📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়েকেরামের আতিথেয়তা

📄 রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়েকেরামের আতিথেয়তা


আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেহমান-নাওয়াজ ছিলেন। আসহাবে সুফ্ফা তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থায়ী মেহমান ছিলেনই, এমনকি মদীনায় আগত সকল দলই তার দরবারে মেহমান হিসেবে অবস্থান করত। মেহমানের সংখ্যা বেড়ে গেলে তিনি পরিবারকে অবহিত করতেন। যেখান থেকেই খাবারের ব্যবস্থা হতো, মেহমানের সামনে তা পেশ করা হতো। যদি উম্মুল মুমিনিনদের কারও ঘরে কোনো ব্যবস্থা না হতো, তা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রাণোৎসর্গী সাহাবীদের মাঝে মেহমানদের ভাগ করে দিতেন। আর যে সাহাবীই এই সৌভাগ্য লাভ করতেন, তিনি যথাসাধ্য স্বতস্ফূর্তভাবে এবং খুশি মনে মেহমানদারির হক আদায় করতেন।

একবার এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটল। এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে মেহমান হলো। ঘটনাক্রমে উম্মুল মুমিনিনদের কারও ঘরে মেহমানদারির ব্যবস্থা হলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘কে আমার এই মেহমানের আতিথেয়তা করবে?’ হযরত আবু তালহা রা. বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, এই সৌভাগ্য আমি অর্জন করব।' অতঃপর আবু তালহা রা. মেহমানকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রী উম্মে সুলাইম রা.-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘খাবার কী ব্যবস্থা আছে?’ উম্মে সুলাইম রা. বললেন, 'এ পরিমাণ খাবার আছে, যা দিয়ে আমরা দুজন ও বাচ্চারা ক্ষুধা মেটাতে পারি।' হযরত আবু তালহা রা. বললেন, ‘বাচ্চাদের বাহানা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আর দস্তরখান বিছানোর পর বাতি নিভিয়ে দেবে। আমি মেহমানের সঙ্গে বসে যাব এবং এমন অভিনয় করব যেন আমিও সাথে খাচ্ছি, যাতে তিনি ইতস্তত বোধ না করেন।' স্ত্রী উম্মে সুলাইম রা. তা-ই করলেন। নিজেদের সব খাবার তাঁরা মেহমানকে খাইয়ে দিলেন এবং নিজেরা তিনবার রোযা রাখা সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লেন। ভোরে ফজরের নামাযের সময় যখন হযরত আবু তালহা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘আবু তালহা, মেহমানের সঙ্গে তোমরা যে আচরণ করেছ, আল্লাহ তায়ালা তা খুব পছন্দ করেছেন এবং তোমাদের উভয়ের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল করেছেন,

وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ

তাদেরকে তারা নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তাদের অভাব-অনটন থাকে।'

এ জাতীয় ঘটনা এই একটাই নয়, বরং সাহাবায়েকেরামের সাধারণ অভ্যাসই ছিল মেহমানের যথার্থ সম্মান করা। এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সাহাবায়েকেরামের জীবনী গ্রন্থে রয়েছে।

টিকাঃ
৩০৩. সূরা হাশর, আয়াত: ৯; বুখারী, ১/৩০২।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মেহমানের সঙ্গে উমর ইবনে আবদুল আযিয রহ.-এর আচরণ

📄 মেহমানের সঙ্গে উমর ইবনে আবদুল আযিয রহ.-এর আচরণ


হযরত রাযা ইবনে হাওয়াআ রহ. একবার খলিফায়ে আদল আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ.-এর সন্তান আবদুল আযীয রহ.-কে বলেন, “আমি আপনার পিতার চেয়ে জ্ঞানী কোনো মানুষ দেখিনি। এক রাতে আমি তাঁর মেহমান ছিলাম। আমাদের কথাবার্তা চলাকালীন বাতি নিভে যায়। আমাদের পাশে এক খাদেম শুয়ে ছিল। আমি আরজ করলাম, “খাদেমকে জাগিয়ে দিন। সে বাতি জ্বালিয়ে আনবে।” হযরত বললেন, “না, তাকে জাগানোর দরকার নেই। সে শুয়ে পড়েছে।” আমি বললাম, “তা হলে আমি গিয়ে তা ঠিক করে নিয়ে আসি।” তিনি বললেন, “মেজবানের থেকে খেদমত নেওয়া, মেহমানকে কাজে লাগানো মেহমানদারির পরিপন্থী।” অতঃপর তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাতি ঠিক করেন এবং তাতে তেল ভরে জ্বালিয়ে নিয়ে আসেন। অতঃপর বললেন, “বাতি জ্বালানোর পূর্বেও আমি উমর ইবনে আবদুল আযীয ছিলাম, বাতি জ্বালানোর পরেও আমি উমর ইবনে আবদুল আযীযই আছি।”

বোঝা গেল, মেহমান যে স্তরেরই হোক না কেন, মেজবানের উচিত তাকে কোনো কাজ করতে না দেওয়া এবং সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তার সেবাকার্যের চেষ্টা করা।

ইবনে আওন রহ. বলেন, ‘আমি হযরত হাসান বসরী ও মুহাম্মদ ইবনে সিরীন রহ.-এর মেহমানখানায় থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারা উভয়ে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতেন যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।'

টিকাঃ
৩০৪. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/১০২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px