📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 কবরের প্রশ্নোত্তর

📄 কবরের প্রশ্নোত্তর


হযরত বারা ইবনে আযিব রা. বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এক আনসারী সাহাবীর জানাযায় শরিক হওয়ার জন্য কবরস্থানে উপস্থিত ছিলাম। কবর প্রস্তুত হতে এখনও দেরি। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জায়গায় বসলেন। আমরা তাঁর চারপাশে বসে পড়লাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি সেটি দিয়ে জমিনে দাগ টানলেন। একটু পর তিনি মাথা তুলে আমাদের সম্বোধন করে বললেন, ‘হে লোক সকল, কবরের আযাব থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।’ তিনি এই বাক্যটি তিনবার বললেন। অতঃপর বললেন, ‘যখন মুমিন বান্দার দুনিয়া-ত্যাগের এবং আখিরাতে পাড়ি জমানোর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন আসমান থেকে তার নিকট এমন ফেরেশতা আগমন করে, যাদের চেহারা সূর্যের মতো আলোকোজ্জ্বল। তাদের কাছে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি থাকে। এসব ফেরেশতা তার সামনা-সামনি বসে পড়ে। অতঃপর মালাকুল মউত তথা মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার পাশে বসে বলে, “হে প্রশান্ত হৃদয়, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে চলো।” অতঃপর মশকের মুখের বাঁধ খুললে যেভাবে সহজেই পানি বের হতে থাকে, তদ্রূপ সহজেই তার প্রাণ বের হয়ে যায়। মালাকুল মউত তার রূহ কবজ করলে আগত জান্নাতী ফেরেশতারা জান্নাতী কাফনে তাকে পেঁচিয়ে নেয় এবং সুগন্ধি মাখায়। তখন তার রূহ থেকে মিশক-আম্বরের মতো সৌরভ ছড়াতে থাকে। এরপর ফেরেশতারা তাকে নিয়ে আসমানের দিকে চলতে থাকে। ফেরেশতাদের কোনো দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে তারা জিজ্ঞেস করে, “এটা কার পবিত্র আত্মা?” তখন ফেরেশতারা তার নামসহ উত্তমভাবে পরিচয় বর্ণনা করে। এমনকি ফেরেশতারা শেষ আসমান পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাতে আসে। তারা তাকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “আমার এই প্রিয় বান্দার নাম ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও এবং তাকে আবার জমিনে নিয়ে যাও। কারণ আমি তাকে মাটি দ্বারাই সৃষ্টি করেছি, এখন তাকে মাটিতেই ফিরিয়ে দিচ্ছি এবং মাটি থেকেই তাকে কিয়ামতের দিন ওঠাবো।” অতঃপর তার রূহ তার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং দুইজন ফেরেশতা তার নিকট উপস্থিত হয়। তারা তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘মান রাব্বুকা’ (তোমার রব কে?) সে উত্তর দেয়, ‘রাব্বিয়াল্লাহ’ (আমার রব আল্লাহ)। ‘মা দীনুকা’ (তোমার ধর্ম কী?) সে উত্তর দেয়, ‘দীনিয়াল ইসলাম’ (আমার ধর্ম ইসলাম)। ‘ওয়া মা হাযার রাজুল’ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ইশারা করে জিজ্ঞেস করে, ‘এই ব্যক্তি কে?’ তখন সে উত্তর দেয়, ‘হুয়া রাসূলুল্লাহ’ (তিনি আল্লাহর সত্য রাসূল)। অতঃপর ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করে, ‘এসব তুমি কীভাবে জানো?’ মুমিন বান্দা উত্তর দেয়, ‘আমি কুরআন মাজিদ পাঠ করেছি, তাঁর ওপর ঈমান এনেছি, তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।’ প্রশ্নোত্তর শেষে আসমান থেকে আওয়াজ আসে, ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জান্নাতী পোশাক পরিধান করাও এবং জান্নাতের দিকে তার কবরের একটি দরজা খুলে দাও, যাতে সে জান্নাতের হাওয়া ও সুঘ্রাণ পায় এবং তার জন্য দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত কবরকে সুপ্রশস্ত করে দাও।’ অতঃপর তার কাছে একজন সুদর্শন ব্যক্তি, উন্নত পোশাক ও সুঘ্রাণ মেখে উপস্থিত হয়ে আরজ করেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটা সেই দিন যেদিনের প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।” মুমিন তাকে দেখে জিজ্ঞেস করবে, “তুমি কে? তোমার চেহারা তো কল্যাণ নিয়ে আগমনকারীর চেহারার মতো?” সেই ব্যক্তি উত্তর দেবে, ‘আমি তোমার নেক আমল।’ কবরের এই শান্তিময় আবহাওয়া দেখে মুমিন বান্দা বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত করুন। দ্রুত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত করুন। যাতে আমি দ্রুত আমার ধনসম্পদ ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি।”

