📄 মৃতকে গোসল দেওয়া এবং জানাযায় অংশগ্রহণ করা
হাদিস শরিফে মৃত্যুকে স্মরণ রাখার আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমের কথা বর্ণিত হয়েছে:
১. মৃতকে গোসল দেওয়া।
২. জানাযার নামাযে অধিক অংশগ্রহণ করা।
হযরত আবু যর গিফারী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কবরের যিয়ারতে যাবে। এর মাধ্যমে তুমি আখেরাতকে স্মরণ করবে। মৃতকে গোসল করাবে; কারণ মৃত লাশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এক ধরনের কার্যকরী উপদেশ। জানাযার নামাযে শরিক হবে। তা তোমাকে চিন্তিত করবে। আর চিন্তিত ব্যক্তি আল্লাহর ছায়াতলে থাকে। ৩৯৬
উক্ত হাদিসে মৃতকে গোসল করানোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। মৃত লাশ দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের লাশ অত্যন্ত সম্মানীয়। লাশকে সম্মান করা আবশ্যক। তাই মাসআলা জেনে নিকটবর্তী লোকেরা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো উত্তম। গোসল করানোর সময় অংশগ্রহণ করলে নিজের মৃত্যুর দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে। আর স্বাভাবিকভাবে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হবে।
৩. অধিক হারে জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করা। মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জানাযায় শরিক হয়, সে এক কিরাত সওয়াবের অধিকারী হয়, যা উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার সঙ্গে কবরস্থান পর্যন্তও যায় সে দুই কিরাত সওয়াবের অধিকারী হয়। ৩৯৭
তাই জানাযায় অংশগ্রহণের সুযোগ এলে তা হাতছাড়া করা উচিত নয়। জানাযার নামায পড়লে মানুষের মাঝে এই চিন্তার উদ্রেক হয় যে, একদিন আমারও মৃত্যু হবে। আমাকেও মুর্দার খাটে চড়তে হবে। এক আরব কবি বলেন :
হে বন্ধু, পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাস দ্বারা প্রতারিত হয়ো না। একদিন জীবন শেষ হবে, সব নেয়ামত হারিয়ে যাবে। যখন তুমি কোনো জানাযার খাট কবরস্থানে নিয়ে যাবে, তখন মনে করবে, একদিন তোমাকেও জানাযার খাটে উঠতে হবে।
উল্লিখিত হাদিসে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, জানাযা দেখে যখন অন্তর চিন্তিত হবে, তখন মানুষ আল্লাহমুখী হবে।
টিকাঃ
৩৯৬. শরহুস সুদূর, ৪৬, হাকেমের বরাতে।
৩৯৭. মুসলিম, ১/৩০৫।