📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা

📄 আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা


সব ধরনের ব্যাধি থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য; চাই তা আত্মার ব্যাধি হোক, বা চারিত্রিক ব্যাধি। আত্মশুদ্ধির সারমর্ম হলো, এমনভাবে অন্তরের পবিত্রতা সাধন করা যে, তা নিজেই সকল প্রকার অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করার পাশাপাশি উত্তম চরিত্রের অনুগামী হতে শুরু করে। অন্তর পূত-পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সহজ ও সুগম হয়। এরই কারণেই কুরআন কারিমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব আলোচনা করতে গিয়ে বিশেষভাবে وَيُزَكِّيهِمْ ‘তিনি তাদের পবিত্র করেন’— উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়েকেরাম এর আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে খুবই যত্নবান ছিলেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য, দিক-নির্দেশনা ও শিক্ষার ফলে তারা কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল ওলী-আউলিয়া, শায়েখ-মাশায়েখ ও আলেম-উলামার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় জবানে ‘দিক-নির্দেশক তারকা’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। আত্মশুদ্ধির পরে তাদের যে চারিত্রিক উন্মেষ ঘটেছিল, তা বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘মা কানা মুস্তান্না ফাল ইয়াসতান্না বিমান কদ মাতা... উলাইকা আসহাবু মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারও রীতিনীতি অনুসরণ করতে চায়, সে যেন দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া ব্যক্তিদেরই অনুসরণ করে। কেননা জীবিত ব্যক্তিরা ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়। সেই অনুসরণযোগ্য মৃত ব্যক্তিগণ হলেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা ছিলেন পবিত্র অন্তরাত্মার অধিকারী, গভীর জ্ঞানী এবং কৃত্রিমতা ও বাহুল্য বর্জনকারী। আল্লাহ তায়ালা তাদের আপন নবীর সাহচর্য এবং আপন দীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছিলেন। অতএব, তোমরা তাদের মর্যাদা অনুসন্ধান করো, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো এবং সাধ্যমতো তাঁদের স্বভাব-চরিত্র আঁকড়ে ধরো। কেননা তারা সরল ও সঠিক পথে ছিলেন। ১৯৮

টিকাঃ
১৯৮. মিশকাত, ১/৩২; মাযাহেরে হক, ১/৩০১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 আত্মার ব্যাধি ও তার প্রতিকার

📄 আত্মার ব্যাধি ও তার প্রতিকার


প্রশ্ন হলো, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার উপায় কী? কীরূপে আত্মাকে যাবতীয় অসাধু চরিত্র থেকে নিরাপদ রাখা যায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ইন্না লিকুল্লি শাইয়িন সিকলাতান ওয়া সিকলাতুল কুলুবি যিকরুল্লাহ...’ অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুকে কোনো-না-কোনো জিনিসের মাধ্যমে পরিষ্কার করা যায়। আর অন্তর পরিষ্কার করার মাধ্যম হলো আল্লাহর যিকির। আল্লাহর যিকিরের চেয়ে আল্লাহর আযাব থেকে অধিক মুক্তিদাতা আর কোনো কিছু নেই। ১৯৯ অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যিকরুল্লাহি শিফাউল কুলুব’ অর্থাৎ আল্লাহর যিকির হৃদয়ের সুস্থতা। ২০০

টিকাঃ
১৯৯. শুআবুল ইমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১; কানযুল উম্মাল, ১/৯২১।
২০০. কানযুল উম্মাল, ১/৯২১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অধিক ক্ষমা প্রার্থনায় অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়

📄 অধিক ক্ষমা প্রার্থনায় অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়


হযরত আবু দারদা রা. বলেন, 'অন্তরের পবিত্র করার মাধ্যম হলো, আল্লাহর বরকতময় যিকির।' ৩৯৯ অর্থাৎ আল্লাহর যিকিরে নিজেকে যতবেশি মগ্ন রাখবে, অন্তর ততবেশি পবিত্র থাকবে, কল্যাণকর কাজের তাওফিক পাওয়া যাবে, আত্মার ব্যাধি নিরাময় হবে এবং অন্তরে শান্তি ও সুখ অনুভূত হবে। কুরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়। ৪০০

আল্লাহর যিকিরের পাশাপাশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনাকেও হাদিস শরিফে অন্তরের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম বলা হয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, অন্তরেও মরিচা পড়ে, যেমন মরিচা পড়ে তামায়। এই মরিচা দূর করনের উপায় হলো ইসতেগফার। ৪০১ আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার অন্তর ধূলিমলিন হয়। ফলে আমি প্রতিদিন একশবার ইসতেগফার করি।

টিকাঃ
৩৯৯. শুআবুল ইমান লিল বাইহাকী, ১/৩৮৯।
৪০০. সুরা রাদ, আয়াত: ২৮।
৪০১. তাবরানী, ৫০৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য

📄 বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য


অন্তরের পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বুযুর্গানে দীনের সান্নিধ্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কুরআনে কারিমে ‘ওয়ারকাউ মাআর রাকিয়িন’ (রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো) এবং ‘কুনু মায়াস সাদিকিন’ (সত্যবাদীদের সঙ্গে বসবাস করো)—আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৎ কাজের আগ্রহ ও অসৎ কাজের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টির জন্য আল্লাহর নেক বান্দাদের সান্নিধ্য গ্রহণ অত্যন্ত ক্রিয়াশীল ও উপকারী। রমযান মাস ইতেকাফের সূচনাও এই উদ্দেশ্যে হয়েছিল, যেন মানুষ এমন পরিবেশ পায় যেখানে পূর্ণ মনোযোগের মাধ্যমে ইবাদতে সময় লাগাতে পারে এবং গুনাহের যাবতীয় শঙ্কা থেকে দূরে থাকতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px