তিরমিযী ও অন্যান্য হাদিসের কিতাবে একটি রেওয়ায়েতে এসেছে, যখন মুমিন বান্দা মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়, তখন তার জন্য তার কবরকে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সত্তর হাত লম্বা করে দেওয়া হয় এবং কবরকে আলোকিত করে তাকে বলা হয়, ‘শুয়ে পড়ো।’ সে আনন্দের আতিশয্যে উত্তর দেয়, ‘আমাকে আমার পরিবারের কাছে তো যেতে দাও। যেন আমি তাদের বলে আসি (যে, আমি কত আনন্দে আছি)।’ তখন ফেরেশতারা তাকে বলে, সদ্ব্যবিবাহিত ব্যক্তির মতো ঘুমাও, যাকে তার পরিবারের প্রিয়জন ছাড়া কেউ ঘুম থেকে ওঠায় না। (সে ঘুমিয়ে থাকবে) আল্লাহ তায়ালা তাকে যতক্ষণ সেই বিছানা থেকে না ওঠান।

হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! মৃত ব্যক্তিকে রেখে লোকজন চলে যেতে শুরু করলে মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। সে যদি মুমিন হয়, তাহলে নামায তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে যায়, যাকাত ডান দিকে, রোযা বাম দিকে এবং ভালো কাজ ও দান-সদকা তার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। যদি আযাব মাথার দিক থেকে আসে, নামায বলে, আমার দিক দিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই। বাম দিক দিয়ে এলে রোযা বলবে, আমার দিক দিয়ে রাস্তা বন্ধ। ডান দিক দিয়ে আসতে শুরু করলে যাকাত একই উত্তর দেয়। এরপর আযাব সামনের দিক থেকে আসতে শুরু করলে সৎ কাজ ও সদাচরণ প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর তাকে বলা হয়, ‘উঠে বসো।’ সে উঠে বসলে তার সামনে সূর্যকে এমন অবস্থায় পেশ করা হয় যে, যেন তা অস্তমিত। তখন ফেরেশতারা তাকে বলে, ‘আমাদের প্রশ্নের উত্তর দাও।’ উত্তরে সে বলে ‘আমাকে ছাড়ো, আমি নামায পড়ব।’ ফেরেশতারা বলে, ‘নামাযের সুযোগ দেওয়া হবে, আগে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দাও।’ তখন সে বলে, ‘বলো, তোমাদের কী প্রশ্ন?’ ফেরেশতারা প্রশ্ন করবে, ‘ঐ ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তোমার কী খেয়াল?’ মুমিন বান্দা উত্তর দেয়, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর সত্য নবী। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আমাদের নিকট আগমন করেছেন। আমরা তাঁকে সত্য নবী হিসেবে মেনে নিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি।’ এই উত্তর পেয়ে ফেরেশতারা তাকে সুসংবাদ শুনিয়ে বলে, ‘তুমি যথাযথ সত্য বলেছ। এই আকিদা-বিশ্বাসের ওপর তোমার জীবন পরিচালিত হয়েছে। এই আকিদার ওপরই তোমার মৃত্যু হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ, কিয়ামতের দিন এই আকিদার ওপরই তোমাকে ওঠানো হবে।’ এরপর তার কবরকে দৃষ্টির সুদূর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত করে দেওয়া হয়।

