📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ

📄 সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ


ব্যক্তিগত বিষয়ে রাগের বশবর্তী না হওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সৌভাগ্যের বিষয়। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার মাকবুল বান্দাদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ হয়েছে,

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ

যারা নিজেদের রাগাবেগ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। ১৯০

এক হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে-কেরামকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোন্ ব্যক্তিকে সর্বাধিক শক্তিশালী মনে করো? সাহাবায়েকেরাম জবাব দিলেন, আমরা ঐ ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে করি, যাকে কুস্তিতে কেউ আছাড় দিতে না পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

لَيْسَ بِذَلِكَ وَلَكِنَّه الذي يملك نفسه عند الغضب.

এমন ব্যক্তি নয়; বরং ঐ ব্যক্তি সর্বাধিক শক্তিশালী যে ক্রোধের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ১৯১

টিকাঃ
190. সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪।
191. মুসলিম, ২/১০৬।

ব্যক্তিগত বিষয়ে রাগের বশবর্তী না হওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সৌভাগ্যের বিষয়। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার মাকবুল বান্দাদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ হয়েছে,

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ

যারা নিজেদের রাগাবেগ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। ১৯০

এক হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে-কেরামকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোন্ ব্যক্তিকে সর্বাধিক শক্তিশালী মনে করো? সাহাবায়েকেরাম জবাব দিলেন, আমরা ঐ ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে করি, যাকে কুস্তিতে কেউ আছাড় দিতে না পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

لَيْسَ بِذَلِكَ وَلَكِنَّه الذي يملك نفسه عند الغضب.

এমন ব্যক্তি নয়; বরং ঐ ব্যক্তি সর্বাধিক শক্তিশালী যে ক্রোধের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ১৯১

টিকাঃ
190. সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪।
191. মুসলিম, ২/১০৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 রাগ নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিদান

📄 রাগ নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিদান


এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُورٍ شَاءَ.

যে ব্যক্তি ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা দমন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে সকল মাখলুকের সামনে ডাকবেন এবং যে কোনো জান্নাতী হুর বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দান করবেন। ১৯২

আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَا جَرْعِ عَبْدٍ جَرْعَةً أَعْظَمَ أَجْرًا عِنْدَ اللَّهِ مِن جُرْعَةِ غَيْظِ كَظَّمَهَا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.

আল্লাহর নিকট প্রতিদানের দিক থেকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ঢোক যা বান্দা পান করে, তা হলো ক্রোধের ঢোক, যা বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় পান করে। ১৯৩

টিকাঃ
192. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।
193. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।

এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُورٍ شَاءَ.

যে ব্যক্তি ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা দমন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে সকল মাখলুকের সামনে ডাকবেন এবং যে কোনো জান্নাতী হুর বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দান করবেন। ১৯২

আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَا جَرْعِ عَبْدٍ جَرْعَةً أَعْظَمَ أَجْرًا عِنْدَ اللَّهِ مِن جُرْعَةِ غَيْظِ كَظَّمَهَا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.

আল্লাহর নিকট প্রতিদানের দিক থেকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ঢোক যা বান্দা পান করে, তা হলো ক্রোধের ঢোক, যা বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় পান করে। ১৯৩

টিকাঃ
192. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।
193. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত যাইনুল আবেদিন রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 হযরত যাইনুল আবেদিন রহ.-এর একটি ঘটনা


নববী বংশের প্রদীপ হযরত যাইনুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন রহ.-কে একবার তাঁর বাঁদি ওজু করাচ্ছিল। হঠাৎ বাঁদির হাত থেকে পাত্রটি পড়ে হযরতের চেহারা জখম হয়ে যায়। হযরত মাথা তুলে তাকাতেই বাঁদি আরবিতে ‘যারা ক্রোধ সংবরণ করে’—পাঠ করল। হযরত বললেন, ‘আমি ক্রোধ সংবরণ করেছি।’ অতঃপর বাঁদি আয়াতের পরবর্তী অংশ ‘ওয়াল আফিনা আনিন নাস’ —‘যারা অন্যকে ক্ষমা করে’ —পাঠ করল। বাঁদির মুখে আয়াতটি শুনে হযরত বললেন, ‘যাও আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম।’ এবং আল্লাহও তোমাকে মাফ করুন। অতঃপর বাঁদি আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন’ —‘আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ —পাঠ করল। তা শুনে হযরত যাইনুল আবেদীন রহ. বললেন, ‘যাও, আজ থেকে তুমি আযাদ।’

