📄 হযরত যাইনুল আবেদিন রহ.-এর একটি ঘটনা
নববী বংশের প্রদীপ হযরত যাইনুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন রহ.-কে একবার তাঁর বাঁদি ওজু করাচ্ছিল। হঠাৎ বাঁদির হাত থেকে পাত্রটি পড়ে হযরতের চেহারা জখম হয়ে যায়। হযরত মাথা তুলে তাকাতেই বাঁদি আরবিতে ‘যারা ক্রোধ সংবরণ করে’—পাঠ করল। হযরত বললেন, ‘আমি ক্রোধ সংবরণ করেছি।’ অতঃপর বাঁদি আয়াতের পরবর্তী অংশ ‘ওয়াল আফিনা আনিন নাস’ —‘যারা অন্যকে ক্ষমা করে’ —পাঠ করল। বাঁদির মুখে আয়াতটি শুনে হযরত বললেন, ‘যাও আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম।’ এবং আল্লাহও তোমাকে মাফ করুন। অতঃপর বাঁদি আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন’ —‘আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ —পাঠ করল। তা শুনে হযরত যাইনুল আবেদীন রহ. বললেন, ‘যাও, আজ থেকে তুমি আযাদ।’
এই ঘটনা সামনে রেখে একটু ভাবুন, আমরা আমাদের চাকর-বাকরদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি? ঈমানের দাবি হলো, শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেওয়া এবং সামান্য পার্থিব ক্ষতি মেনে নিয়ে আখেরাতের প্রতিদানের জন্য আশাবাদী হওয়া।
টিকাঃ
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।
নববী বংশের প্রদীপ হযরত যাইনুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন রহ.-কে একবার তাঁর বাঁদি ওজু করাচ্ছিল। হঠাৎ বাঁদির হাত থেকে পাত্রটি পড়ে হযরতের চেহারা জখম হয়ে যায়। হযরত মাথা তুলে তাকাতেই বাঁদি আরবিতে ‘যারা ক্রোধ সংবরণ করে’—পাঠ করল। হযরত বললেন, ‘আমি ক্রোধ সংবরণ করেছি।’ অতঃপর বাঁদি আয়াতের পরবর্তী অংশ ‘ওয়াল আফিনা আনিন নাস’ —‘যারা অন্যকে ক্ষমা করে’ —পাঠ করল। বাঁদির মুখে আয়াতটি শুনে হযরত বললেন, ‘যাও আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম।’ এবং আল্লাহও তোমাকে মাফ করুন। অতঃপর বাঁদি আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন’ —‘আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ —পাঠ করল। তা শুনে হযরত যাইনুল আবেদীন রহ. বললেন, ‘যাও, আজ থেকে তুমি আযাদ।’
এই ঘটনা সামনে রেখে একটু ভাবুন, আমরা আমাদের চাকর-বাকরদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি? ঈমানের দাবি হলো, শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেওয়া এবং সামান্য পার্থিব ক্ষতি মেনে নিয়ে আখেরাতের প্রতিদানের জন্য আশাবাদী হওয়া।
টিকাঃ
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।
📄 যেখানে রাগ কাম্য
উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩
টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।
উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩
টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।
📄 দীনের প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করাও জায়েয
যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪
টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।
যদি গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকরণে দ্বীনের কোনো উপকার সাধিত হয়, তা হলে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করাও জায়েয আছে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা ওজরে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিখ্যাত তিন সাহাবী কাব ইবনে মালেক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়াকে দীর্ঘ ৫০ দিন বয়কট রাখা হয়েছিল। এই বয়কটের ঘটনা থেকে ইমাম নববী রহ. অনেকগুলো শিক্ষণীয় দিক উদ্ঘাটন করেছেন। ২০৪
টিকাঃ
204. শরহে মুসলিম (নববী), ২/২২৪।
📄 অন্তর পরিষ্কার রাখার পরীক্ষিত আমল
আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।
আগে আলোচনা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ণ লজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র রাখা। প্রশ্ন হলো, মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করলে স্বভাববিরুদ্ধ অনেক কাজ সামনে আসে। তা হলে অন্তরকে অন্যের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন রাখার উপায় কী? উত্তর হলো, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত উপকারী: ১. ওজর তালাশ করা, ২. ভুল-ত্রুটি দেখেও না-দেখা।