📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মৃত্যুর সময় শয়তানের শেষচেষ্টা

📄 মৃত্যুর সময় শয়তানের শেষচেষ্টা


মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান শেষ সময় পর্যন্ত মানুষকে ঈমানহারা করে স্থায়ী আযাবের উপযুক্ত বানানোর জন্য কোনো ত্রুটি করে না। রুহ বের হওয়ার সময় শয়তান সামনে এসে দাঁড়ায় এবং বিভিন্নভাবে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে থাকবে, তাকে কালিমা তাইয়িবাহর তালকিন দেবে এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেবে। কারণ বড় বড় বিচক্ষণ নারী-পুরুষও এমন ভয়াবহ মুহূর্তে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই বিপদসঙ্কুল মুহূর্তে শয়তান মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। ৪০৭

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর অবস্থা এমন হয়েছিল যে, কখনও জ্ঞান ফিরে পেতেন, আবার কখনও বেহুঁশ হয়ে পড়তেন। হুঁশ ফিরে এসে ইশারায় বলতেন, 'না' 'না' এবং 'এখন নয়, এখন নয়'। ছেলে জিজ্ঞাসা করেন, 'আব্বাজান, আপনি কী বলছেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'শয়তান আমার সামনে দাঁতে আঙুল চেপে বলছে, "আফসোস আহমদ, তুমি আমার হাত থেকে ছুটে গেলে!" আমি তার উত্তরে বলছি, 'এখন নয়' অর্থাৎ এখনও তোমার ধোঁকা থেকে মুক্তি পাইনি। যতক্ষণ না ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করি ততক্ষণ তোমার ধোঁকা থেকে আমি নিরাপদ নই।' ৪০৮

ইমাম আবু জাফর কুরতুবী রহ.-এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁকে বলা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। তিনি বার বার বলছিলেন, না; অর্থাৎ কালিমা পাঠ করতে অস্বীকার করছিলেন। জ্ঞান ফিরে এলে লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'কালিমা পড়তে বললে আপনি কেন না না বলছিলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'শয়তান আমার সামনে দাঁড়িয়ে একবার বলছিল, খ্রিষ্টান ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করো, আবার বলছিল ইহুদি ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করো। আমি তার উত্তরে না না বলছিলাম।' ৪০৯

টিকাঃ
৪০৭. কানযুল উম্মাল, বাইরুত, ১৫/২০৭।
৪০৮. আত্ব-তাযকিরা, ৩৫।
৪০৯. আত্ব-তাযকিরা, ৩৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ.-এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা

📄 মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ.-এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা


হযরত মাওলানা মুহাম্মদ নাঈম দেওবন্দী রহ. মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ.-এর খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি অত্যন্ত মননশীল, ইলম ও আমলের অধিকারী এবং ফাজলে দারুল উলুম দেওবন্দ ছিলেন। যখন রুহ বের হওয়ার আলামত প্রকাশ পায়, তখন অনেকক্ষণ যাবৎ তিনি বিচলিত ও শঙ্কাগ্রস্ত মনে বিতর্ক করতে থাকেন। মাওলানা মুফতি শফী সাহেব রহ. এই ভয়াবহ ও শিক্ষণীয় অবস্থা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছিলেন। বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরে মুফতি সাহেব রহ. লেখেন:

‘আসর কাছাকাছি সময়ে বারবার তিনি বেহুঁশ হচ্ছিলেন। মাগরিবের কিছুক্ষণ পূর্বে বিনীতভাবে ক্রন্দনরত অবস্থায় দোয়া করেন, “হে আমার মালিক, আমি গুনাহগার। উদাসীন ছিলাম, আমি কীভাবে তোমাকে মুখ দেখাব। কিন্তু তুমিই তো বলেছ যে সাবাকাত রাহমাতি আলা গাদাবি (আমার রহমত আমার ক্রোধের চেয়ে অগ্রগামী) তাই আমি তোমার রহমত ও দয়ার আশাবাদী।” তাঁর এই বিনীত দোয়ায় সবাই ভেঙে পড়েছিল। দোয়া শেষ হতে না হতেই তিনি উচ্চস্বরে বললেন, “আমি তায়াম্মুম করব।” তায়াম্মুম করে বলেন, “অভিশপ্ত (শয়তান), তুই আমাকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করতে চাইছিস। আমি কখনও নিরাশ হব না। আমি তাঁর রহমতের বড় আশাবাদী।”

‘এরপর শয়তান সূরা নামলের আয়াত তিলাওয়াত করেন। তখন শয়তান ওয়ানুনুজ্জিলু মিনাল কুরআন পড়তে চাইল, কিন্তু জিহ্বা আটকে যাচ্ছিল। এরপর খুব জোরে বার বার পাঠ করেন, ‘ওয়ানুনুজ্জিলু মিনাল কুরআন’ ও শয়তানকে সম্বোধন করে বলেন, “শয়তান, তুই আয়াত ভুলিয়ে দিতে চাইছিস। আমি এই আয়াত ভুলতে পারি না। এই আয়াতটি আমাকে মিয়া সাহেব রহ. বলেছেন, মুফতি শফী বলেছেন।” তিনি রক্ত বমি করছিলেন। বমি সামান্য বন্ধ হলে কখনও “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” পুরো কালিমা উচ্চ আওয়াজে পড়ছিলেন। আবার কখনও শয়তানকে উদ্দেশ্যে বলছিলেন, “শয়তান, তুই এখনও যাসনি।” কখনও বলছিলেন, “তাকে মারো, তাকে বের করে দাও।” বিদায়ের কিছুক্ষণ পূর্বে বলেন, “অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছে” (অথচ তখন সামনে মাত্র দুজন দাঁড়িয়ে ছিল)। মনে হচ্ছিল, তিনি ফেরেশতা দেখছিলেন। ফেরেশতাদের সম্বোধন করে বলেন, “এখন আল্লাহর দরবারে নিয়ে চলো।” অবশেষে রাত সাড়ে নয়টা বাজে আখেরাতের এই মুসাফির নিজের প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে নেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ ৪০৭

টিকাঃ
৪০৭. আন-নাইলুল মুকিম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px