📄 কথা বলা বন্ধ করা
বর্তমানে দুই ব্যক্তির মাঝে সামান্য মনোমালিন্য হতেই পরস্পর কথা বন্ধ হয়ে যায়। আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগির মাঝে একে অপরকে থেকে দূরে থাকে। এমনকি কখনও কখনও দুজন মুখোমুখি হলে মুখ ফিরিয়ে উলটো পথে হাঁটতে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ.
তিন দিনের অধিক সময় স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকা কারও জন্য জায়েয নেই। এই দুইজনের মাঝে সেই উত্তম, যে প্রথম সালাম দেয়। ৩৪৫
হাদিসে তিন দিনের শর্ত আরোপ করার কারণ হলো, ঝগড়ার পর মানবীয় স্বভাবের কারণে কথা বলতে না পারলেও তিন দিনের মধ্যে এই প্রভাব চলে যায়। এরপরও যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা বন্ধ রাখে, তবে এটা মানবীয় স্বভাবের প্রভাব নয়, বরং ঘৃণা ও শত্রুতার প্রভাব, যা শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। একটু চিন্তা করলে এই বিষয়টা স্পষ্ট হয় যে, মনোমালিন্যের কারণে কথাবার্তা বন্ধ করে দিলে তা মনোমালিন্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা কথা চালু থাকলে আলোচনার ভিত্তিতে অনেক খারাপ ধারণা দূর হয়ে যায়। পক্ষান্তরে কথা বলা বন্ধ থাকলে ঝগড়া বরাবরই বাড়তে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে ঝগড়ার সকল মাধ্যমকে সমূলে উৎখাত করার উপদেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন,
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا.
তোমরা খারাপ ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাকো। কারণ, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। অন্যের দোষ অনুসন্ধান কোরো না। একে অপরকে ধোঁকা দিও না, পরস্পর হিংসা কোরো না, পরস্পর ঘৃণা কোরো না। একে অন্যের পেছনে পড়ো না। সবাই ভাই ভাই হয়ে বসবাস করো। ৩৪৬
অন্য এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةَ فَهْوَ كَسَفْكِ دَمِهِ.
যে ব্যক্তি নিজের মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে এক বছর কথা বন্ধ রাখল, সে যেন তার রক্ত প্রবাহিত করল। ৩৪৭
অনেক সময় দেখা যায়, দুই ব্যক্তির একজন সন্ধিপ্রার্থী, কিন্তু আরেকজন সন্ধি করতে প্রস্তুত নয়। এমন হলে দেখতে হবে, দ্বিতীয়জন কেন সন্ধি করতে প্রস্তুত নয়? যদি সে তার হক প্রতিষ্ঠার আশায় এমন করে, তা হলে শীঘ্রই তার হক আদায় করা উচিত। আর যদি অনর্থক সন্ধি করতে না চায়, তা হলে সন্ধিপ্রার্থীর উপর ঝগড়া-বিবাদ ও কথা না বলার গুনাহ বর্তাবে না; বরং কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তিই গুনাহগার হবে। এক হাদিসে এসেছে,
لَا تَحِلُّ الْهِجْرَةُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَإِنَ الْتَقَيَا فَسَلَّمَ أَحَدُهُمَا فَرَدَّ الْآخَرُ اشْتَرَكَا فِي الْأَجْرِ وَإِنْ لَمْ يَرُدَّ بَرِئَ هَذَا مِنَ الْإِثْمِ وَبَاءَ بِهِ الْآخَرُ.
তিন দিনের বেশি সময় কথা বন্ধ রাখা জায়েয নেই। যদি পথে দুইজনের দেখা হয় এবং একজন সালাম দেয়, অপরজন উত্তর দেয়, তা হলে উভয়ই সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। আর যদি একজন সালামের উত্তর না দেয়, তা হলে সালামদাতা গুনাহমুক্ত থাকবে এবং অপরজন গুনাহগার হবে। ৩৪৮
টিকাঃ
৩৪৫. মিশকাত, ২/৪২৭।
৩৪৬. বুখারী; মুসলিম; মিশকাত; ২/৪২৭।
৩৪৭. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০৫।
৩৪৮. তাবারানী; আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০৬।
বর্তমানে দুই ব্যক্তির মাঝে সামান্য মনোমালিন্য হতেই পরস্পর কথা বন্ধ হয়ে যায়। আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগির মাঝে একে অপরকে থেকে দূরে থাকে। এমনকি কখনও কখনও দুজন মুখোমুখি হলে মুখ ফিরিয়ে উলটো পথে হাঁটতে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ.
