📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দীনের প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করাও জায়েয

📄 দীনের প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করাও জায়েয


যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪

টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।

যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪

টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অন্তর পরিষ্কার রাখার পরীক্ষিত আমল

📄 অন্তর পরিষ্কার রাখার পরীক্ষিত আমল


আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।

আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ওজর তালাশ করা

📄 ওজর তালাশ করা


কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাববিরোধী কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে যথাসাধ্য এর পেছনে কোনো ওজর তালাশ করবে। যেমন: হয়তো কোনো কল্যাণের জন্যই সে এ কাজ করেছে, হয়তো সে অপারগ ছিল ইত্যাদি। তার ফিকিরে ভালো দৃষ্টিতে দেখার কারণে ইনশাআল্লাহ তার জন্য হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি হবে না। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন ও আবূ কালাবা রহ. বলেন, যদি তোমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত কাজ প্রকাশ পেতে দেখ, তা হলে তার অপারগতা খোঁজ করবে। যদি কোনো অপারগতা খুঁজে না পাও, তা হলে এ কথা বলবে যে, হয়তো সে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, যা আমার জানা নেই। ১৯০

টিকাঃ
190. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।

কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাববিরোধী কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে যথাসাধ্য এর পেছনে কোনো ওজর তালাশ করবে। যেমন: হয়তো কোনো কল্যাণের জন্যই সে এ কাজ করেছে, হয়তো সে অপারগ ছিল ইত্যাদি। তার ফিকিরে ভালো দৃষ্টিতে দেখার কারণে ইনশাআল্লাহ তার জন্য হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি হবে না। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন ও আবূ কালাবা রহ. বলেন, যদি তোমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত কাজ প্রকাশ পেতে দেখ, তা হলে তার অপারগতা খোঁজ করবে। যদি কোনো অপারগতা খুঁজে না পাও, তা হলে এ কথা বলবে যে, হয়তো সে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, যা আমার জানা নেই। ১৯০

টিকাঃ
190. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখার ভান করা

📄 ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখার ভান করা


অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আবশ্যক হলো, অন্যের ত্রুটি সন্ধানে লিপ্ত না হওয়া, বরং নিজের কাজে মগ্ন থাকা। হযরত আবূ দারদা রা. বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রত্যেক কাজের পেছনে পড়ে, তার পেরেশানী বেড়ে যায় এবং রাগ দমিত হয় না। ১৯১

প্রথমত অন্যের ত্রুটি জানার চেষ্টা করবে না। কোনো কারণে জেনে গেলে বাস্তবতা যাচাইয়ের পেছনে পড়বে না এবং যথাসাধ্য দেখেও না-দেখার ভান করবে। ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হলো ঐ ব্যক্তি, যে মেধাবী এবং অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে বেখবর। ১৯২

বাস্তবতই দোষ-ত্রুটি দেখেও না দেখাই হলো শান্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, দুনিয়ার কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়। যদি সকলেই ত্রুটির সন্ধানে নেমে পড়ে, তা হলে ত্রুটিমুক্ত কাউকে পাওয়া যাবে না। হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এমন বন্ধু খোঁজে যে সম্পূর্ণরূপে ত্রুটি থেকে মুক্ত, তা হলে সে সারাজীবন বন্ধুহীন থাকবে। ১৯৪

টিকাঃ
191. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
192. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
193. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬০।

অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আবশ্যক হলো, অন্যের ত্রুটি সন্ধানে লিপ্ত না হওয়া, বরং নিজের কাজে মগ্ন থাকা। হযরত আবূ দারদা রা. বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রত্যেক কাজের পেছনে পড়ে, তার পেরেশানী বেড়ে যায় এবং রাগ দমিত হয় না। ১৯১

প্রথমত অন্যের ত্রুটি জানার চেষ্টা করবে না। কোনো কারণে জেনে গেলে বাস্তবতা যাচাইয়ের পেছনে পড়বে না এবং যথাসাধ্য দেখেও না-দেখার ভান করবে। ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হলো ঐ ব্যক্তি, যে মেধাবী এবং অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে বেখবর। ১৯২

বাস্তবতই দোষ-ত্রুটি দেখেও না দেখাই হলো শান্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, দুনিয়ার কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়। যদি সকলেই ত্রুটির সন্ধানে নেমে পড়ে, তা হলে ত্রুটিমুক্ত কাউকে পাওয়া যাবে না। হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এমন বন্ধু খোঁজে যে সম্পূর্ণরূপে ত্রুটি থেকে মুক্ত, তা হলে সে সারাজীবন বন্ধুহীন থাকবে। ১৯৪

টিকাঃ
191. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
192. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
193. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px