📄 মেহমানের সঙ্গে উমর ইবনে আবদুল আযিয রহ.-এর আচরণ
হযরত রাযা ইবনে হাওয়াআ রহ. একবার খলিফায়ে আদল আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ.-এর সন্তান আবদুল আযীয রহ.-কে বলেন, “আমি আপনার পিতার চেয়ে জ্ঞানী কোনো মানুষ দেখিনি। এক রাতে আমি তাঁর মেহমান ছিলাম। আমাদের কথাবার্তা চলাকালীন বাতি নিভে যায়। আমাদের পাশে এক খাদেম শুয়ে ছিল। আমি আরজ করলাম, “খাদেমকে জাগিয়ে দিন। সে বাতি জ্বালিয়ে আনবে।” হযরত বললেন, “না, তাকে জাগানোর দরকার নেই। সে শুয়ে পড়েছে।” আমি বললাম, “তা হলে আমি গিয়ে তা ঠিক করে নিয়ে আসি।” তিনি বললেন, “মেজবানের থেকে খেদমত নেওয়া, মেহমানকে কাজে লাগানো মেহমানদারির পরিপন্থী।” অতঃপর তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাতি ঠিক করেন এবং তাতে তেল ভরে জ্বালিয়ে নিয়ে আসেন। অতঃপর বললেন, “বাতি জ্বালানোর পূর্বেও আমি উমর ইবনে আবদুল আযীয ছিলাম, বাতি জ্বালানোর পরেও আমি উমর ইবনে আবদুল আযীযই আছি।”
বোঝা গেল, মেহমান যে স্তরেরই হোক না কেন, মেজবানের উচিত তাকে কোনো কাজ করতে না দেওয়া এবং সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তার সেবাকার্যের চেষ্টা করা।
ইবনে আওন রহ. বলেন, ‘আমি হযরত হাসান বসরী ও মুহাম্মদ ইবনে সিরীন রহ.-এর মেহমানখানায় থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারা উভয়ে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতেন যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।'
টিকাঃ
৩০৪. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/১০২।