তিন দিনের অধিক সময় স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকা কারও জন্য জায়েয নেই। এই দুইজনের মাঝে সেই উত্তম, যে প্রথম সালাম দেয়। ৩৪৫
হাদিসে তিন দিনের শর্ত আরোপ করার কারণ হলো, ঝগড়ার পর মানবীয় স্বভাবের কারণে কথা বলতে না পারলেও তিন দিনের মধ্যে এই প্রভাব চলে যায়। এরপরও যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা বন্ধ রাখে, তবে এটা মানবীয় স্বভাবের প্রভাব নয়, বরং ঘৃণা ও শত্রুতার প্রভাব, যা শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। একটু চিন্তা করলে এই বিষয়টা স্পষ্ট হয় যে, মনোমালিন্যের কারণে কথাবার্তা বন্ধ করে দিলে তা মনোমালিন্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা কথা চালু থাকলে আলোচনার ভিত্তিতে অনেক খারাপ ধারণা দূর হয়ে যায়। পক্ষান্তরে কথা বলা বন্ধ থাকলে ঝগড়া বরাবরই বাড়তে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে ঝগড়ার সকল মাধ্যমকে সমূলে উৎখাত করার উপদেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন,
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا.
তোমরা খারাপ ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাকো। কারণ, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। অন্যের দোষ অনুসন্ধান কোরো না। একে অপরকে ধোঁকা দিও না, পরস্পর হিংসা কোরো না, পরস্পর ঘৃণা কোরো না। একে অন্যের পেছনে পড়ো না। সবাই ভাই ভাই হয়ে বসবাস করো। ৩৪৬
অন্য এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةَ فَهْوَ كَسَفْكِ دَمِهِ.
যে ব্যক্তি নিজের মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে এক বছর কথা বন্ধ রাখল, সে যেন তার রক্ত প্রবাহিত করল। ৩৪৭
অনেক সময় দেখা যায়, দুই ব্যক্তির একজন সন্ধিপ্রার্থী, কিন্তু আরেকজন সন্ধি করতে প্রস্তুত নয়। এমন হলে দেখতে হবে, দ্বিতীয়জন কেন সন্ধি করতে প্রস্তুত নয়? যদি সে তার হক প্রতিষ্ঠার আশায় এমন করে, তা হলে শীঘ্রই তার হক আদায় করা উচিত। আর যদি অনর্থক সন্ধি করতে না চায়, তা হলে সন্ধিপ্রার্থীর উপর ঝগড়া-বিবাদ ও কথা না বলার গুনাহ বর্তাবে না; বরং কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তিই গুনাহগার হবে। এক হাদিসে এসেছে,
لَا تَحِلُّ الْهِجْرَةُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَإِنَ الْتَقَيَا فَسَلَّمَ أَحَدُهُمَا فَرَدَّ الْآخَرُ اشْتَرَكَا فِي الْأَجْرِ وَإِنْ لَمْ يَرُدَّ بَرِئَ هَذَا مِنَ الْإِثْمِ وَبَاءَ بِهِ الْآخَرُ.
