📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত লাইস ইবনে সাআদ রহ.-এর দানশীলতা

📄 হযরত লাইস ইবনে সাআদ রহ.-এর দানশীলতা


হযরত লাইস ইবনে সাআদ রহ. প্রচুর অর্থের মালিক ছিলেন। তার বাৎসরিক আয় ছিল ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা। কিন্তু কখনোই তাঁর উপর যাকাত ওয়াজিব হতো না। তিনি সব সম্পদ গরিব-অসহায়, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। একবার এক মহিলা পেয়ালা নিয়ে তাঁর কাছে এসে আরজ করল, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। তার জন্য মধু প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে এই পেয়ালা মধু দান করুন।' তিনি পূর্ণ এক পাত্র মধু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'সে তো এক পেয়ালা চেয়েছিল, অথচ আপনি তাকে এক পাত্র দিলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'সে চেয়েছে তার প্রয়োজনমতো। আমি দিয়েছি আমার মমতায়।'

টিকাঃ
৩৯৬. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৪৮৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমের রহ.-এর দানশীলতা

📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমের রহ.-এর দানশীলতা


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমের রহ. হযরত খালেদ ইবনে ওকবা রা.-এর একটি বাড়ি ৭০ বা ৮০ দিরহামে ক্রয় করেন। রাতের বেলা তিনি জানতে পারলেন, খালেদের পরিবারের সদস্যরা ক্রন্দন করছে। তিনি নিজ পরিবারের লোকদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তারা কেন কাঁদছে?' পরিবারের লোকেরা উত্তর দিলো, ‘বাড়ি বিক্রির দুঃখে কাঁদছে।' একথা শুনতে হযরত আমের রা. নিজের গোলামকে এই সংবাদ দিয়ে পাঠালেন যে, বাড়ি এবং বাড়ির বাবদ পরিশোধিত মূল্য সবই তোমাদের।'

সাহাবায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দীনের এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় ও উপদেশবাণী। আমাদের নিজেদের মনের খবর নেওয়া দরকার যে, আমাদের মনের সাথে আপন সম্পদের কেমন গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে গেছে! অন্যের উপকারের তুলনায় নিজেদের উপকারের সাধনায় আমরা কী রকম বিভোর হয়ে আছি! আল্লাহর প্রতি লজ্জাবানত হওয়ার দাবি এবং আপন হৃদয়কে আত্মিক ব্যাধি থেকে বাঁচানোর উপায় এটাই যে, আমরা নিজেদের সম্পদকে অন্যের হক নির্ধারণ করব এবং অন্যের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকব।

এই কারণেই হাদিস শরিফে ইরশাদ করা হয়েছে,

نِعْمَ الْمَالُ الصَّالِحُ لِلرَّجُلِ الصَّالِحِ.

হালাল সম্পদ নেককার লোকের জন্য কতই না উত্তম।

টিকাঃ
৩৯৭. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৭/৪৬৮; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৯।
৩৯৮. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৯০; মুসনাদে আহমদ, ৪/১৫৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px