এই ঘটনা সামনে রেখে একটু ভাবুন, আমরা আমাদের চাকর-বাকরদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি? ঈমানের দাবি হলো, শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেওয়া এবং সামান্য পার্থিব ক্ষতি মেনে নিয়ে আখেরাতের প্রতিদানের জন্য আশাবাদী হওয়া।

টিকাঃ
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।

নববী বংশের প্রদীপ হযরত যাইনুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন রহ.-কে একবার তাঁর বাঁদি ওজু করাচ্ছিল। হঠাৎ বাঁদির হাত থেকে পাত্রটি পড়ে হযরতের চেহারা জখম হয়ে যায়। হযরত মাথা তুলে তাকাতেই বাঁদি আরবিতে ‘যারা ক্রোধ সংবরণ করে’—পাঠ করল। হযরত বললেন, ‘আমি ক্রোধ সংবরণ করেছি।’ অতঃপর বাঁদি আয়াতের পরবর্তী অংশ ‘ওয়াল আফিনা আনিন নাস’ —‘যারা অন্যকে ক্ষমা করে’ —পাঠ করল। বাঁদির মুখে আয়াতটি শুনে হযরত বললেন, ‘যাও আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম।’ এবং আল্লাহও তোমাকে মাফ করুন। অতঃপর বাঁদি আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন’ —‘আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ —পাঠ করল। তা শুনে হযরত যাইনুল আবেদীন রহ. বললেন, ‘যাও, আজ থেকে তুমি আযাদ।’

এই ঘটনা সামনে রেখে একটু ভাবুন, আমরা আমাদের চাকর-বাকরদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি? ঈমানের দাবি হলো, শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেওয়া এবং সামান্য পার্থিব ক্ষতি মেনে নিয়ে আখেরাতের প্রতিদানের জন্য আশাবাদী হওয়া।

টিকাঃ
194. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৬১।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 যেখানে রাগ কাম্য

📄 যেখানে রাগ কাম্য


উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩

টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।

উপর্যুক্ত বিস্তারিত আলোচনা থেকে কারও মাঝে যেন এই ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয় যে, কোনো ক্ষেত্রেই ক্রোধ বা রাগ বৈধ ও পছন্দনীয় নয়। বরং জেনে রাখা জরুরি, রাগ দমন করার বিধান সেক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে রাগ নিছক ব্যক্তিগত বিষয়ে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে দ্বীনী বিষয়ে রাগ প্রকাশ করা ঈমানের দাবি। যদি শরিয়তের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, সুন্নতের অবমাননা করা হয়, ইসলাম ও মুসলমান কিংবা দ্বীনের নিদর্শনাবলির সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়, এমন স্থানে ক্রোধাম্বিত হওয়া প্রশংসনীয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রমাধুর্য সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হকের বিরোধিতা করা হলে তিনি রেগে আগুন হয়ে যেতেন, কেউ তাঁর রাগ থামাতে পারতো না। তিনি নিজের স্বার্থে কখনও রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। হাদিসের ভান্ডারে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তবিরোধী কাজ কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে ভীষণ ক্রোধ প্রকাশ করতেন। একবার হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. একজন কালিমা পাঠকারীকে মুনাফিক মনে করে হত্যা করে ফেলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০৩

টিকাঃ
199. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৯/১৯।
202. শামায়েলে তিরমিযী।
203. মুসলিম, ১/৬৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px