📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মৃত্যুর নিদর্শন প্রকাশ পেলে উপস্থিত লোকজন কী পড়বে?

📄 মৃত্যুর নিদর্শন প্রকাশ পেলে উপস্থিত লোকজন কী পড়বে?


মৃত্যুর নিদর্শন প্রকাশ পেলে এবং মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হলে উপস্থিত লোকদের সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা উচিত। এতে সহজেই রুহ কবজ হয়। কতক দুর্বল বর্ণনাতেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মা মিন মাইয়িতিন ইউকরাউ ইনদা রা’সিহি ইয়াসিন ইল্লা হাওওয়ানাল্লাহু আলাইহি’ অর্থাৎ মৃত্যু আসন্ন ব্যক্তির শিয়রে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তার মৃত্যুকে সহজ করে দেন। হযরত জাবের ইবনে যায়েদ রা. বলেন, সূরা রা’দ পাঠ করলেও সহজ মৃত্যু নসিব হয়। মৃত্যু সময় মাইয়িতকে তালকিন করা মুসতাহাব। তার সামনে উঁচু আওয়াজে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করবে। কিন্তু তাকে কালিমা পাঠের নির্দেশ দেওয়া যাবে না। কারণ হতে পারে, সে কালিমা পাঠ করতে স্পষ্ট অস্বীকার করে বসবে। একবার পাঠ করলে বারংবার পাঠ করতে তাগিদ দেওয়া ঠিক হবে না। রুহ কবজ হয়ে গেলে কাপড় বা কাপড় জাতীয় জিনিস দিয়ে চোয়াল বেঁধে দেবে। চোখ বন্ধ করে দেবে। যে ব্যক্তি চোখ বন্ধ করবে, সে এই দোয়া পাঠ করবে, ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’। লাশের আশপাশে সুগন্ধি ছিটিয়ে দেবে। জুনুবী কিংবা ঋতুবতী মহিলা মৃতের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। মৃতের আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী ও প্রিয়জনদের মৃত্যুর সংবাদ জানাবে এবং যত দ্রুত সম্ভব কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করবে। গোসলের পূর্ব পর্যন্ত মৃতের পাশে কুরআন তিলাওয়াত করবে না। গোসলের পর করবে। তবে পাশের রুমে তিলাওয়াত করা যেতে পারে।

টিকাঃ
৪৮৯. শরহুল সুদূর, ৬৩।
৪৯০. মুসতাদরাকে ইবনে আবি শায়বা, ৩/৪৪৫।
৪৯১. দুররে মুখতার, ২/৭৮-৮০।
৪৯২. শরহুল সুদূর, ৭৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দ্রুত দাফনকার্য সম্পাদন

📄 দ্রুত দাফনকার্য সম্পাদন


অযথা সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব দাফনকার্য সম্পন্ন করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আসরিউ বিল জানাযাতি ফায়িন তাকু সালিহাতান ফাখাইরুন তুক্বাদ্দিমুনিহা ইলাইহি ওয়া ইন তাকু গাইরা যালিকা ফাশাররুন তাদাউুনাহু আন রিক্বাবিকুম’ অর্থাৎ জানাযাকে দ্রুত (কবরস্থানে) নিয়ে যাও। কারণ যদি মৃত ব্যক্তি ভালো মানুষ হয়, তা হলে তোমরা তার উত্তম ঠিকানায় তাকে পৌঁছে দিলে। আর যদি খারাপ হয়, তা হলে নিজেদের কাঁধ থেকে অনিষ্ট বস্তুকে দ্রুত নামালে (উভয় অবস্থাতেই দ্রুত দাফন করানো উত্তম)। আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত কাফন-দাফন করার তাগিদ প্রদান করে ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আজ্জিলু বিহি ফাইন্নাহু লা ইয়ামবাগি জিফাতু মুসলিমিন আন তুহবাসা বাইনা যাহরানি আহলিহি’ অর্থাৎ মৃতের কাজ দ্রুত সমাধা করো। কারণ কোনো মুসলিম মৃতকে তার পরিবারের মাঝে ধরে রাখা ঠিক নয়। ফুকাহায়েকেরামের বক্তব্য থেকে দ্রুত দাফন করানোর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ফুটে ওঠে। তারা বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি জুমার দিন সকালবেলা মারা যায়, তা হলে জুমার সময় জানাযার নামাযে অনেক লোক শরিক হবে শুধু এই কারণে জানাযা বিলম্বে পড়া মাকরূহ; বরং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই জানাযার নামায পড়ে দাফন করে ফেলবে।’

