📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ.-এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা

📄 মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ.-এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা


হযরত মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ. মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ.-এর খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি অত্যন্ত মননশীল, ইলম ও আমলের অধিকারী এবং ফাজলে দারুল উলুম দেওবন্দ ছিলেন। যখন রুহ বের হওয়ার আলামত প্রকাশ পায়, তখন অনেকক্ষণ যাবৎ তিনি বিচলিত ও শঙ্কাগ্রস্ত মনে বিতর্ক করতে থাকেন। মাওলানা মুফতি শফী সাহেব রহ. এই ভয়াবহ ও শিক্ষণীয় অবস্থা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছিলেন। বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরে মুফতি সাহেব রহ. লেখেন:

‘আসর কাছাকাছি সময়ে বারবার তিনি বেহুঁশ হচ্ছিলেন। মাগরিবের কিছুক্ষণ পূর্বে বিনীতভাবে ক্রন্দনরত অবস্থায় দোয়া করেন, “হে আমার মালিক, আমি গুনাহগার। উদাসীন ছিলাম, আমি কীভাবে তোমাকে মুখ দেখাব। কিন্তু তুমিই তো বলেছ যে সাবাকাত রাহমাতি আলা গাদাবি (আমার রহমত আমার ক্রোধের চেয়ে অগ্রগামী) তাই আমি তোমার রহমত ও দয়ার আশাবাদী।” তাঁর এই বিনীত দোয়ায় সবাই ভেঙে পড়েছিল। দোয়া শেষ হতে না হতেই তিনি উচ্চস্বরে বললেন, “আমি তায়াম্মুম করব।” তায়াম্মুম করে বলেন, “অভিশপ্ত (শয়তান), তুই আমাকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করতে চাইছিস। আমি কখনও নিরাশ হব না। আমি তাঁর রহমতের বড় আশাবাদী।”

‘এরপর শয়তান সূরা নামলের আয়াত তিলাওয়াত করেন। তখন শয়তান ওয়ানুনুজ্জিলু মিনাল কুরআন পড়তে চাইল, কিন্তু জিহ্বা আটকে যাচ্ছিল। এরপর খুব জোরে বার বার পাঠ করেন, ‘ওয়ানুনুজ্জিলু মিনাল কুরআন’ ও শয়তানকে সম্বোধন করে বলেন, “শয়তান, তুই আয়াত ভুলিয়ে দিতে চাইছিস। আমি এই আয়াত ভুলতে পারি না। এই আয়াতটি আমাকে মিয়া সাহেব রহ. বলেছেন, মুফতি শফী বলেছেন।” তিনি রক্ত বমি করছিলেন। বমি সামান্য বন্ধ হলে কখনও “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” পুরো কালিমা উচ্চ আওয়াজে পড়ছিলেন। আবার কখনও শয়তানকে উদ্দেশ্যে বলছিলেন, “শয়তান, তুই এখনও যাসনি।” কখনও বলছিলেন, “তাকে মারো, তাকে বের করে দাও।” বিদায়ের কিছুক্ষণ পূর্বে বলেন, “অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছে” (অথচ তখন সামনে মাত্র দুজন দাঁড়িয়ে ছিল)। মনে হচ্ছিল, তিনি ফেরেশতা দেখছিলেন। ফেরেশতাদের সম্বোধন করে বলেন, “এখন আল্লাহর দরবারে নিয়ে চলো।” অবশেষে রাত সাড়ে নয়টা বাজে আখেরাতের এই মুসাফির নিজের প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে নেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ ৪০৭

টিকাঃ
৪০৭. আন-নাইলুল মুকিম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px