তিন দিনের বেশি সময় কথা বন্ধ রাখা জায়েয নেই। যদি পথে দুইজনের দেখা হয় এবং একজন সালাম দেয়, অপরজন উত্তর দেয়, তা হলে উভয়ই সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। আর যদি একজন সালামের উত্তর না দেয়, তা হলে সালামদাতা গুনাহমুক্ত থাকবে এবং অপরজন গুনাহগার হবে। ৩৪৮
টিকাঃ
৩৪৫. মিশকাত, ২/৪২৭।
৩৪৬. বুখারী; মুসলিম; মিশকাত; ২/৪২৭।
৩৪৭. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০৫।
৩৪৮. তাবারানী; আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০৬।
📄 শত্রুতার কতিপয় ক্ষতিকর দিক
ইমাম গাযালী রহ. লেখেন, ঘৃণা ও শত্রুতার কারণে সাধারণত আট রকম অনিষ্টের সৃষ্টি হয় :
১. হিংসা : অন্তরে এই আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়, যেন তার থেকে নেয়ামত হাতছাড়া হয়ে যায়, সে কোনো নেয়ামত প্রাপ্ত হলে অন্তরে জ্বালা সৃষ্টি হয় এবং তার বিপদে আনন্দ অনুভূত হয়। এটা মুনাফিকদের স্বভাব, যা দীনদারীকে তছনছ করে দেয়।
২. শমাতা : অন্যের বিপদে ভেতরে ভেতরে আনন্দ অনুভূত হওয়া।
৩. সম্পর্কচ্ছেদ : শত্রুতার কারণে কথাবার্তা, যাওয়া-আসা সব বন্ধ হওয়া।
৪. অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান : সাধারণত শত্রুতার কারণে অন্যকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করা হয়।
৫. জিহ্বার লাগামহীনতা : কারও প্রতি শত্রুতা ভাব থাকলে তার সম্পর্কে গিবত বা তোহমত পেশ করা কিংবা তাকে অপবাদ দেওয়া এমনকি তার কোনো ত্রুটি প্রকাশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা যায় না।
৬. ঠাট্টা করা : শত্রুতার কারণে অপরের মানহানি করা হয় এবং তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়।
৭. লড়াই : কখনও কখনও মানুষ শত্রুতার কারণে মারপিট করে।
৮. পূর্ব সম্পর্কে ঘাটতি সৃষ্টি : শত্রুতার কারণে অন্য কিছু হোক না-হোক, কমপক্ষে দুই ব্যক্তির মাঝে পূর্বে যে সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, তাতে ঘাটতি সৃষ্টি হয়। ৩৪৯
টিকাঃ
৩৪৯. ইয়াহ্ইয়াউল উলূম, ৩/৬৪।
ইমাম গাযালী রহ. লেখেন, ঘৃণা ও শত্রুতার কারণে সাধারণত আট রকম অনিষ্টের সৃষ্টি হয় :
১. হিংসা : অন্তরে এই আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়, যেন তার থেকে নেয়ামত হাতছাড়া হয়ে যায়, সে কোনো নেয়ামত প্রাপ্ত হলে অন্তরে জ্বালা সৃষ্টি হয় এবং তার বিপদে আনন্দ অনুভূত হয়। এটা মুনাফিকদের স্বভাব, যা দীনদারীকে তছনছ করে দেয়।
২. শমাতা : অন্যের বিপদে ভেতরে ভেতরে আনন্দ অনুভূত হওয়া।
৩. সম্পর্কচ্ছেদ : শত্রুতার কারণে কথাবার্তা, যাওয়া-আসা সব বন্ধ হওয়া।
৪. অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান : সাধারণত শত্রুতার কারণে অন্যকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করা হয়।
৫. জিহ্বার লাগামহীনতা : কারও প্রতি শত্রুতা ভাব থাকলে তার সম্পর্কে গিবত বা তোহমত পেশ করা কিংবা তাকে অপবাদ দেওয়া এমনকি তার কোনো ত্রুটি প্রকাশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা যায় না।
৬. ঠাট্টা করা : শত্রুতার কারণে অপরের মানহানি করা হয় এবং তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়।
৭. লড়াই : কখনও কখনও মানুষ শত্রুতার কারণে মারপিট করে।