টিকাঃ
৪৮২. মুসলিম, ৯/৬৬।
৪৮৩. আবু দাউদ, ২/৪০০; শামী, ৩/৩৪।
৪৮৪. দুররে মুখতার, ৩/৯১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 জানাযার নামায ও দাফনকার্যে শরিক হওয়ার সওয়াব

📄 জানাযার নামায ও দাফনকার্যে শরিক হওয়ার সওয়াব


হাদিস শরিফে জানাযার নামায ও দাফন-কাফনে শরিক হওয়াকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. জানতে পারলেন, হযরত আবু হুরায়রা রা. এক হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের জানাযায় শরিক হয় এবং দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব পায়। আর এক কিরাত হলো উহুদ পাহাড়ের সমান। এত বিশাল সওয়াবের কথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি আম্মাজান আয়েশা রা.-এর কাছে এর সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি স্বীকৃতি দিলে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি অবহেলায় কত কিরাত সওয়াব বিনষ্ট করেছি!’ কারণ তিনি অধিকাংশ জানাযার নামায শেষে দাফনে শরিক না হয়ে চলে আসতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘মুমিনকে সর্বপ্রথম এই প্রতিদান দেওয়া হয় যে, তার জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের মাফ করে দেওয়া হয়।’ উক্ত হাদিসের আলোকে জানা যায়, আখেরাতের জানাযার নামায এবং দাফন-কার্যে শরিক হয়ে নিজেকে বিপুল সওয়াবের অধিকারী বানানোর চেষ্টা করা উচিত। এই আমল মৃত্যুর স্মরণের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী ও প্রভাব বিস্তারক। অন্যের জানাযা দেখলে অনিচ্ছায় নিজের মৃত্যুর কথা মনে পড়ে যায় এবং অন্তর থেকে অস্ফুটচিত্তে উচ্চারিত হয়, ‘আজ তার পালা, আগামীকাল তোমার পালা’।

টিকাঃ
৪৮৯. মুসলিম, ১/৩০৭।
৪৯০. নাওয়াদিরুল উসুল, ১/৩৫২।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 জানাযার খাট কবরস্থানে পৌঁছলে

📄 জানাযার খাট কবরস্থানে পৌঁছলে


জানাযার খাট কবরস্থানে পৌঁছার পর কাঁধ থেকে নামানোর আগে কেউ বসার চেষ্টা করবে না। এরপর মৃত ব্যক্তিকে কবরে নামানোর প্রস্তুতি নেবে এবং যারা মৃতকে কবরে নামাবে, তারা লাশ কবরে রাখার সময় বলবে, ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে তোমাকে রাখছি এবং আল্লাহর দীনের উপর তোমাকে আল্লাহর কাছে অর্পণ করছি। এরপর মৃতকে ডানপাশে ফিরিয়ে কিবলামুখী করে দেবে। এরপর কবরের উপর মাটি দেবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তিন মুষ্টি মাটি দেবে; এটা সুন্নত। উত্তম হলো, প্রথম মুষ্টি দেওয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ (এ মাটি থেকে তোমাকে সৃষ্টি করেছি), দ্বিতীয় মুষ্টি দেওয়ার সময় ‘ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম’ (এতেই তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি) এবং তৃতীয়বার মাটি দেওয়ার সময় ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’ (এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাকে উত্থিত করব) পড়া। দাফন শেষ হতেই ফিরে না এসে কবরস্থানে থেকে দোয়া ও ইসালে সওয়াবে মগ্ন থাকা সুন্নত। কারণ কবরস্থানে থাকলে মৃত ব্যক্তি সাহস পায় এবং একাকীত্ব অনুভব করে না। এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাফন শেষে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং আল্লাহর কাছে তার অবিচলতা কামনা করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘দাফনের পর কবরের সামনে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষের দিকের আয়াত তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব।’ হযরত আমর ইবনে আস রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যদের ওসিয়ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর আমার জানাজার সাথে ক্রন্দনরত কোনো মহিলা যাবে না এবং কেউ আগুন নিয়ে যাবে না। আর দাফন শেষে কবরের উপর কিছু মাটি দেবে এবং যতক্ষণ সময় একটা উট জবাই করে তার গোশত বন্টন করা যায়, ততক্ষণ আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যাতে আমি সাহস পাই এবং খেয়াল করো, আমি আমার প্রতিপালকের ফেরেশতাদের কী উত্তর প্রদান করি’।

টিকাঃ
৫০০. মুসলিম, ১/৩০৯।
৩০১. দুররে মুখতার, ৩/১৪১।
৩০২. শামী, ৩/১৪০।
৩০৩. আবু দাউদ, ২/৪৫৩; শামী, ২/১৫৩।
৩০৪. শামী, ৩/১৪০।
৩০৫. মুসলিম, ১/৭৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px