📄 মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কবরে কী যাবে?
কবরে কেবল মানুষের আমল যায়। দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কবরের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কবর ও আখেরাতের জগতে প্রবেশের পূর্বে সেখানকার কারেন্সি অর্জন করা জরুরি। আর সেখানকার কারেন্সি হলো পূর্ণ ঈমান ও সৎ কর্ম। যদি এ সম্পদ সঙ্গে নিয়ে কেউ কবরজগতে সফর করে তাহলে আখেরাতের সকল ঘাঁটি, কবর ও পরবর্তী স্থানসমূহ খুব সহজেই পাড়ি দিতে পারবে। আর যদি ঈমান ও আমলের পাথেয় না থাকে, তাহলে বঞ্চনার শেষ থাকবে না। এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে।’ প্রকৃত জ্ঞান ও বিবেকের দাবি হলো, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের পেছনে না পড়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
যত নিকটবর্তী ও প্রিয়জনই হোক না কেন, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থানে রেখে আসতে হয়। মৃতের ধনসম্পদও কবরে রাখা হয় না, আর তা তার কোনো কল্যাণে আসে না; বরং চোখ বন্ধ হতেই মাল উত্তরাধিকারী সূত্রে উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন সম্পদে পরিণত হয়। কিন্তু আমল এমন বিশ্বস্ত ও খাঁটি বন্ধু, যা পৃথিবীতে সঙ্গে থাকে, আখেরাতেও সঙ্গে যায় এবং আমলকারীকে তার প্রকৃত ঠিকানায় (জান্নাতে) পৌঁছিয়ে ক্ষান্ত হয়। কাজেই ভালো আমলের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করা উচিত, যাতে তা আমাদের সর্বোত্তম স্থানে পৌঁছাতে পারে।
টিকাঃ
৫১৯. বুখারী, ২/৯৬৪; মুসলিম, ২/৪০৭; তিরমিযী, ১/৬০।