৮. পূর্ব সম্পর্কে ঘাটতি সৃষ্টি : শত্রুতার কারণে অন্য কিছু হোক না-হোক, কমপক্ষে দুই ব্যক্তির মাঝে পূর্বে যে সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, তাতে ঘাটতি সৃষ্টি হয়। ৩৪৯
টিকাঃ
৩৪৯. ইয়াহ্ইয়াউল উলূম, ৩/৬৪।
📄 শত্রুতা সৃষ্টির কারণ
অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বুযুর্গ আলেমদের নিকট শত্রুতা সৃষ্টির প্রথম উৎস হলো রাগ। অর্থাৎ মানুষ কোনো কারণে যদি ক্রোধ অনুযায়ী কাজ করতে না পারে, রাগ মেটাতে না পারে, তখনই এই ক্রোধ বা রাগ শত্রুতার জন্ম দেয়। যেমন, বড় ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাব-বিরুদ্ধ কোনো কাজ প্রকাশ পেলে তার প্রতি অনেক রাগ হয়। কিন্তু বড় হওয়ার কারণে মানুষ তার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারে না। এই রাগই একসময় তার প্রতি শত্রুতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন হলো, শত্রুতা সৃষ্টির এই কারণ তথা রাগকে দমন করা। প্রথমত এই চেষ্টা থাকতে হবে, যেন রাগই না আসে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক সাহাবী উপদেশ কামনা করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই উপদেশ দেন যে, রাগ কোরো না। ৩৫০
টিকাঃ
৩৫০. আবু দাউদ; তিরমিযী, ২/২৮৯।
অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বুযুর্গ আলেমদের নিকট শত্রুতা সৃষ্টির প্রথম উৎস হলো রাগ। অর্থাৎ মানুষ কোনো কারণে যদি ক্রোধ অনুযায়ী কাজ করতে না পারে, রাগ মেটাতে না পারে, তখনই এই ক্রোধ বা রাগ শত্রুতার জন্ম দেয়। যেমন, বড় ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বভাব-বিরুদ্ধ কোনো কাজ প্রকাশ পেলে তার প্রতি অনেক রাগ হয়। কিন্তু বড় হওয়ার কারণে মানুষ তার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারে না। এই রাগই একসময় তার প্রতি শত্রুতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন হলো, শত্রুতা সৃষ্টির এই কারণ তথা রাগকে দমন করা। প্রথমত এই চেষ্টা থাকতে হবে, যেন রাগই না আসে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক সাহাবী উপদেশ কামনা করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই উপদেশ দেন যে, রাগ কোরো না। ৩৫০
টিকাঃ
৩৫০. আবু দাউদ; তিরমিযী, ২/২৮৯।
📄 ক্রোধ জাগ্রত হলে যা করণীয়
রাগ-ক্রোধ মানুষের স্বভাবগত বিষয়, কাজেই কোনো কারণে যদি রাগ চড়েই যায়, তখন শরিয়তের নির্দেশ হলো, রাগ চরিতার্থ করার পরিবর্তে শুরুতেই দমন করার চেষ্টা করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দীর্ঘ হাদিসে এ বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ইরশাদ করেন,
إِنَّ الْغَضَبَ حِمْرَةٌ تَتَوَفَّدُ فِي جَوْفِ ابْنِ آدَمَ تَرَوْا إِلَى حُمْرَةِ عَيْنَيْهِ وَانْتِفَاحِ أَوْدَاجِهِ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ مِن ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَلْزَمْ بِالْأَرْضِ، أَلَا إِنَّ خَيْرَ الرِّجَالِ مَنْ بَطِئَ الْغَضَبُ سَرِيعُ الْفَيْ وَشَرِّ الرِّجَالِ مَنْ كَانَ بَطِيئَ الْفَيْ سَرِيعَ الْغَضَبِ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ سَرِيعَ الْغَضَبِ سَرِيعُ الْفَيْ فَإِنَّهَا بِهَا وَإِذَا كَانَ بَطِيئَ الْغَضَبِ بَطِيئَ الْفَيْ فَإِنَّهَا بِهَا.
