📄 অধিক ক্ষমা প্রার্থনায় অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়
হযরত আবু দারদা রা. বলেন, 'অন্তরের পবিত্র করার মাধ্যম হলো, আল্লাহর বরকতময় যিকির।' ৩৯৯ অর্থাৎ আল্লাহর যিকিরে নিজেকে যতবেশি মগ্ন রাখবে, অন্তর ততবেশি পবিত্র থাকবে, কল্যাণকর কাজের তাওফিক পাওয়া যাবে, আত্মার ব্যাধি নিরাময় হবে এবং অন্তরে শান্তি ও সুখ অনুভূত হবে। কুরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়। ৪০০
আল্লাহর যিকিরের পাশাপাশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনাকেও হাদিস শরিফে অন্তরের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম বলা হয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, অন্তরেও মরিচা পড়ে, যেমন মরিচা পড়ে তামায়। এই মরিচা দূর করনের উপায় হলো ইসতেগফার। ৪০১ আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার অন্তর ধূলিমলিন হয়। ফলে আমি প্রতিদিন একশবার ইসতেগফার করি।
টিকাঃ
৩৯৯. শুআবুল ইমান লিল বাইহাকী, ১/৩৮৯।
৪০০. সুরা রাদ, আয়াত: ২৮।
৪০১. তাবরানী, ৫০৮।
📄 বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য
অন্তরের পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কুরআনে কারিমে ‘ওয়ারকাউ মাআর রাকিয়িন’ (রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো) এবং ‘কুনু মায়াস সাদিকিন’ (সত্যবাদীদের সঙ্গে বসবাস করো)—আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৎ কাজের আগ্রহ ও অসৎ কাজের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টির জন্য আল্লাহর নেক বান্দাদের সান্নিধ্য গ্রহণ অত্যন্ত ক্রিয়াশীল ও উপকারী। রমযান মাস ইতেকাফের সূচনাও এই উদ্দেশ্যে হয়েছিল, যেন মানুষ এমন পরিবেশ পায় যেখানে পূর্ণ মনোযোগের মাধ্যমে ইবাদতে সময় লাগাতে পারে এবং গুনাহের যাবতীয় শঙ্কা থেকে দূরে থাকতে পারে।
📄 নির্দিষ্ট একজন কামেল বুযুর্গের সান্নিধ্য গ্রহণ
অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা বলা যায় যে, শুধু কিতাবাদি অধ্যয়ন এবং জ্ঞানের ভান্ডার অর্জন করলেই আত্মার পবিত্রতা অর্জিত হয় না। আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে আল্লাহতাআলা বুযুর্গানে দীনের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি এবং তাদের দিক-নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা আবশ্যক। তাই জরুরি হলো, মানুষ শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করে আরোগ্য লাভ করে, অনুরূপ আত্মার ব্যাধির চিকিৎসার জন্যও একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।
📄 শায়খে কামেলের প্রয়োজন
শায়েখে কামেল কে, আর কে শায়েখে কামেল নন, তা বোঝার উপায় কী? এ বিষয়ে হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেন, যার মাঝে নিম্নোক্ত আলামতগুলো থাকবে তিনিই শায়েখে কামেল হিসেবে বিবেচিত হবেন : ১. প্রথমত ইলমে দীনের অধিকারী হওয়া। ২. আমল-আখলাক ও আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে শরিয়তের পূর্ণ অনুসারী হওয়া। ৩. দুনিয়ার লোভ না থাকা, নিজেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্বের অধিকারী দাবি না করা। ৪. কোনো শায়েখে কামেলের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হওয়া। ৫. সমকালীন হক্কানী উলামায়েকেরাম ও শায়েখ-মাশায়েখদের ভালো মনে করা। ৬. সাধারণদের তুলনায় বিশেষ ব্যক্তিবর্গ তথা জ্ঞানী লোকদের প্রতি বেশি সমাদৃত হওয়া। ৭. অধিকাংশ মুরিদের শরিয়তের অনুসারী হওয়া এবং তাদের মাঝে দুনিয়ার লোভ-লালসা কম থাকা। ৮. মুরিদদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া। তাদের দীনি তালিম দেওয়া। মুরিদদের থেকে অনুচিত কাজ প্রকাশ পেলে সতর্ক করা। ৯. যার সান্নিধ্যে কয়েকবার বসলে দুনিয়াত্যাগীতা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পায়। ১০. শায়েখ নিজে যিকির-আযকারে মগ্ন থাকা। ৪০২
টিকাঃ
৪০২. কাসদুস সাবিল (ইসলাহী নেসাব), ৫০৭।