📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মৃত্যুকালে হযরত উমর রা.-এর বিচক্ষণতা

📄 মৃত্যুকালে হযরত উমর রা.-এর বিচক্ষণতা


ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ, আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে বিচক্ষণতার এক সোনালী অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন। ফজরের নামায পড়ানোর সময় আবূ লু'লু নামক এক গোলাম কর্তৃক আঘাত পেয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মৃত্যুরোগে শায়িত অবস্থায় যখন জনৈক নওজোয়ান এসে তাঁর প্রশংসা করল, তখন উমর রা. তার টাখনুর নিচে ঝুলন্ত লুঙ্গির ওপর সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে বললেন, 'ভাই কাপড় টাখনুর ওপর পড়ো। এতে তোমার কাপড় পরিষ্কার থাকবে এবং এই আমল তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম হবে।'

মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর থেকেও তিনি ‘নাহি আনিল মুনকার’ বা অসৎ কাজে বাধা প্রদান করলেন। এরপর তিনি ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে তাঁর ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বলেন এবং উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করতে বলেন যেন তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.-এর পাশে দাফন করা হয়। হযরত আয়েশা রা. অনুমতি প্রদান করলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। তিনি পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য সাতজন সাহাবীর একটি দল গঠন করেন এবং তাঁদেরকে মুহাজির, আনসার, যিম্মি ও অন্যদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে বিশেষ নসিহত করেন। ৪৪৪

ব্যথার তীব্রতায় আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁকে সান্ত্বনা দিলে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! যদি আমার নিকট দুনিয়াভর্তি স্বর্ণ থাকত, তবে আল্লাহর আযাব দেখার পরেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদিয়া হিসেবে তা বিলিয়ে দিতাম।’ ৪৪৬ মৃত্যুর সময় হযরত উমর রা. নিজের মাথা আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর কোল থেকে সরিয়ে মাটির ওপর রেখে চেহারা ধূলামলিন করে ইরশাদ করেন, ‘যদি উমর ক্ষমা না পায়, তাহলে উমর ও তার মায়ের বড় অকল্যাণ হবে।’ ৪৪৭

হযরত আলী রা. তাঁর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “হে উমর, আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি আশা রাখি, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আপনার দুই সাথির (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আবু বকর রা.-এর) সঙ্গেই রাখবেন।” ৪৪৮

টিকাঃ
৪৪৪. বুখারী, ১/৫৩৩-৫৩৪।
৪৪৬. বুখারী, ১/৫২১, হাদিস নং-৩৪৭২।
৪৪৭. কিফায়াতুল আকাব, ৩৪।
৪৪৮. বুখারী, ১/৬৫৯, হাদিস নং-৩৯৩৫।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাত

📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাত


আমিরুল মুমিনিন হযরত উসমান রা. যখন অবরুদ্ধ হলেন, তখন তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকলেন। বিদ্রোহীরা আক্রমণ করলে তিনি পূর্ণ ধীরতার সাথে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখলেন। এক পর্যায়ে একজন বিদ্রোহী লাফিয়ে এসে হযরতের গলা টিপে ধরে এবং অন্য দুজন তরবারী দিয়ে আক্রমণ করে। হযরত উসমান রা. হাত দিয়ে বাধা দিলে তাঁর হাত কেটে যায় এবং রক্তের প্রথম ফোঁটা কুরআনের ‘ফাসায়াকফীকাহুমুল্লাহ’ আয়াতের ওপর পড়ে। ৪৫০ আহত হাত দেখে হযরতের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, ‘এটা ঐ হাত, যেই হাত সর্বপ্রথম কুরআনে কারিমের সুরাগুলো লিখেছে।’

অবশেষে জনৈক পিশাচ হযরত উসমান রা.-এর পেটে তরবারী ঢুকিয়ে দিলে তিনি শাহাদাত লাভ করেন। ৪৫১ রক্তরঞ্জিত অবস্থায় হযরতের মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল— ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাঈনুকা আলা আমরি, ওয়া আসআলুকাস সাবরা আলা বালাই।’ ৪৫২ জনশ্রুতি রয়েছে, যারা হযরত উসমান রা.-এর মৃত্যুর শরিক ছিল, তারা পরে ভয়াবহভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। ৪৫৩

টিকাঃ
৪৫০. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৩৭।
৪৫১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০১।
৪৫২. কিফায়াতুল আকাব, ৩৪।
৪৫৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৯।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 শাহাদাতের সময় হযরত আলী রা.-এর বিচক্ষণতা

📄 শাহাদাতের সময় হযরত আলী রা.-এর বিচক্ষণতা


আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রা. ঘাতক ইবনে মুলজিম এর আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে যখন বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন তিনি হযরত হাসান ও হুসাইন রা.-কে গুরুত্বপূর্ণ ওসিয়ত করেন। তিনি সন্তানদের ও উম্মতকে আল্লাহকে ভয় করার, ঈমানের ওপর অটল থাকার এবং আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে ধারণ করার নির্দেশ দেন। তিনি আত্মীয়স্বজন, এতিম ও প্রতিবেশীদের অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার বিশেষ তগিদ দেন। সবশেষে হযরত আলী রা. বারবার কালিমায়ে তাইয়িবা পাঠ করতে করতে এবং সূরা যিলযালের আয়াত ‘ফামান ইয়ামাল মিছকালা যাররাতিন খয়রাই ইয়ারাহ...’ পাঠ করতে করতে ইন্তিকাল করেন। ৪৫৪

টিকাঃ
৪৫৪. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৫।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত হাসান রা.-এর মৃত্যু

📄 হযরত হাসান রা.-এর মৃত্যু


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কলিজার টুকরা হযরত হাসান রা.-কে যখন বিষ পান করানো হলো, তখন তিনি আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে চাইলেন। তিনি আল্লাহর রহমতের ওপর পূর্ণ আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। যখন বিষের ক্রিয়া তীব্র হলো, তখন ছোটভাই হযরত হুসাইন রা.-কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘ভাইজান, আপনার রূহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেলেই আপনি বাবা হযরত আলী রা., মা হযরত ফাতেমা রা., নানাজান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নানী হযরত খাদিজা রা.-এর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবেন।’ এই সান্ত্বনাবাণী শুনে তিনি কাঁদতে শুরু করেন এবং ইন্তিকাল করেন। ৪৫২

টিকাঃ
৪৫২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৪৬৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px