রাগ হলো জ্বালাময় অঙ্গার, যা আদম-সন্তানের মাঝে প্রজ্জ্বলিত হয়। ... যদি এমন হয়, যার রাগ দ্রুত আসে এবং দ্রুত দমিত হয়, তা হলে তার এক অবস্থা আরেক অবস্থার বরাবর হবে (অর্থাৎ সে সর্বোত্তম নয়, সর্বনিম্নও নয়)। অনুরূপ ক্রোধ ও রাগ যদি দেরিতে আসে এবং দেরিতে দমিত হয়, তা হলে তার এক অবস্থা আরেক অবস্থার বরাবর হবে। ৩৫১
নিম্নবর্ণিত হাদিসসমূহে রাগ দমনের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে :
১. আউজুবিল্লাহ পড়া। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে রাগান্বিত দেখে বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি ঐ ব্যক্তি বাক্যটি পাঠ করে, তা হলে তার রাগ দূরীভূত হবে। তা হলো, أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ। ৩৫২
২. ওযু করা। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাগ শয়তানের প্রভাব। আর শয়তানকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। অপরদিকে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে হয়। কাজেই রাগান্বিত হলে ওযু করবে। ৩৫৩
৩. বসে যাওয়া বা শুয়ে পড়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কারও রাগ উঠলে তার উচিত দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়া, এবং বসার দরুন রাগ না কমলে শুয়ে পড়া। ৩৫৪
এছাড়াও কারও প্রতি রাগ সৃষ্টি হলে তার সামনে থেকে সরে যাওয়া উত্তম। বিশেষত পরিবারের সদস্য বা স্ত্রীর প্রতি রাগ সৃষ্টি হলে সামনে থেকে সরে কামরায় চলে যাবে কিংবা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবে। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে রাগ বাড়তেই থাকবে।
টিকাঃ
৩৫১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩০১।
৩৫২. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০০।
৩৫৩. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০১।
৩৫৪. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০২।
রাগ-ক্রোধ মানুষের স্বভাবগত বিষয়, কাজেই কোনো কারণে যদি রাগ চড়েই যায়, তখন শরিয়তের নির্দেশ হলো, রাগ চরিতার্থ করার পরিবর্তে শুরুতেই দমন করার চেষ্টা করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দীর্ঘ হাদিসে এ বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ইরশাদ করেন,
إِنَّ الْغَضَبَ حِمْرَةٌ تَتَوَفَّدُ فِي جَوْفِ ابْنِ آدَمَ تَرَوْا إِلَى حُمْرَةِ عَيْنَيْهِ وَانْتِفَاحِ أَوْدَاجِهِ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ مِن ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَلْزَمْ بِالْأَرْضِ، أَلَا إِنَّ خَيْرَ الرِّجَالِ مَنْ بَطِئَ الْغَضَبُ سَرِيعُ الْفَيْ وَشَرِّ الرِّجَالِ مَنْ كَانَ بَطِيئَ الْفَيْ سَرِيعَ الْغَضَبِ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ سَرِيعَ الْغَضَبِ سَرِيعُ الْفَيْ فَإِنَّهَا بِهَا وَإِذَا كَانَ بَطِيئَ الْغَضَبِ بَطِيئَ الْفَيْ فَإِنَّهَا بِهَا.
রাগ হলো জ্বালাময় অঙ্গার, যা আদম-সন্তানের মাঝে প্রজ্জ্বলিত হয়। ... যদি এমন হয়, যার রাগ দ্রুত আসে এবং দ্রুত দমিত হয়, তা হলে তার এক অবস্থা আরেক অবস্থার বরাবর হবে (অর্থাৎ সে সর্বোত্তম নয়, সর্বনিম্নও নয়)। অনুরূপ ক্রোধ ও রাগ যদি দেরিতে আসে এবং দেরিতে দমিত হয়, তা হলে তার এক অবস্থা আরেক অবস্থার বরাবর হবে। ৩৫১
নিম্নবর্ণিত হাদিসসমূহে রাগ দমনের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে :
১. আউজুবিল্লাহ পড়া। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে রাগান্বিত দেখে বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি ঐ ব্যক্তি বাক্যটি পাঠ করে, তা হলে তার রাগ দূরীভূত হবে। তা হলো, أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ। ৩৫২
২. ওযু করা। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাগ শয়তানের প্রভাব। আর শয়তানকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। অপরদিকে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে হয়। কাজেই রাগান্বিত হলে ওযু করবে। ৩৫৩
৩. বসে যাওয়া বা শুয়ে পড়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কারও রাগ উঠলে তার উচিত দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়া, এবং বসার দরুন রাগ না কমলে শুয়ে পড়া। ৩৫৪
এছাড়াও কারও প্রতি রাগ সৃষ্টি হলে তার সামনে থেকে সরে যাওয়া উত্তম। বিশেষত পরিবারের সদস্য বা স্ত্রীর প্রতি রাগ সৃষ্টি হলে সামনে থেকে সরে কামরায় চলে যাবে কিংবা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবে। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে রাগ বাড়তেই থাকবে।
টিকাঃ
৩৫১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৩০১।
৩৫২. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০০।
৩৫৩. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০১।
৩৫৪. আবু দাউদ; তিরমিযী, ৩/৩০২।