এরপর ফেরেশতাদের নির্দেশ দেওয়া হবে, ‘তার সামনে জাহান্নামের দরজা খোলো।’ ফেরেশতারা জাহান্নামের দরজা খুলবে। তাকে বলা হবে, ‘দেখো, তুমি যদি নাফরমান হতে, তাহলে এই জাহান্নাম আজ তোমার ঠিকানা হতো।’ এতে তার খুশি ও আনন্দ আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর ফেরেশতাদের তার সামনে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। ফেরেশতারা জান্নাতের দরজা খুলে তাকে বলবে, ‘এই হলো তোমার প্রকৃত ঠিকানা এবং এসব নেয়ামত, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্ব থেকেই তোমার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন।’ এসব কিছু দেখে আনন্দে তার মন ভরে যাবে। অতঃপর তার শরীরকে মাটির কাছে অর্পণ করা হবে এবং তার রূহকে পবিত্র রূহসমূহের মাঝে শামিল করে দেওয়া হবে, যেসব রূহ জান্নাতের বাগানে উড়ে বেড়ানো পাখিদের মাঝে থাকবে।

টিকাঃ
৩০৮. মুসনাদে আহমাদ, ৪/২৯৬; মুসতাদরাকে হাকেম, ৩/৫৮; শরহুস সুদূর, ৯২।
৩০৯. তিরমিযী, ২/২০৫; বাইহাকী; মুসতাদরাকে হাকেম, ৩/৫৮; শরহুস সুদূর, ৯২।
৩১০. সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৭।
৩১১. মুসতাদরাকে হাকেম; শরহুস সুদূর, ৯৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মুবাসশির বাশির

📄 মুবাসশির বাশির


অধিকাংশ বর্ণনায় পাওয়া যায়, কবরে প্রশ্নকারী ফেরেশতাদের নাম হলো মুনকার নাকির। তবে শাফেয়ী মাযহাবের কতিপয় আলেম হতে বর্ণিত আছে যে ফেরেশতারা কাফেরদের প্রশ্ন করবে, তাদের নাম হলো মুনকার নাকির। আর ঈমানদারদের প্রশ্নকারী ফেরেশতাদের নাম হবে মুবাশ্বির ও বাশির (সুসংবাদদাতা)। আল্লাহ তায়ালাই সর্বজ্ঞাত।

টিকাঃ
৩১২. শরহুস সুদূর, ১০০।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 কবরে কাফের-মুনাফিকদের করুণ অবস্থা

📄 কবরে কাফের-মুনাফিকদের করুণ অবস্থা


কবরে কাফের-মুনাফিকদের অবস্থা হয় মুমিন ও মুসলমানদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের মৃত্যুর সময় আসমান থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা দুই টুকরা চ্যাপ্টা চট হাতে অবতীর্ণ হয়। তারা এসে তার সামনে বসে। অতঃপর মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার পাশে বসে বলে, ‘হে নিকৃষ্ট প্রাণ, আল্লাহর আযাব ও ক্রোধের দিকে রওনা হও।’ একথায় তার রূহ শরীরের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। মৃত্যুর ফেরেশতা তার রূহকে এমনভাবে টেনে বের করে, যেমন ভেজা কাপড় দিয়ে কাঁটাদার বৃক্ষ পেঁচিয়ে তারপর সজোরে টেনে বের করা হয়। এরপর মালাকুল মওত সেই রূহকে হাতে নেয় এবং অন্য ফেরেশতারা দুর্গন্ধময় চটে তা পেঁচিয়ে ফেলে। মৃত লাশ পচে ফেটে গেলে যেমন দুর্গন্ধ বের হয় সেই চট থেকে তেমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। তারা তাকে নিয়ে আসমানের দিকে রওনা হলে ফেরেশতাদের কোনো দলের পাশ অতিক্রম করলেই তারা জিজ্ঞেস করে, ‘এটা কোন্ অপবিত্র রূহ?’ তারা অত্যন্ত খারাপ উপাধি ও নামের সাথে তার পরিচয় তুলে ধরে। একপর্যায়ে তারা তাকে নিয়ে আসমানে পৌঁছে যায় এবং আসমানের দরজা খুলতে চায়; কিন্তু তাদের জন্য দরজা খোলা হয় না। কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এই অপমান ভোগ করতে হবে।

