📄 জানাযার খাট কবরস্থানে পৌঁছলে
জানাযার খাট কবরস্থানে পৌঁছার পর কাঁধ থেকে নামানোর আগে কেউ বসার চেষ্টা করবে না। এরপর মৃত ব্যক্তিকে কবরে নামানোর প্রস্তুতি নেবে এবং যারা মৃতকে কবরে নামাবে, তারা লাশ কবরে রাখার সময় বলবে, ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে তোমাকে রাখছি এবং আল্লাহর দীনের উপর তোমাকে আল্লাহর কাছে অর্পণ করছি। এরপর মৃতকে ডানপাশে ফিরিয়ে কিবলামুখী করে দেবে। এরপর কবরের উপর মাটি দেবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তিন মুষ্টি মাটি দেবে; এটা সুন্নত। উত্তম হলো, প্রথম মুষ্টি দেওয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ (এ মাটি থেকে তোমাকে সৃষ্টি করেছি), দ্বিতীয় মুষ্টি দেওয়ার সময় ‘ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম’ (এতেই তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি) এবং তৃতীয়বার মাটি দেওয়ার সময় ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’ (এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাকে উত্থিত করব) পড়া। দাফন শেষ হতেই ফিরে না এসে কবরস্থানে থেকে দোয়া ও ইসালে সওয়াবে মগ্ন থাকা সুন্নত। কারণ কবরস্থানে থাকলে মৃত ব্যক্তি সাহস পায় এবং একাকীত্ব অনুভব করে না। এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাফন শেষে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং আল্লাহর কাছে তার অবিচলতা কামনা করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘দাফনের পর কবরের সামনে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষের দিকের আয়াত তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব।’ হযরত আমর ইবনে আস রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যদের ওসিয়ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর আমার জানাজার সাথে ক্রন্দনরত কোনো মহিলা যাবে না এবং কেউ আগুন নিয়ে যাবে না। আর দাফন শেষে কবরের উপর কিছু মাটি দেবে এবং যতক্ষণ সময় একটা উট জবাই করে তার গোশত বন্টন করা যায়, ততক্ষণ আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যাতে আমি সাহস পাই এবং খেয়াল করো, আমি আমার প্রতিপালকের ফেরেশতাদের কী উত্তর প্রদান করি’।
টিকাঃ
৫০০. মুসলিম, ১/৩০৯।
৩০১. দুররে মুখতার, ৩/১৪১।
৩০২. শামী, ৩/১৪০।
৩০৩. আবু দাউদ, ২/৪৫৩; শামী, ২/১৫৩।
৩০৪. শামী, ৩/১৪০।
৩০৫. মুসলিম, ১/৭৬।
📄 কবর পাকা করা কিংবা কবরের অসম্মান করা নিষেধ
ইসলামী শরীয়ত কবর সম্পর্কে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা নির্ধারণ করেছে। শরীয়ত না কবর পাকা করে সীমাতিক্ত ভক্তি প্রদর্শনের অনুমতি দেয়, আর না কবরকে কোনোক্রমে অসম্মান করা, কবরের উপর পা রাখা, কবরকে বসার জায়গা বানানোর সুযোগ দেয়। হযরত জাবের রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করা, কবরের উপর বসা এবং এর উপর ঘর বানাতে বারণ করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করেন, কবরের উপর বসার চেয়ে অধিক উত্তম হলো অঙ্গারের উপর বসা, যা কাপড় পুড়িয়ে শরীরসহ জ্বালিয়ে দেয়। তাই মুসলমানের উচিত এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া। কবর পাকা করে শিরক ও বিদআতের কেন্দ্র পরিণত করবে না, যা বর্তমানে বুযুর্গানে দীনের মাজারের সাথে করা হচ্ছে; অনুরূপ কবরের অসম্মান হয় এমন কোনো কাজও করবে না। শরীয়তের দৃষ্টিতে কবরস্থানে এ সতর্কতা পরিলক্ষিত হয়।
টিকাঃ
৩০৬. মুসলিম, ২/৬৬২; তিরমিযী, ১/২০৩।
৩০৭. মুসলিম, ২/৬৬২।
📄 নারীদের কবরস্থানে যাওয়া
কবরস্থানে উপস্থিত হওয়া বা কবর যিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুকে স্মরণ করা। কিন্তু বর্তমানে মূর্খতা ও বিদআতী কার্যক্রম কবরস্থানগুলোকে বিনোদন কেন্দ্র বানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কবর যিয়ারত করতে গিয়ে অনেকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে না। বরং হয়তো বিনোদনের জন্য যায়, আর তা না হলে পার্থিব স্বার্থে যায় এবং এই ধারণা পোষণ করে যে, পীর সাহেবের কাছে কিছু চাইলে তা অবশ্যই পাওয়া যায়। বিশেষত মহিলাদের জন্য বদ আকিদা নিয়ে কবরস্থান কিংবা বুযুর্গানে দীনের মাজারে যাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। একটু ভাবুন, যেখানে মহিলাদের ফিতনার আশঙ্কায় মসজিদে যাওয়ার কিংবা জামাতে নামায পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেখানে তাঁদের কীভাবে মাজারে গিয়ে মানত করার অনুমতি দেওয়া হবে? এসকল স্থান বর্তমানে ফিতনার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ অবলম্বন করা। ওলী-আউলিয়া ও বুযুর্গানে দীনকে যেমন ভালোবাসা উচিত, সম্মান করা উচিত, সাথে সাথে শরীয়তের সীমারেখার প্রতিও যত্নবান হওয়া উচিত। এমন যেন না হয় যে বুযুর্গানে দীনের সম্মানে দীন ত্যাগ করে ফেলি এবং আখেরাতে শাস্তির উপযুক্ত হই। আল্লাহকে লজ্জা করে সব কাজে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা পুরো উম্মতকে যাবতীয় কুপ্রথা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।