📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাত
আমিরুল মুমিনিন হযরত উসমান রা. যখন অবরুদ্ধ হলেন, তখন তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকলেন। বিদ্রোহীরা আক্রমণ করলে তিনি পূর্ণ ধীরতার সাথে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখলেন। এক পর্যায়ে একজন বিদ্রোহী লাফিয়ে এসে হযরতের গলা টিপে ধরে এবং অন্য দুজন তরবারী দিয়ে আক্রমণ করে। হযরত উসমান রা. হাত দিয়ে বাধা দিলে তাঁর হাত কেটে যায় এবং রক্তের প্রথম ফোঁটা কুরআনের ‘ফাসায়াকফীকাহুমুল্লাহ’ আয়াতের ওপর পড়ে। ৪৫০ আহত হাত দেখে হযরতের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, ‘এটা ঐ হাত, যেই হাত সর্বপ্রথম কুরআনে কারিমের সুরাগুলো লিখেছে।’
অবশেষে জনৈক পিশাচ হযরত উসমান রা.-এর পেটে তরবারী ঢুকিয়ে দিলে তিনি শাহাদাত লাভ করেন। ৪৫১ রক্তরঞ্জিত অবস্থায় হযরতের মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল— ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাঈনুকা আলা আমরি, ওয়া আসআলুকাস সাবরা আলা বালাই।’ ৪৫২ জনশ্রুতি রয়েছে, যারা হযরত উসমান রা.-এর মৃত্যুর শরিক ছিল, তারা পরে ভয়াবহভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। ৪৫৩
টিকাঃ
৪৫০. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৩৭।
৪৫১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০১।
৪৫২. কিফায়াতুল আকাব, ৩৪।
৪৫৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৯।
📄 শাহাদাতের সময় হযরত আলী রা.-এর বিচক্ষণতা
আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রা. ঘাতক ইবনে মুলজিম এর আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে যখন বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন তিনি হযরত হাসান ও হুসাইন রা.-কে গুরুত্বপূর্ণ ওসিয়ত করেন। তিনি সন্তানদের ও উম্মতকে আল্লাহকে ভয় করার, ঈমানের ওপর অটল থাকার এবং আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে ধারণ করার নির্দেশ দেন। তিনি আত্মীয়স্বজন, এতিম ও প্রতিবেশীদের অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার বিশেষ তগিদ দেন। সবশেষে হযরত আলী রা. বারবার কালিমায়ে তাইয়িবা পাঠ করতে করতে এবং সূরা যিলযালের আয়াত ‘ফামান ইয়ামাল মিছকালা যাররাতিন খয়রাই ইয়ারাহ...’ পাঠ করতে করতে ইন্তিকাল করেন। ৪৫৪
টিকাঃ
৪৫৪. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৫।
📄 হযরত হাসান রা.-এর মৃত্যু
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কলিজার টুকরা হযরত হাসান রা.-কে যখন বিষ পান করানো হলো, তখন তিনি আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে চাইলেন। তিনি আল্লাহর রহমতের ওপর পূর্ণ আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। যখন বিষের ক্রিয়া তীব্র হলো, তখন ছোটভাই হযরত হুসাইন রা.-কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘ভাইজান, আপনার রূহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেলেই আপনি বাবা হযরত আলী রা., মা হযরত ফাতেমা রা., নানাজান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নানী হযরত খাদিজা রা.-এর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবেন।’ এই সান্ত্বনাবাণী শুনে তিনি কাঁদতে শুরু করেন এবং ইন্তিকাল করেন। ৪৫২
টিকাঃ
৪৫২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৪৬৩।
📄 হযরত হুসাইন রা.-এর মর্মান্তিক শাহাদাত
শাহাদাতের পূর্বে হযরত হুসাইন রা. জালেম বাহিনীকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছ? আল্লাহর কসম! আমার পর তোমরা এমন কাউকে হত্যা করতে পারবে না, আল্লাহর নিকট যার হত্যা অধিক ক্ষতির কারণ হবে।’ হযরত হুসাইন রা.-এর পরিবারের সদস্যরা একে একে শাহাদাত বরণ করলেন। অবশেষে শমর ইবনে যিল জাওশানের প্ররোচনায় সিনান ইবনে আনাস হযরত হুসাইন রা.-কে শহিদ করে। ৪৫৩
টিকাঃ
৪৫৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৮৫।