📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 নির্দিষ্ট একজন কামেল বুযুর্গের সান্নিধ্য গ্রহণ

📄 নির্দিষ্ট একজন কামেল বুযুর্গের সান্নিধ্য গ্রহণ


অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা বলা যায় যে, শুধু কিতাবাদি অধ্যয়ন এবং জ্ঞানের ভান্ডার অর্জন করলেই আত্মার পবিত্রতা অর্জিত হয় না। আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আল্লাহতাআলা বুযুর্গানে দীনের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি এবং তাদের দিক-নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা আবশ্যক। তাই জরুরি হলো, মানুষ শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করে আরোগ্য লাভ করে, অনুরূপ আত্মার ব্যাধির চিকিৎসার জন্যও একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 শায়খে কামেলের প্রয়োজন

📄 শায়খে কামেলের প্রয়োজন


শায়েখে কামেল কে, আর কে শায়েখে কামেল নন, তা বোঝার উপায় কী? এ বিষয়ে হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেন, যার মাঝে নিম্নোক্ত আলামতগুলো থাকবে তিনিই শায়েখে কামেল হিসেবে বিবেচিত হবেন : ১. প্রথমত ইলমে দীনের অধিকারী হওয়া। ২. আমল-আখলাক ও আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে শরিয়তের পূর্ণ অনুসারী হওয়া। ৩. দুনিয়ার লোভ না থাকা, নিজেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্বের অধিকারী দাবি না করা। ৪. কোনো শায়েখে কামেলের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হওয়া। ৫. সমকালীন হক্কানী উলামায়েকেরাম ও শায়েখ-মাশায়েখদের ভালো মনে করা। ৬. সাধারণদের তুলনায় বিশেষ ব্যক্তিবর্গ তথা জ্ঞানী লোকদের প্রতি বেশি সমাদৃত হওয়া। ৭. অধিকাংশ মুরিদের শরিয়তের অনুসারী হওয়া এবং তাদের মাঝে দুনিয়ার লোভ-লালসা কম থাকা। ৮. মুরিদদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া। তাদের দীনি তালিম দেওয়া। মুরিদদের থেকে অনুচিত কাজ প্রকাশ পেলে সতর্ক করা। ৯. যার সান্নিধ্যে কয়েকবার বসলে দুনিয়াত্যাগীতা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পায়। ১০. শায়েখ নিজে যিকির-আযকারে মগ্ন থাকা। ৪০২

টিকাঃ
৪০২. কাসদুস সাবিল (ইসলাহী নেসাব), ৫০৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধির মূল লক্ষ্য

📄 তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধির মূল লক্ষ্য


এ সকল আল্লাহওয়ালাদের দিক-নির্দেশনায় নির্দিষ্ট আমল ও অজিফা পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, আত্মশুদ্ধি প্রার্থীদের মাঝে 'ইহসানের' গুণ প্রকাশিত হওয়া। অর্থাৎ অন্তর থেকে উদাসীনতার পর্দা সরে গিয়ে ঈমানের আলোয় অন্তরকে এমনভাবে আলোকিত করা, যাতে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণ অন্তরে জাগরুক রাখা সহজ হয়। ‘আন তা’বুদাল্লাহা কাআন্নাকা তারাহু...’ অর্থাৎ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। যদি এভাবে ইবাদত করতে না পারো, তা হলে ভাববে, তিনি তোমাকে দেখছেন। ৪০৩ এই মর্যাদায় উত্তীর্ণ হওয়া ই তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধির যাবতীয় মেহনতের মূল উদ্দেশ্য।

টিকাঃ
৪০৩. মুসলিম, ১/২৭৯।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আরেফ বিল্লাহ হযরত আবদুল কাদের রায়পুরী রহ.-এর বক্তব্য

📄 আরেফ বিল্লাহ হযরত আবদুল কাদের রায়পুরী রহ.-এর বক্তব্য


উক্ত বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল কাদের রায়পুরী রহ. বলেন, 'সর্বদা আল্লাহকে ভালোবাসা, সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চিন্তায় মগ্ন থাকা, তাঁর ব্যাপারে কখনও উদাসীন না হওয়া—নিজেকে এমনভাবে সাজানো শরিয়তের দাবি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানা যায়, এসব অর্জন ব্যতীত ঈমান পূর্ণতায় পৌঁছে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে একের পর এক তালিম ও তারবিয়া (শিক্ষাদীক্ষার) মতো এসব অবস্থা ও অর্জন হতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের বরকতে সাহাবিগণের সান্নিধ্যেও এই প্রভাব ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও যোগ্যতার অধঃপতনে কারণে তালিম-তরবিয়তের উদ্দেশ্যে বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য অবলম্বনেই যথেষ্ট থাকেনি। কাজেই বুযুর্গানে দীন ইহসানের অবস্থা সৃষ্টির জন্য সান্নিধ্য অবলম্বনের পাশাপাশি অধিক হারে যিকির করার পরামর্শ দেন। ৪০৪

টিকাঃ
৪০৪. ফিকহুল মাসায়েল, ৯০৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px