৯৫; শরহুস সুদূর, ৪১২।
৫২৬. শরহুস সুদূর, ৬১৩।
📄 কবরে আলো ও সুগন্ধ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে গালিব রহ. ছিলেন বিখ্যাত বুযুর্গ। তাঁর কবর থেকে মেশক ও আম্বরের ঘ্রাণ ছড়াত। মালেক ইবনে দিনার রহ. বলেন, 'আমি তাঁর কবরের মাটি শুঁকে দেখেছি, তা হুবহু মেশকের মতো ছিল।'
হযরত আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বাকরী রহ. বলেন, 'আমি বসরা নগরীতে সাহাবী হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-এর কবরে হাজির ছিলাম। হঠাৎ আমার শরীরে গোলাপজলের ছিটা পড়ে। এতে আমার কাপড় ভিজে যায়।'
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত আছে, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ নাজ্জাশীর ইনতিকাল হওয়ার পর একথা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল যে, তাঁর কবরের ওপর আলোকাচ্ছটা পরিলক্ষিত হতো।
টিকাঃ
৫২৭. কিতাবুল আযকিয়া, ১৯০।
৫২৮. কিতাবুল আযকিয়া, ১৯০।
৫২৯. কিতাবুল আযকিয়া, ১৯০।
📄 সওয়াবপ্রত্যাশী মুয়াযযিনকে সুসংবাদ
সাধারণ মানুষ মুয়াযযিনদের মর্যাদাহীন মনে করে। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে আযান দেওয়া এমন মর্যাদাপূর্ণ কাজ, যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছায় আযান দেয়, কিয়ামতের দিন তার গর্দান সবার চেয়ে লম্বা করে দেওয়া হবে। মৃত্যুর পর তার শরীর কীটপতঙ্গের খাবারে পরিণত হবে না। হযরত মুজাহিদ রহ. তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, মুয়াযযিনগণ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে লম্বা গর্দানের অধিকারী হবে এবং কবরে তাঁদের শরীর কীটপতঙ্গ আঘাত করতে পারবে না।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় যেই ব্যক্তি আযান দেয়, সে ঐ শহিদের মতো, যে নিজের রক্তে রঞ্জিত। ইনতিকালের পর কবরে পোকা-মাকড় তাকে দংশন করবে না। কতক দুর্বল বর্ণনায়ও জাতীয় সংবাদ অধিক কুরআন তিলাওয়াতকারী ও পূর্ণ গুনাহ বর্জনকারীদের জন্য বর্ণিত হয়েছে।
টিকাঃ
৫৩০. মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, ১/৪৬৩।
৫৩১. মাজমাউয যাওয়াহেদ, ১/৪; শরহুস সুদূর, ৪১।
৫৩২. শরহুস সুদূর, ৪১।