📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 যেখানে রাগ কাম্য

📄 যেখানে রাগ কাম্য


উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩

টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।

উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩

টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 দীনের প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করাও জায়েয

📄 দীনের প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করাও জায়েয


যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪

টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।

যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪

টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অন্তর পরিষ্কার রাখার পরীক্ষিত আমল

📄 অন্তর পরিষ্কার রাখার পরীক্ষিত আমল


আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।

আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ওজর তালাশ করা

📄 ওজর তালাশ করা


কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাববিরোধী কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে যথাসাধ্য এর পেছনে কোনো ওজর তালাশ করবে। যেমন: হয়তো কোনো কল্যাণের জন্যই সে এ কাজ করেছে, হয়তো সে অপারগ ছিল ইত্যাদি। তার ফিকিরে ভালো দৃষ্টিতে দেখার কারণে ইনশাআল্লাহ তার জন্য হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি হবে না। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন ও আবূ কালাবা রহ. বলেন, যদি তোমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত কাজ প্রকাশ পেতে দেখ, তা হলে তার অপারগতা খোঁজ করবে। যদি কোনো অপারগতা খুঁজে না পাও, তা হলে এ কথা বলবে যে, হয়তো সে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, যা আমার জানা নেই। ১৯০

টিকাঃ
190. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।

কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাববিরোধী কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে যথাসাধ্য এর পেছনে কোনো ওজর তালাশ করবে। যেমন: হয়তো কোনো কল্যাণের জন্যই সে এ কাজ করেছে, হয়তো সে অপারগ ছিল ইত্যাদি। তার ফিকিরে ভালো দৃষ্টিতে দেখার কারণে ইনশাআল্লাহ তার জন্য হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি হবে না। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন ও আবূ কালাবা রহ. বলেন, যদি তোমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত কাজ প্রকাশ পেতে দেখ, তা হলে তার অপারগতা খোঁজ করবে। যদি কোনো অপারগতা খুঁজে না পাও, তা হলে এ কথা বলবে যে, হয়তো সে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, যা আমার জানা নেই। ১৯০

টিকাঃ
190. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩৬১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px