তারপর তার রূহ শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দুইজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার রব কে?’ সে বলে, ‘হায়! হায়! আমার জানা নেই।’ এরপর তাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার দীন কী?’ সে বলে, ‘হায়! হায়! আমি জানি না।’ এরপর জিজ্ঞেস করে, ‘এই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল?’ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে উত্তর দেয়, ‘আমি জানি না।’ তখন আসমান থেকে আওয়াজ ভেসে আসে, ‘এই বান্দা মিথ্যাবাদী। তাই তার নিচে অগ্নি বিছিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে দাও।’ তখন তার কবরের দিকে জাহান্নামের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং সেই দরজা দিয়ে আগুনের তাপ ও লু হাওয়া আসতে শুরু করে। তার কবর এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে তার পাঁজরের হাড় একটি আরেকটির ভেতরে ঢুকে পড়ে। অতঃপর দুর্গন্ধময় নোংরা কাপড় পরিহিত এক কদাকার ব্যক্তি এসে সেই মুনাফিককে বলে, ‘একটা দুঃসংবাদ শোনো! আজ সেই দিন, যেদিনের ব্যাপারে তোমাকে ভয় দেখানো হতো।’ সে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কে? বস্তুত তোমার চেহারা দুঃসংবাদবাহীর মতোই!’ সে উত্তর দেয়, ‘আমি তোমার বদ আমল।’ একথা শুনে (আখেরাতের কঠিন আযাবের আশঙ্কায়) সেই কবরবাসী বলে, ‘হে আমার রব, কিয়ামত কায়েম করবেন না।’

আরেক বর্ণনায় এসেছে, কাফের ও মুনাফিকদের আশপাশে ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, যা তাকে দংশন করতে থাকে। এতে সে চিৎকার করলে আগুন বা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাকে পেটানো হয়। কবরের শাস্তি প্রদানের জন্য যেসব সাপ-বিচ্ছু পাঠানো হবে, সেগুলো এত ভয়াবহ হবে, যদি এগুলোর কোনো একটি জমিনে ফুঁ মারে, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত কোনো তৃণ জন্মাবে না। কোনো কোনো রেওয়ায়েতে এসেছে, এসব বিষাক্ত প্রাণীর সংখ্যা হবে ৯৯টা এবং প্রত্যেকটা সাতটা মাথাবিশিষ্ট হবে।

টিকাঃ
৩১৩. সূরা আরাফ, আয়াত: ৪০।
৩১৪. সূরা হজ্ব, আয়াত: ৩১।
৩১৫. মুসনাদে আহমাদ, ৪/২৯৮; মুসতাদরাকে হাকেম, ৩/৬৮; শরহুস সুদূর, ১০।
৩১৬. মুসতাদরাকে হাকেম, ৩/৬৮।
৩১৭. মাসাঈদুল আলাইনা, ৩/৬৮।
৩১৮. মাসাঈদুল আলাইনা, ৩/৬৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কবরে কী যাবে?

📄 মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কবরে কী যাবে?


কবরে কেবল মানুষের আমল যায়। দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কবরের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কবর ও আখেরাতের জগতে প্রবেশের পূর্বে সেখানকার কারেন্সি অর্জন করা জরুরি। আর সেখানকার কারেন্সি হলো পূর্ণ ঈমান ও সৎ কর্ম। যদি এ সম্পদ সঙ্গে নিয়ে কেউ কবরজগতে সফর করে তাহলে আখেরাতের সকল ঘাঁটি, কবর ও পরবর্তী স্থানসমূহ খুব সহজেই পাড়ি দিতে পারবে। আর যদি ঈমান ও আমলের পাথেয় না থাকে, তাহলে বঞ্চনার শেষ থাকবে না। এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে।’ প্রকৃত জ্ঞান ও বিবেকের দাবি হলো, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের পেছনে না পড়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

যত নিকটবর্তী ও প্রিয়জনই হোক না কেন, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থানে রেখে আসতে হয়। মৃতের ধনসম্পদও কবরে রাখা হয় না, আর তা তার কোনো কল্যাণে আসে না; বরং চোখ বন্ধ হতেই মাল উত্তরাধিকারী সূত্রে উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন সম্পদে পরিণত হয়। কিন্তু আমল এমন বিশ্বস্ত ও খাঁটি বন্ধু, যা পৃথিবীতে সঙ্গে থাকে, আখেরাতেও সঙ্গে যায় এবং আমলকারীকে তার প্রকৃত ঠিকানায় (জান্নাতে) পৌঁছিয়ে ক্ষান্ত হয়। কাজেই ভালো আমলের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করা উচিত, যাতে তা আমাদের সর্বোত্তম স্থানে পৌঁছাতে পারে।

টিকাঃ
৫১৯. বুখারী, ২/৯৬৪; মুসলিম, ২/৪০৭; তিরমিযী, ১/৬০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px